শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বেলকুচিতে সবজির বাম্পার ফলন
প্রকাশ: ০৪:৪৩ pm ২৪-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৪:৪৩ pm ২৪-১১-২০১৬
 
 
 


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সবজি চাষ হয়েছে। এবারও ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাউ সহ বিভিন্ন প্রকার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।

এদিকে, এবছর সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা।

চাষকৃত সবজির মধ্যে রয়েছে টমেটো, লাউ, বেগুন, শাষা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, মিষ্টি কুমড়া, আলু, লালশাক, শীম, কাঁচা মরিছ ইত্যাদি। প্রতিবছর চাষকৃত এসব সবজি ট্রাক, পিকআপ-ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে বোঁঝাই করে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আড়ৎ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

এসব সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই। উপজেলার ছোট সগুনা গ্রামের যুবক আলীম মিয়ার সবজি চাষে সাফল্য চমকে দেয়ার মতো।

শুধু লোকমানই নয় বেলকুচির এ রকম কনেক সফল সবজি চাষী রয়েছেন। যাদের সাফল্যগাথা অন্যদেরও উজ্জীবিত করছে।

আলীম মিয়া জানান, তিনি নামমাত্র পড়ালেখা করেছেন। অভাবের তাড়নায় বেশী পড়ালেখা করা সম্ভব হয়নি। এরপর জীবনের তাগিদে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন কৃষি কাজে।

প্রায় এক যুগ ধরে কৃষি কাজ নিয়েই আলম মিয়ার জীবন সংগ্রাম। তিনি কৃষি কাজের এক পর্যায়ে শুরু করেন সবজি চাষ। আর সবজি চাষের বদৌলতে বদলে গেছে তার ভাগ্য।

তার পরিবারের আর্থিক অনটন অনেকটা কেটে গেছে। এদিকে গত বছর শীত মৌসুমে গোবিন্দ সরকার অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শুধু টমেটো চাষ করে প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন।

তাই প্রতিবারের মতো এবছরও তিনি প্রায় দেড় একর জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। আলীম মিয়া জানান,  ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তিনি সবজি বিক্রি শুরু করবেন। তিনি এবছর সবজি বিক্রি করে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ আয় করবেন বলে আশাবাদী।

একই ভাবে সবজি চাষ করে অনেকেই গত বছরের সাফল্যের পর এবছরও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন। জেলার সলঙ্গা থানার লাঙ্গলমোড়া গ্রামের দিবাকর রায় জানান, তিনি এবছর ১ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন। এতে খরছ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

তিনি এপর্যন্ত তার ফলানো লাউ এর অর্ধেক জমি থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। এবছর তিনি শুধু তার ফলনো লাউ বিক্রি করে সর্বনিম্ন ৬০ হাজার টাকা আয় করবেন বলে আশাবাদী।


উল্লাপাড়া উপজেলার গয়হাট্টা গ্রামের আবুল মনসুর ফরহাদ এবছর প্রায় ২ একর জমিতে বাধাকপি, ফুলকপি, মুলা চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভাল।

তার তার ক্ষেতের জমিতে প্রচুর সবজি হয়েছে। তিনি ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এসব সবজি বিক্রি করেবেন।

সবজির ভাল ফলন হওয়ায় তিনি আশাবাদী হলেও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে তার মাঝে বিরাজ উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। তিনি বলেন, এবছর আমাদের সবজির ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি এসব সবজি বিক্রি করতে না পারি তাহলে প্রচুর ক্ষতি হবে।

সরজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ বছর ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ভুতিয়াপাড়া, ছোট সগুনা, বড় সগুনা, ভূতিয়াপাড়া, তালুকাদার মেটুয়ানী, খাসিয়া মেটুয়ানী, কান্দাপাড়া, বানিয়াগাঁতী, চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন স্থানে শত শত একর জমিতে নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে সবজি চাষ।

এক সময় এসব এলাকা আলু চাষের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। কিন্ত তাতে মন্দা দেখা দেওয়ায় এখন তারা ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, মুলা সহ  বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

শুধু ছোট সগুনা প্রামের প্রায় ৫০ জন কৃষক অন্তত ১০০ একর জমিতে সবজি চাষ করেছেন। এছাড়া চাষকৃত সবজির মাঝে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুণ, লালশাক, শষা, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি।

সলঙ্গা থানার চাষকৃত সবজি এসব প্রতিদিন হাটিকুমরুল থেকে ট্রাক বোঁঝাই করে স্থানীয় বিভিন্ন স্পট থেকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয় ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন আড়ৎ এ পাইকারী দরে বিক্রি হয়।

অনেক সময় পাইকারী ব্যবসায়ীরা টাটকা সবজি কিনতে সরাসরি ক্ষেতে চলে যান। স্থানীয় বাজারে এ সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কীটনাশকমুক্ত ও সার কম থাকায় জেলার বাইরের সবজি থেকে স্থানীয় এ সবজি সুস্বাদু।বেলকুচি উপজেলা ও সিরাজগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সিরাজগঞ্জ জেলা সহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় ব্যাপক সবজি চাষ হয়েছে।

এতে কৃষকদেরও আগ্রহের কমতি নেই। আমরা সব সময় মাঠে গিয়ে তদারকি করছি। উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়ন ও সলঙ্গা থানা সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। তিনি জানান, এবছর সিরাজগঞ্জ জেলার সবজি চাষের টার্গেট নেয়া হয়েছে ৩৫৫০ হেক্টর জমিতে।

এ পর্যন্ত চাষ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এবছর লক্ষমাত্রার চেয়েও বেশী সবজি চাষ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

এইবেলাডটকম/চন্দন/গোপাল
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71