রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৮ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গ্রীষ্মকালিন ইরি বেগুনের চাষ; দাম ভাল
প্রকাশ: ০৭:৩৯ pm ২৯-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:৩৯ pm ২৯-০৩-২০১৭
 
 
 


বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় বিস্তীর্ণ মাঠে ইরি বেগুনের ব্যাপক চাষ লক্ষ্য করা গেছে। গ্রীষ্মকালিন সব্জি হিসেরে এ বেগুন ইতোমধ্যে স্থানীয় চাষিদের কাছে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।

খুব অল্পদিনে ছোট ছোট গাছে বেগুন ধরায় চাষিরা একে ইরি জাতের বেগুন বলে নামকরণ করেছেন। বাজারদর ভাল ও বাজারে যথেষ্ঠ চাহিদা থাকায় কৃষক বেশ খুশি। পাশাপাশি প্রতি বছরই গ্রীষ্মের এই বেগুন চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, চৌগাছা উপজেলা সব্জি চাষের জন্য বরাবরই বিখ্যাত। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠের পর মাঠ বছরের বারমাসই কোন না সব্জি চাষ হয়। তবে শীত মৌসুমে সব্জি চাষ সব থেকে বেশি বৃদ্ধি পায়। এক সময় উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে শুধুমাত্র শীত মৌসুমে সবজি চাষ হলেও বর্তমানে তা গ্রীষ্মকালেও ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে।

গত কয়েক বছরে উপজেলার অধিকাংশ কৃষক গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে বেশ মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। গরমের সবজি চাষে পরিশ্রম বেশি খরচও তুলনামূলক বেশি। তারপরও বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমানে চাষিরা গ্রীষ্মের সবজির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। গরমকালের সবজির মধ্যে অন্যতম একটি ফসল হচ্ছে বেগুন। স্থানীয়রা গরমের বেগুন বলে চিনলেও অনেকে ইরি বেগুন বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চৌগাছায় প্রায় সাড়ে ৪শ হেক্টর জমিতে ইরি বেগুনের চাষ হচ্ছে। স্থানীয়রা একে ইরি বেগুন নাম দিলেও এটি মূলত ভারতীয় ও চায়না বেগুন। ভারতীয় জাত হচ্ছে বিএনবি-৪২১, ৪২২ ও ৪৭৮, চায়না-৩ ও দেশীয় জাত হচ্ছে ভাঙ্গুর ও লাফা জাত। উপজেলার সর্বত্রই ইরি বেগুনের ব্যাপক চাষ লক্ষ্য করা গেছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ইরি বেগুনের চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। তাই প্রতি বছরই এলাকাতে বেগুন চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল উপজেলা ইছাপুর মাঠে গেলে দেখা যায়, চাষিরা বেগুন ক্ষেত পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ সময় কথা হয় কৃষক ফয়সাল হোসেনের সাথে। তিনি জানান, ইরি বেগুন অনেকে আইরেট বা গরমের বেগুন বলে চেনেন। এই বেগুন চাষ অনেক কষ্টদায়ক। কষ্ট বা খরচ যদিও বেশি তারপরও বাজারে চাহিদা ভাল, দামও ভাল পাওয়া যায় তাই চাষিরা এই বেগুন চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি অরো জানান, গত মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে সব খরচ-খরচা বাদ দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লাভ হয়। তাই এ বছর দেড় বিঘা জমিতে এই বেগুন চাষ করেছি।

ইতোমধ্যে বেগুন উঠতে শুরু করেছে। বাজারে দামও ভাল তাই এবছরও ভাল লাভ হবে বলে মনে করছি। কৃষক ফয়সাল হোসেন জানান, বাংলা সনের অগ্রহায়ণের শেষ ও পৌষ মাসের প্রথম দিকে জমি তৈরি করে চারা রোপণ করতে হয়। ১ বিঘা জমিতে ৪শ চারা রোপন করতে হয়। ২৪ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইঞ্চি দূরত্ব করে বেড তৈরির পর শুরু হয় পরিচর্যার কাজ।

অসময়ে চাষ বলে পোকা মাকড়, পাখি সব কিছুরই অত্যাচার বেশি, তাই এ সবের কবল থেকে পরিত্রাণ পেতে জমিতে খরচ তুলনামূলক বেশি হয়। ১ বিঘা জমিতে সার, সেচ, কীটনাশকসহ মোট ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দেয় তাহলে ১ বিঘায় ১ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করা যায়। বর্তমানে ১ কেজি বেগুন ১৮ থেকে ২০ টাকা পাইকারি বিক্রি করছেন চাষিরা। মূলত চারা রোপণের ৩ মাস পর থেকেই ফল দিতে শুরু করে। সপ্তাহে দুইদিন গাছ থেকে বেগুন তুলতে হয়। এই মাঠে কর্মরত চাষিরা প্রতিটি কৃষি উপকরণ চাষিদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানান। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম শাহাবুদ্দিন জানান, বেগুন চাষ মূলত শীতকালে হয়। স্থানীয় চাষিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এই বেগুনের চারা সংগ্রহ করে চাষ করছেন। তারা বেশ লাভবানও হচ্ছেন। এই বেগুনের চাষ দিন দিন এ অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলা কৃষি অফিস চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

 

এইবেলাডটকম/মহসিন/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71