বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
আজ ২৫ জানুয়ারী মধু কবির জন্মতিথি
প্রকাশ: ০৪:৩৬ pm ২৪-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:৩৬ pm ২৪-০১-২০১৭
 
 
 


এইবেলা ডেস্কঃ  যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামের জমিদার রাজনারায়ন দত্ত ও  মাতা জাহ্নবী দেবীর সুযোগ্য সন্তান কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত যার জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি । 

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক বলে খ্যাত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক,   মহাকবি ও নাট্যকার  কবি মাইকেল মধুসূদন ।মধুসূদন দত্ত   কলকাতার  স্কুল ও কলেজ এ ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত  সাগরদাঁড়ি গ্রামের পাঠশালাতেই হয়েছিল তার  হাতে খড়ি !

কলেজ জীবনেই তাঁর প্রতিভার প্রকাশ ঘটেতে থাকে যেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা রপ্ত করেন ! কলেজ এ ভর্তি হওয়ার পরের বছর অর্থাৎ ১৮৩৪ সালে  তিনি কলেজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইংরেজি ‘নাট্য-বিষয়ক প্রস্তাব’ আবৃত্তি করে উপস্থিত সকলের নজর কাড়তে সমর্থ হন।

কলেজ জীবনে সহপাঠীদের মধ্যে মধুসুধন দত্ত ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কারণ কলেজের পরীক্ষায় তিনি বারংবার মেধা তালিকায় বৃত্তি অর্জন করেছেন তাছাড়া সেসময় নারী শিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধ লিখে তিনি স্বর্ণ পদক লাভ করেছেন !

কলেজ জীবনে কবি অনেকগুলি বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকায় নিয়মিত কবিতা লিখতেন এবং তখন থেকেই তাঁর কাব্য চর্চা শুরু হয় ! লেখা লেখির স্বপ্ন মগ্নতার মধ্যেই তিনি বিলেত যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং বিলেত গিয়ে অনেক বিখ্যাত কবি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হতে থাকতেন !

সেই সুবাধে ১৮৪৪ সালে বিশপ্স কলেজে ভর্তি হয়ে ইংরেজি ছাড়াও গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা রপ্ত করেন ! কিন্তু ধর্মান্তরের কারণে মধুসূদন তাঁর পিতা ও অন্যান্য স্বজন পরিজনদের নিকট থেকে পুরাপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত সকল প্রকার আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেন !

অগত্যা ভাগ্যান্বেষণে তিনি মাদ্রাজ ফিরে আসেন এবং শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন ! ১৮৪৮ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতার পাশাপাশি কবি ও সাংবাদিকতায় সুনাম অর্জন করেন !

সেই সময় হিব্রু, ফরাসি, জার্মান, ইটালিয়ান, তামিল ও তেলেগু ভাষা শিক্ষা রপ্ত করার পাশাপাশি 'টিমোথি পেনপোয়েম' ও 'দি ক্যাপটিভ লেডি' নামক দুটি কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় !

বলতে গেলে অনেক ঘটনার প্রেক্ষাপটে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনায় জীবন সঙ্গিনী হিসাবে গ্রহণ করেন রেবেকাকে এবং পরবর্তী সময়ে লেডি হেনরিয়েটাকে দ্বিতীয় জীবন সঙ্গিনী করেন !

১৮৫৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পিতার মৃত্যুসংবাদ শুনে স্ত্রী হেনরিয়েটাকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং শুভাকাঙ্খীদের অনুরোধে তখন থেকে বাংলায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন ! তারপর থেকে বাংলা সাহিত্যে নতুন কিছু করার একটি তীব্র তাগিদ নিজের মধ্যে অনুভব করতে থাকেন !

১৮৫৮ সালে তর্করত্নের রত্নাবলী নামক একটি নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে বাংলায় আদর্শ নাটকের অভাব বুজতে সক্ষম হন এবং বাংলায় নাটক তৈরি করার একটি সঙ্কল্প মনের মধ্যে জাগ্রত হয় !

মনের বাসনা থেকে তিনি কলকাতার বেলগাছিয়া নাট্য দলের সংস্পর্শে আসতে সক্ষম হন এবং সেই সময় থেকে  মধুসুধন দত্তের বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে মহাপদার্পণ ঘটে !

বাংলা সহিত্যে নাট্যকার হিসাবে মহাভারতের দেবযানী চরিত্র অবলম্বনে শর্মিষ্ঠা নাটকটি রচনা করে তিনি নাট্যকার হিসাবে বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেন !

