মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৯শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
বেলকুচিতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার
প্রকাশ: ০৫:৪০ pm ০৭-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৫:৪০ pm ০৭-১২-২০১৬
 
 
 


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ এভাবে বেচা-কেনা চলতে থাকলেও রক্ত বিক্রি করে ঋণের কিস্তি দিতে হবে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ব্যবসায়ীদের।

উপজেলর বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এনজিও, সমিতি থেকে টাকা উত্তোলন করে কোন মতে ব্যবসা করে আসছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি দিনের পর দিন আটকে যাচ্ছে। ব্যবসা মন্দার কারণে এই ক্ষতির জের টানতে হতে হচ্ছে বছরভর।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ব্যবসায়ীদের। বেলকুচি উপজেলার ব্যবসায়ীরাদের নিকট থেকে জানা যায়, বর্তমান বাজারে এক হাজার দোকানে দিনে গড়ে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

বাজার চাঙা থাকলে সাত থেকে থেকে আট কোটির ব্যবসা হতো। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, ব্যবসা ঠিক মতো চালাতে না পারলে অচিরেরই অনেক ব্যবসায়ী ঋনখেলাপী হয়ে পলাতক হতে হবে।

উপজেলা মুকুন্দগাঁতী বাজার সহ প্রায় ৩৫ জন ঔষধ ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মাসে তিনি দোকানে যে পরিমান খরচ হয়, তার চেয়ে টাকা আমদানি হয় কম।

প্রতিদিন গড়ে ব্যবসায়ীরা ২০ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকার খুচরা ব্যবসা করতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকার খুচরা বেচা কেনা।

এছাড়া ঔষধ কোম্পানীদের নিকট থেকে বিভিন্ন প্রোডাক্টকৃত ঔষধ অর্ডার দেই, তাদের টাকা পরিশোধ করাটাও আমাদের অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে।

একদিকে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, পরিবারের ভরণ পোষণ কোনোটাই ঠিকমতো সামলাতে পারছি না। কেমন যেন অসহায় বোধ করছি আমরা। কারও কাছেই কিছু বলতে পারছি না, আবার সহ্যও করতে পারছি না।’

গ্রামাঞ্চলের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সারাদিনে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকার বেচা কেনা করে। তাদের এভাবে বেচা কেনা করলেও চলবে কারণ তাদের কৃষি জমি আছে, জমির ধানে ভাত খায়, পুকুরের মাছ চাষ করে, এছাড়া বিভিন্ন সবজি ক্রয় করতে হয় না।

সেই জন্যই তাদের চলে। কিন্তু মুকুন্দগাঁতী বাজারের ব্যবসায়ীদের একটি মাত্র দোকানের উপর নির্ভর করে সব কিছুই কিনে খেতে হয়।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ৪০ জন মুদি দোকানদার নিকট থেকে জানা যায়, মহাজনের নিকট থেকে যে মাল ক্রয় করে আনি তা বেশির ভাগই বিক্রি করতে হয় বাকীতে।

চিনি, ময়দা, ডাল, চাল, বিক্রি করতে হচ্ছে বাকীতে। কিন্তু সময় মতো মহাজনের ক্রয়কৃত মালের পরিশোধ করতে না পারলে, মহাজন মাল দিতে চায় না।

বর্তমানে ব্যবসায়ীর মন্দার কারণে এনজিও, সমিতি ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সিসি লোন করে কোন মতে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছি।

কিস্তির টাকা সময় মতো পরিশোধ ও মাল ক্রয়ের টাকা পরিশোধ করার জন্য অন্যে দাড়প্রান্তে হাত বাড়াতে হচ্ছে। প্রায় শতাধিক চা ব্যবসায়ীরা জানান, আগে দিনে গড়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বেচাকেনা হতো, বর্তমানে ব্যবসা মন্দার কারনে ৫০০ টাকাও বেচা কেনা হয় না।

আমাদের এই চায়ের দোকানের উপর সংসার পরিচালনা, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। ব্যবসা মন্দার কারণে মহাজনের নিকট থেকে বাকীতে চা ক্রয় এবং সাপ্তাহিক এবং প্রতিদিন ঋনের কিস্তি দিয়ে গড়ে বাড়িতে ২শ টাকাও নিয়ে যেতে পারি না। ২শ টাকার মধ্যে আমাদের সংসার পরিচালনা করা খুবই কষ্টদায়ক।

বেলকুচি উপজেলার চরাঞ্চল সহ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তরের কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা বলেন, তাঁরা ৬০ জন প্রতিদিন গড়ে আড়ৎদার সহ খুচরা ব্যবসায়ীরা ৬০-৭০ লাখ টাকার কাঁচামাল আমদানি করতো। মন্দার কারণে এটা এখন ১৫-২০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

আমরা আর কোন ঝুঁকি নিয়ে পণ্য ক্রয় করছি না। আনলেও ট্রাকে যে টাকা ভাড়া দেই, সে টাকাও লাভ করতে পারছি না। অন্যদিকে হোটেল ব্যবসা, মিষ্টি ব্যবসা, বিভিন্ন কনফেকষশনারী দোকান গুলোতে দেখা যায়, তাদের বেচা কেনা এতই কম যা বলা বাহুল্য।

হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছে, প্রতিদিন কম করেও হলেও গড়ে ২০-২৫ কেজি চাল রান্না করে বিক্রি করা হতো। কিন্তু বর্তমানের ১০ কেজি চাল, কম কম করে মাছ, মাংস ক্রয় করি কিন্তু সে টুকুও বেচা কেনা করতে পারছি না। এতে আমরা প্রতিদিন লোকসান আর লোকসান দিয়েই চলছি।

ব্যবসায় লোকসানের কারণে কর্মচারী বিল, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল কোন কিছুই ঠিক মতো দিতে পারছি না। কনফেকশনারী দোকানীরা জানান, আগের তুলনায় মাল কম ক্রয় করি।

সে মাল গুলোও ঠিক মতো বিক্রি হয় না। সরকার অনুমোদনকারী কোম্পানীর নিকট থেকে বিস্কুট, গুড়ো দুধ, পাউরুটি, কেক গুলো নগদ টাকায় ক্রয় করি। আর বিক্রি করতে হয় বাকীতে।

বর্তমানে তাঁতের ব্যবসার মন্দার কারণে তাঁত ব্যবসায়ীরা বাকীতে আমাদের নিকট থেকে মাল ক্রয় করে নিচ্ছে। এ কারনেও আমরা ঠিকমতো বিস্কুট, গুড়ো দুধ, পাউরুটি, বিভিন্ন রকমারী কেক সহ ভিন্ন আইটেমের মাল ক্রয় করতে পারছিনা।

সব মিলিয়ে দেখা যায়, বেলকুচির তাঁত ব্যবসা মন্দা, সে কারনেই সমস্ত ব্যবসা গুলো মন্দা। এক কথায় বলা বাহুল্য ব্যবসায়ীদের কন্ঠে করুন আর্তনাদ আর ব্যবসায়ীদের হাহাকার ।

 

এইবেলাডটকম/চন্দন/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71