মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
কখনো ভোলার নয় শিক্ষাবিদ ড. জাহাঙ্গীর
প্রকাশ: ০৪:০৬ pm ১৫-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:০৬ pm ১৫-০৫-২০১৭
 
 
 


আজিম উল্যাহঃ প্রফেসর খোন্দকার জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ’র সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল আজ থেকে দীর্ঘ অর্ধযুগের বেশি সময় আগে ঢাকার একটি মিলনায়তনে, খুব সম্ভবত সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

বয়সে-শিক্ষায় ও অবস্থানে আমার চেয়ে অনেক উচ্চ লেভেলে হওয়ায় পরিচিত হওয়ার জন্য খুব কাঁপা কাঁপা শরীরে ওনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম সেদিন। সালাম দেওয়া মাত্রই হাত বাড়িয়ে দিলেন হ্যান্ডশেক করার জন্য। হ্যান্ডশেক শেষে অনেকের মত আমার ভাগ্যে কোলাকুলি করা না হলেও হাসিমুখে কথা বলেছি দুই চার মিনিট। ওই প্রোগ্রামের বেশ কয়েকজন তরুন-প্রবীনসহ মোটামুটি যাদের সাথে আমার কথা বলা হয়েছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ওনার সাথেই।

কেননা সেদিনের অমায়িক কথা বলার ধরন, নম্র, ভদ্রতার একটা স্ফুলন আমার মাঝে জাগ্রত ছিল। আমি ওনার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে বেশ কিছুক্ষণ সেদিনই মনে মনে ভেবেছি, যদি আপনার মত হতে পারতাম! ওই প্রোগ্রামেই বেশ কয়েকবার খন্ডিত কথা হয়েছে স্যার কিংবা হুজুর সম্বোধনে কথা বলা জনাব জাহাঙ্গীরের সাথে। প্রোগ্রাম শেষে কুমিল্লার পথে যখন পা বাড়াই আসতে আসতে সেদিন ভাবতে থাকি অনেকের সাথেই তো পরিচয় হলো, ক্যামেরা ও দামি মুঠোফোনেও ক্লিক ক্লিক করে ছবি উঠাতে দেখলাম।

ভিজিটিং কার্ড বিনিময় করলাম সবার চেয়ে ভালো লেগেছে জাহাঙ্গীর স্যারকেই। ওনাকে ভালো লাগার ব্যাপার হলো উনি যেমন ছিলেন সাদামাটা স্বভাবের তেমনি  হাসিমুখের আকর্ষিত মানব হওয়ার কারণে। কেউ কেউ ওনাকে হুজুর, কেউ বা স্যার, কেউ বা নাম ধরে ডাকতেন, তবে আমি স্যার বলেই সম্বোধন করতাম। স্যারের অনুমতি নিয়ে বসতাম। স্যার আমাকে খুব ভালবাসতেন।

স্যারের সাথে আমার বেশ কয়েকবারই দেখা হয়েছে। সবর্দা আত্মবিশ্বাস ও সত্যের উপর দাঁড়িয়ে কথা বলতেন। সঠিক দিক নির্দেশনা কিংবা পরামর্শ দিতেন। মানুষের সাথে বেঈমানি যেমন করতেন না, কেউ করলেও পছন্দ করতেন না। মিশতেন সবার সাথে। একবার তিনি নামাজ পড়তে গেলেন, আমি মনে করেছি নামাজ পড়ে বের হয়ে গেছেন, কিন্তু না-তিনি অনেক সময় নিয়ে সেই নামাজটি আদায় করেছিলেন। হুজুর কিংবা স্যার সম্বোধনে ওনাকে ডাকলেও উনি মূলত সাহিত্য-সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ ছিলেন।

প্রচুর পত্রিকা পড়তেন। কলাম নিয়ে আলোচনা করতেন। বাংলাদেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকে ওনার নামে বেশ কয়েকটি কলাম-ফিচার ছাপা হয়েছে। উনি ছিলেন ডক্টরেট করা শিক্ষিত মানুষ। শুদ্ধ জগতের একজন ব্যক্তি। জানি মৃত্যু সত্য ও অবধারিত। তাইতো মৃত্যুর স্বাধ তিনি গ্রহণ করেছেন। তবে ওনার মৃত্যুর পর খুব কষ্ট পেয়েছি। দীর্ঘদিন ওনার সাথে যোগাযোগ ছিল না।

আমার ডায়েরীর একটি পাতায় ওনার দেওয়া একটি নাম্বার লিখা রয়েছে। জানি না নাম্বারটি এখন খোলা কিনা,খোলা হলেও কে চালায়? তবে ওনার বর্নাঢ্য জীবন নিয়ে সেক্রেটারি আবদুর রহমান সালাফীর উদ্যোগগুলো প্রশংসার দাবিদার। দোয়া করি ওনাকে আল্লাহ্‌পাক ওনার নেক আমল গুলো কবুল করে যেন জান্নাত নসীব করেন। আমিন। আর ওনার স্বপ্ন, সাহিত্য লেখাগুলো সংগ্রহ করে একটি ভালো মানের ফাউন্ডেশন কিংবা পরিষদ বা পাঠাগার স্থাপনে পরিবার ও সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

এইবেলাডটকম/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71