তার পরপরই  শিক্ষিত ইংরেজদের উচ্ছৃঙ্খলতা, মাদকাসক্তি এবং অনাচারকে কটাক্ষ করে রচনা করেন 'একেই কি বলে সভ্যতা' নাটক ! আর দ্বিতীয় নাটকটি রচনা করেন 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' যেখানে তিনি তুলে ধরেন বাংলায় রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের  লাম্পট্যর গোপন কাহিনী !

১৮৬০ সালে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করে পদ্মাবতী নাটকটি রচনা করেন যেখানে বাংলা সাহিত্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্ত করার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন !  বাংলা সাহিত্যে জড়তা ও আড়ষ্টতা দূরীভূত করে নবশৈলীতে রূপান্তরের সবাত্মক চেষ্টা করে তিনি তার সার্থকতা লাভ করেছেন !

অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা বাংলা কাব্য রচনায় তাঁকে  ভীষণভাবে উৎসাহিত করে  এবং এই উৎসাহ তাঁকে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য রচনায় ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত করে !

শুধু তিনি ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনী নিয়ে তিনি তাঁর সর্বশ্রেষ্ট মৌলিক মহাকাব্য 'মেঘনাদ বধ' রচনা করতে সক্ষম হন যা তাঁর লিখিত শ্রেষ্ট কাব্য হিসাবে স্বীকৃত ! এইসময়ে তিনি কৃষ্ণকুমারী ও ব্রজাঙ্গনা নাম বিয়োগান্ত নাটক এবং গীতিকাব্য রচনা করেন !

এতকিছু কাব্যিক তুষ্টির মধ্যেও বিলেতে যাওয়ার চিন্তা তাঁর মাথায় সবসময় ঘুরপাক খেত, তৎপর ১৮৬২ তে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে বিলেত গমন করেন এবং পরের বছর তিনি ভার্সাই নগরীতে চলে যান ! ভার্সাইতে তাঁর জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঘটে - তিনি ইতালীয় কবি পেত্রার্কের অনুকরণে বাংলায় সনেট লিখতে শুরু করেন।

বাংলা ভাষায় এটিও এক বিস্ময়কর নতুন সৃষ্টি আর দ্বিতীয়টি হলো  ভার্সাই নগরীতে থেকেই তিনি  মাতৃভাষাকে ও মাতৃভূমিকে  নবরূপে একান্ত নিজস্বতায় দেখতে ও উপলব্দি করতে পারেন যার প্রত্যক্ষ প্রকাশ ঘটেছে তাঁর ‘বঙ্গভাষা’, ‘কপোতাক্ষ নদ’ ইত্যাদি সনেটে যা চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলী নামে প্রকাশিত হয়।

১৮৬৫ সালে ভার্সাই থেকে পুনর্বার ইংল্যান্ড ফিরে যান এবং ১৮৬৭ সালে ব্যারিস্টারি শেষ করে কলকাতায় ফিরে গিয়ে আইন ব্যবসা শুরু করেন ! তাঁর শরীরে ছিল জমিদারের রক্ত, তাই  অমিতব্যয়িতার কারণে জীবনে বহুবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন কিন্তু  জীবনের এতো উত্থান পতন ও টানাপোড়েনের মধ্যেও কাব্য চর্চা বন্ধ করেননি ! 

১৮৭১ সালের শেষ দিকে হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে  তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ। তার পরপরই তিনি  রচনা করেন মায়াকানন নাটক। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত তাঁর ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ আজও পাঠকদের কাছে সমাদৃত ।

তদানীন্তন সময়ে বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি বলতে মাইকেল মধুসুধন ছিলেন একমাত্র কিন্তু মহাকবির শেষজীবন ছিলো অত্যন্ত বেদনা ও কষ্টের, বলতে গেলে কপর্দ হীন অবস্থায় তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলি কেটেছে !

১৮৭৩ সালে নিঃস্ব অবস্থায় এই মধু কবি তাঁর শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন ! তবে তাঁর দীঘ বর্ণিল জীবনে বাংলা সাহিত্যে অনন্যসাধারণ প্রতিভা দিয়ে যে উৎকর্ষ সাধন করে গেছেন বাংলা সাহিত্যে তিনি মধুকবি হিসাবে মানুষের ঋদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবেন ।

 

এইবেলাডটকম/সন্তোষ/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71