eibela24.com
মঙ্গলবার, ১৮, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
বিখ্যাত পাঁচ নারী চিত্রশিল্পী
আপডেট: ০৭:০৪ pm ২৫-০৯-২০১৭
 
 


আত্মপ্রকাশের এক অনন্য মাধ্যম ক্যানভাস, যেখানে শিল্পী তার চিন্তাচেতনা, বাস্তবতা, পারিপার্শ্বিকতা, আবেগ ও প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। আর চিত্রকর্ম? কখনো তা হয়ে ওঠে অন্যায়ের প্রতিবাদরূপে, কখনো ছুঁয়ে যায় নিজের জীবনের অন্তরঙ্গ ঘটনাবলিকে। ফ্রিদা কাহলো এমনি করেই তার জীবন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্যে স্থাপন করেছিলেন যোগসূত্র। শুধু ফ্রিদা কাহলোই নন, ইতিহাসে লেখা রয়েছে এমন অনেক নারী চিত্রশিল্পীর নাম, যারা বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ধারা ও মাধ্যমে তুলে ধরেছেন নিজেকে। ভেঙেছেন সংস্কার, হয়েছেন অনন্য।
 
১। লুইজে এলিজাবেথ ভিজে লোবেহা (ফরাসি, ১৭৫৫-১৮৪২)
আঠারো শতকের শেষের দিকে সম্পূর্ণ স্বশিক্ষিত লুইজে এলিজাবেথ ভিজে লোবেহা পারিপার্শ্বিক যথেষ্ট বাধা সত্ত্বেও শিল্পী হয়ে ওঠেন, যা কিনা ওই সময়ে প্যারিসের যেকোনো নারীর জন্যই কঠিন ছিল। ফরাসি বিপ্লবের আগে ফ্রান্সের শেষ রানী মারি অ্যান্থোয়নেতের সময়কালে ২৮ বছর বয়সী ভিজে লোবেহা ফরাসি একাডেমিতে ভর্তি হন, যেখানে অধ্যয়নরত চার নারীর মধ্যে তিনি অন্যতম। ভিজে লোবেহা বিশেষত তার অভিজাত নারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রতিকৃতি তৈরির জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন, যা তার সমসাময়িকদের কাজের চেয়ে অনেক বেশি প্রাকৃতিক বলে গণ্য হয়েছিল। ফরাসি বিপ্লব চলাকালীন এ চিত্রশিল্পী ভ্রমণ করেছেন ইউরোপের ফ্লোরেন্স, নেপলস, ভিয়েনা, সেন্ট  পিটার্সবার্গ ও বার্লিন।
 
২। মেরি কাস্যাত (আমেরিকান, ১৮৪৪-১৯২৬)
আনুষ্ঠানিকভাবে ইমপ্রেশনিজম বা প্রতীতিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমেরিকান এ চিত্রশিল্পী ছিলেন একজন অমূল্য উপদেষ্টা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংগ্রাহকদের ইউরোপীয় শিল্পের উপস্থাপনে সাহায্য করতেন। কাস্যাত তার কাজে আধুনিক জীবন প্রতিফলিত করায় দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন। তার অঙ্কিত আধুনিক নারী ১৮৭৮ সালের পেইন্টিং ইন দ্য লগে উপস্থাপিত হয়। এটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শিত শিল্পীর প্রথম প্রতীতিবাদী কাজ। অনেক পুরুষ চিত্রশিল্পী থিয়েটারে নারীকে প্রদর্শনীর অবজেক্টে চিত্রিত করেছেন। কিন্তু কাস্যাতের এই নারী প্রতিকৃতি তার চাহনিতে একটি গতিশীল ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে ছবিতে বাইনোকুলারে চোখ রাখা নারীতে তার বিপরীত দিক থেকে লক্ষ করছে কাঁচাপাকা চুলের এক ভদ্রলোক। যেখানে নিরক্ষক ও দ্রষ্টার মধ্য দিয়ে ভাবনাবৃত্তটি সম্পন্ন হয়েছে।
 
৩। জর্জিয়া ও’কিফ (আমেরিকান, ১৮৮৭-১৯৮৬)
আমেরিকান আধুনিকতার একজন বহুপ্রজ ব্যক্তিত্ব। ১৯১৫ সালের দিকে জর্জিয়া ও’কিফ ছিলেন প্রথম আমেরিকান শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম, যিনি বিশুদ্ধ বিমূর্ত কাজ করতেন। ১৯০৫ সালে আর্ট ইনস্টিটিউট অব শিকাগোয় ভর্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পচর্চা শুরু করেন। সেখানে পাঠের সীমাবদ্ধতা বোধ করতে থাকেন। ব্যক্তিগত শৈলী ও নকশায় বিশ্বাসী ও’কিফের রেড কান্না, ওরিয়েন্টাল পপি’স, সামার ডে’স, রেড, হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু জনপ্রিয় পেইন্টিংয়ের মধ্যে অন্যতম।

৪। ফ্রিদা কাহলো (মেক্সিকান, ১৯০৭-১৯৫৪)
আত্মপ্রতিকৃতি ঘরানার চিত্রকর্মের জন্য আলোচিত শিল্পী ফ্রিদা কাহলো। বস্তুত কাহলোর আঁকা ছবিগুলো একযোগে সম্মোহনী ও দ্বন্দ্বমূলক। তাছাড়া তার কাজে ঠাঁই পেয়েছে মেক্সিকান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ১৯৩৮ সালে পরাবাস্তুবাদী আন্দোলনের প্রধান আঁদ্রে ব্রেটন ফিদার কাজকে পরাবাস্তুবাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু ফ্রিদা তা মেনে নেননি, কারণ তার অভিমত ছিল ফ্রিদার চিত্রকর্ম তার বাস্তব জীবনেরই প্রতিফল। ১৯৩৯ সালে দ্য টু ফ্রিদাস বা লাস দোস ফ্রিদাস ছবিটি তিনি সম্পন্ন করেন স্বামী দিয়েগো রিভেরার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর। এ ছবিতে তিনি দুজন ফ্রিদার একটিকে চিরাচরিত সাজে সাজিয়েছেন এক ভাঙা হৃদয়ের নারীতে আর অন্য আধুনিক প্রতিকৃতিকে করে তুলেছেন স্বাধীনতার প্রতীক। ফ্রিদা কাহলোর আত্মপরিচয়ের স্তরবিন্যাস পরিচয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি, যা পরবর্তী শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
 
৫। জুডি শিকাগো (আমেরিকান, ১৯৩৯)
ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য নারীবাদী শিল্পী, লেখক ও শিক্ষাবিদ জুডি শিকাগোর মহিমান্বিত শিল্পকর্ম ‘দ্য ডিনার পার্টি’। এ শিল্পকর্মে রাতের খাবারের অংশ নেয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো কেবল নারীদের জন্যই ছিল। যেখানে ত্রিভুজাকারে ৩৯টি টেবিল রাখা হয়েছে ও সেখানে প্রতিটি ভাগে ১৩ নারীর স্থান বিদ্যমান। নিখুঁত বিশাল এ শিল্পকর্ম তৈরি করতে শিকাগোর সময় লেগেছে পাঁচ বছর। এ শিল্পকর্ম প্রথম প্রদর্শিত হয় ১৯৭৯ সালে। তবে তা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল সে সময়। বর্তমানে লন্ডনের ব্রুকলিন জাদুঘরে শোভা পাচ্ছে নিখুঁত এ শিল্পকর্ম।

 

আরপি