মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বেলকুচিতে পোকা-মাকড় দমনে পার্চিং ফাঁদ পদ্ধতি  ব্যবহার করছে কৃষকরা 
প্রকাশ: ০৩:২৫ am ১৫-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:২৫ am ১৫-০৩-২০১৭
 
 
 


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় কৃষকদের মাঝে দিন দিন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কীটনাশক ওষুধ ছাড়াই ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা দমনের সহজ আর বিনা খরচের পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার।

জমিতে সার দেয়ার পর থেকেই রোপা-আমন, ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে বাদামী ঘাসফড়ি বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি-মাজরা পোকাসহ নানা ধরনের ক্ষতিকারক পোকার আক্রোমণ দেখা দেয়।

এসব পোকার আক্রোমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা কীটনাশক ওষুধসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। বর্তমানে কৃষকরা ক্ষেতে কীটনাশক ওষুধ পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও পরিবেশ বান্ধব পার্চিং এবং আলোক ফাদ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কৃষকরা বলেন, জেলায় ডেড পার্চিং ও জীবন্ত পার্চিং পদ্ধতির কার্যক্রম চালু হলেও আমাদের এই পদ্ধতি তেমন গ্রহণ করতে হয়না।  

এ দিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে প্রতি বিঘা জমিতে ডেড পার্চিং ও জীবন্ত পার্চিং পদ্ধতির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নিযয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঝে কাজ করছেন।

জেলার মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৬ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমি পার্চিং পদ্ধতির আওতায় এবং আলোক ফাঁদ ৪২৫টি স্থাপন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ বাঁচিয়ে কৃষকরা স্থানীয় পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে পোকা ও পোকার ডিম বিনষ্ট করছে।

বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন. সদর উপজেলার পাচঠাকুরীর বর্গাচাষী আমজাদ হোসেন, রহিম, বক্কারসহ অনেকের নিকট থেকে থেকে জেনেছি, কৃষি অফিস তাদেরকে পার্চিং পদ্ধতি বা ক্ষেতের ভিতর ডাল-পালা, বাশের কুঞ্চি পুতে রেখে এবং সন্ধ্যার দিকে জমিতে আলোক ফাঁদ সম্পর্কে মাঝে মধ্যে উঠান বৈঠকের মাধমে সচেতন করেছেন।

সেই অনুযায়ী আমরা বেলকুচি উপজেলায় এই পদ্ধতি গ্রহণ করে  ক্ষতিকর পোকার আক্রোমণ থেকে জমিকে রক্ষা করে অনেক লাভবান হতে পারব। 

বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের কৃষক চর গোপালপুর, ধুকুরিয়া, চর মেটুয়ানী গ্রামের আনোয়ার হোসেন, বাবুল আক্তার, হাজী জহুরুল, আক্তার হোসেন, সোহরাব আলী, ইয়াকুব আলীর নিকট জানা যায় ক্ষেতের ভিতর বহু পূর্ব থেকেই জেনেছি, ক্ষেতের ভিতর ডাল-পালা পুতে রাখলে সেই ডাল-পালায় পাখি বসে এবং ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে।

এতে কীটনাশক ছাড়াই আমরা ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রোমণ থেকে অতি সহজেই ফসলকে রক্ষা করতে পারি।

এতে আমাদের অতিরিক্ত টাকা পয়সাও ব্যয় হয় না। প্রতি বিঘা জমিতে ৭/৮টি বাঁশের কুঞ্চি বা ডালপালা পুতে পাখি বসার জায়গা করে দিলে পাখিরা ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় খুব সহজেই খেয়ে ফেলে।

ফলে পোকার আক্রোমণ থেকে ক্ষেত রক্ষা পায়। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনের জন্য পরিবেশ বান্ধব পার্চিং পদ্ধতি খুবই কার্যকর হওয়ায় কৃষকদের মাঝে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে কৃষকরা জানান। রাজাপুর, ভাঙ্গাবাড়ী, সদর ও চরাঞ্চলেও এ ধরনের পদ্ধতি শুরু হয়েছে।

 

এইবেলাডটকম/চন্দন/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71