রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
রবিবার, ৬ই শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
ছাতকে এসআই-এর বিরুদ্ধে হোটেল শ্রমিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ৩ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ 
প্রকাশ: ০৫:২৫ pm ১৪-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:২৫ pm ১৪-০১-২০১৭
 
 
 


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতকে এক হোটেল শ্রমিককে পিটিয়ে শাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের নাম সাব্বির আহমদ(১৯)। তিনি জেলার দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।’  এ ঘটনায় নিহত হোটেল শ্রমিকের সহোদর ভাই গতকাল শুক্রবার ছাতক থানায় হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

জানা গেছে, ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজারের তিন ভাই রেষ্টুরেন্ট  (হোটেলে)’র শ্রমিক সাব্বির গত বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলের গুদামঘরে অপর হোটেল শ্রমিক কয়েছ মিয়া, একবার আলী ও শুকুর আলীর সাথে  ঘুমোতে যায়।

পরদিন সকালে হোটেলে কাজ করার জন্য আল- আমিন নামের আরেক শ্রমিক তাদেরকে জাগাতে গেলে সাব্বিরের নিথর দেহ গুদামের এক কোণায়  পড়ে  থাকতে দেখে তাকে গতকাল শুক্রবার সকালে কৈতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

সাব্বিরের ডান হাত ভাঙ্গা ও বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন থাকার পরও পুলিশ তা পাশ কাঁটিয়ে  ছাতকের জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে লাশ মর্গে প্রেরণ করেন।’ এ ব্যাপারে শুক্রবার ছাতক থানায় তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ একটি অপমৃত্য মামলা ডায়েরী করেন।’ 

এদিকে হোটেল মালিক বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের সাথে গোপন সমঝোতা  ওই শ্রমিকের পিতার হত্যার অভিযোগকে পাশ কাঁটিয়ে  অপমৃত্য বলে চালিয়ে দোয়ার অপেচেষ্টা করছেন বলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে।’ 

নিহত শ্রমিকের সহোদর বড় ভাই জাকারিয়া  জানান, হোটেলের কোন কাজে ব্যাঘাত ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হওয়ার কারনে আমার  ভাইকে হোটেল মালিক ছুরত মিয়া ও তার অপর হোটেল শ্রমিকরা পিটিয়ে শাসরোধ  করে  হত্যা করছে বলে জানতে পেরেছি,  আমার যে ভাবেই মারা গিয়েছে  তা মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে না আসার আগেই জাউয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ৩ লাখ টাকা হোটেল মালিকের নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে সুরতহাল রিপোর্টে  হ্নদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে বলে নিজের মতামত লিখে দিয়েছেন।

হোটেল মালিকের সাথে সখ্যতার কারনে জাউয়া তদন্ত কেন্দ্রর পুর্বের ইনচার্জ এসআই কামরুল  ইসলাম সিলেট আদালতে কর্মরত থাকা অবমস্থায় সরকারি চাকুরিবিধি লঙ্গন করে  নিজেই গতকাল শুক্রবার  জাউয়ায় এসে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ’র  সাথে ঘুষ বাণিজ্যের সমন্বয় করেন।’

 তিনি আরো বলেন, আমার ভাইয়ের  শুধু মাত্র সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করার দায়িত্ব ওই ইনচার্জের অতচ তিনি রহস্যজনক কারনে নিজের মতামত লিখে দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন  করেছেন সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করতে গিয়ে।’
 
অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট ৬নং আদালতে কর্মরত এসআই কামরুল ইসলাম ছাতকের জাউয়াবাজারে শুক্রবার আসার কথা স্বীকার করলেও তিনি তিন ভাই রেষ্টুরেন্টের মালিককে চিনেন না এমনকি হোটেল শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেন তিনি।’  

কী কারনে সিলেট থেকে শুক্রবার জাউয়া আসা হয়েছিলো জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমার পরিচিতি এক ব্যক্তি অসুস্থ ছিল তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।’

জাউয়া বাজারের তিন ভাই রেষ্টুরেন্টের মালিক সুরীগাঁও’র সালেহ আহমদ শনিবার এসআই কামরুল ইসলামকে চিনেন বলে  জানিয়ে বলেন, আমার সাথে হেইনের ( এসআই কামরুল ইসলাম) সম্পর্ক ভালা থাকায় খবর হুনিয়া তাইন সিলেট থাকি গতকাল শুক্রবার আইছলা (এসেছিলেন)।

তিনি হোটেল শ্রমিক সাব্বিরকে পিটিয়ে শাসরোধ করে হত্যা ও এসআই আফসারুজ্জান ভুইয়াকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ঘটনা ধামাচাঁপা দেয়ার  অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

ছাতকের জাউয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবু আফসার ভুঁইয়ার নিকট হোটেল শ্রমিক নিহত হও্রয়া ও তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে আজ শনিবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সুরতহাল রিপোর্টে চিকিৎসকের মতামতকেই তুলে ধরে প্রাথমিক ভাবে তদন্ত রিপোর্ট প্রেরণ করেছি, ঘুষ  লেন  বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে আরো বলেন, ভাই আমি আর কিছু জানিনা।’

 

এইবেলাডটকম/হাবিব/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71