মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯
মঙ্গলবার, ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
ভাইয়ের মঙ্গল কামনার উৎসব ভাইফোঁটা
প্রকাশ: ১০:৫৪ am ০১-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ১০:৫৪ am ০১-১১-২০১৬
 
 
 


বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের কথা কে না জানে! ভাইফোঁটা কি সেই তেরো পার্বণের একটি কিনা, তা জানা নেই। কারণ, ভাইফোঁটা কোনো প্রচলিত পূজা-পার্বণ নয়, বাঙালির ঘরে ‘ভাইফোঁটা’ হচ্ছে সবচেয়ে আনন্দময়, নির্মল, একটি পর্ব।

ভাই-বোনের মধ্যেকার অনিন্দ্যসুন্দর সম্পর্ক ঘিরেই প্রচলিত হয়েছে এই উৎসবটি। ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় ঈশ্বরের কাছে বোনের আকুতি, ভাইয়ের সাফল্য, দীর্ঘায়ু লাভের জন্য বোনের প্রার্থনাই ‘ভাইফোঁটা’ কে মহিমান্বিত করেছে।

প্রথা অনুযায়ী শুক্লাতিথির দ্বিতীয়াতে ভাইফোঁটা উদযাপিত হয়। প্রয়োজনে পরবর্তী সাতদিন ভাইফোঁটা উদযাপণ করা যায়। পঞ্জিকার হিসেব মতে কালীপূজার দুইদিন পর ভাইফোঁটা অনুষ্ঠিত হয়। ভাইফোঁটার ধর্মীয় গুরুত্ব অপেক্ষা সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব অনেক, যেখানে ভাই-বোনের মধ্যেকার প্রীতি ও ভালোবাসার স্বর্গীয় সম্পর্কটিই মুখ্য। ভাই বোন দুজনেই বছরের এই একটি দিনের অপেক্ষায় থাকে।

ভাইফোঁটা এমনই এক উৎসব যা ভাই-বোনের মধ্যেকার ভালোবাসা এবং স্নেহের সম্পর্ক খুব দৃঢ় করে। ভাই-বোনে সারা বছর ঝগড়া-ঝাঁটি থাকলেও, ভাই বোন দুজনেই বছরের এই একটি দিনের অপেক্ষায় থাকে। বোনের কাছ থেকে ভাইফোঁটার নেমন্তন্ন পেলে, দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে, যত প্রয়োজণীয় কাজ ঠেলে সরিয়ে রেখে ভাই আসবেই বোনের কাছ থেকে ফোঁটা নিতে।

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়াতে ভাইফোঁটা্র লগ্ন ঠিক হয়। এই হিসেব ধরেই বোন তার ভাইদের নিমন্ত্রণ জানায় তার বাড়িতে। কাছে-দূরে যেখানেই থাকুক, বোনের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে ভাইয়েরা ছুটে আসে। ঠিক সন্ধ্যাবেলা ভাইকে আদর সমাদর করে আসনে বসতে দেয়া হয়। বোনের হাতে থাকে ঝকঝকে পেতলের রেকাবী। রেকাবী সাজানো হয়, ঘরে তৈরি কাজল, চন্দন বাটা, ধান-দূর্বা, শুকনো পাটপাতা এবং মিষ্টি দিয়ে। পাশেই রাখা হয় ঘিয়ের প্রদীপ। বোন তার কণিঠ আঙুলে কাজল ছুঁইয়ে ভাইয়ের দুই ভুরুতে এঁকে দেয়। এরপর চন্দনের ফোঁটায় কপাল অঙ্কিত করে, কপালের ঠিক মাঝখানে কণিষ্ঠ আঙুলকে ছোঁয় করে প্রচলিত ছড়া কাটে-

ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা

যম দুয়ারে পড়লো কাঁটা

যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা

আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা

আজ থেকে আমার ভাই

যম দুয়ারে তিতা।

ছড়া শেষে বোন ভাইয়ের মাথায় ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে, পাশ থেকে বেজে উঠে উলুধ্বনি আর শংখধ্বনি। শংখধ্বনিতে ভাইয়ের জীবন থেকে সব বাধা-মুসিবত দূর হয়ে যায়, ভাইয়ের মুখে একটু তেতো নিমপাতা বা পাটপাতা তুলে দিতে হয়। ভাইকে তেতো মুখে বেশিক্ষণ থাকতে হয় না, সঙ্গে সঙ্গে থালা ভর্তি মিষ্টি খেতে দেয়া হয়। শুধু কী মিষ্টি? মিষ্টির সঙ্গে ভাইকে বোনের পক্ষ থেকে উপহার দেয়া হয়। অবশ্য কোনো কিছুই একতরফা হয় না। বোন যেমন ভাইকে দেয়, ভাইও বড় বোনকে প্রণাম শেষে বোনের হাতে উপহার তুলে দেয়।

আর বোন যদি বয়সে ছোট হয়, তাহলে বড় ভাইকে প্রণাম করে, ছোট বোনের হাতে উপহার তুলে দিতে ভাইয়ের আনন্দের সীমা থাকে না। এভাবেই ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা ও প্রীতির সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়। এই ছোট্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সকলে মিলে আরো বড় পরিসরের আনন্দ-উৎসবে মিলিত হয়।

বছরের অন্য দিনগুলোতে খাবারের মান যতই সাধারণ হোক না কেন, ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানে ভাইয়ের পছন্দের খাবার রান্না করা হয়। বোনের যতটুকু সাধ্য, ভাইকে তা উজার করে দিয়ে সুখী হয়। বোনের কাছ থেকে এই পরম মমতা মাখানো ভালোবাসা পাওয়ার টানেই ভাইয়েরা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে এই দিনটির জন্য।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71