eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
আগামীকাল বসানো হবে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান 
আপডেট: ০৮:০১ pm ২৯-০৯-২০১৭
 
 


অনেক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের প্রচেষ্টায় শনিবার বসছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ দিন সকালে সরকারের পক্ষে এই ঐতিহাসিক দৃশ্যের সাক্ষী হবেন। 


জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে বসানো হবে স্প্যানটি। যার ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। এই স্প্যানটিই ১৬ কোটি মানুষের সামনে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর প্রথম দৃশ্যমান অংশ। 

সেতু প্রকল্প’ পরিচালক বলেন, ‘মূল সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর বসবে পদ্মা সেতুর স্প্যান। যার ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে পদ্মার পাড়ে। প্রমত্তা পদ্মার প্রবল স্রোত ও নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোতকে উপেক্ষা করে চলছে এ নির্মাণযজ্ঞ। এসব প্রতিকূলতা জয় করে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে পদ্মার দুই পাড়ে। জাজিরা অংশে সব পিলারের পাইলিংয়ের মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।


প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ‘প্রথম স্প্যানটি অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর বসানো হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তার দেওয়া সময় অনুযায়ী তার উপস্থিতিতে চূড়ান্তভাবে স্প্যান বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। পদ্মা সেতুর রঙ হবে সোনালি। তবে রাতে সেতুটিতে জ্বলবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ বাতি। সেভাবেই সেট করা হবে বাতি। পদ্মা নদীর পানির স্তর থেকে ৫০ ফুট উঁচুতে বসবে প্রতিটি স্প্যান। কাজের গতি বাড়াতে সিঙ্গাপুর থেকে আরও ২টি হাইড্রোলিক হ্যামার আনা হয়েছে। এসেছেন নতুন পারদর্শী শ্রমিক ও নতুন দক্ষ প্রকৌশলী। মূল নদীর মধ্যে ১৫০ মিটার পর পর ৪২টি পিলারের প্রতিটি পিলারে ৬টি করে মোট ২৫২টি পাইল থাকছে। এর মধ্যে ২৮টি পাইলের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ৫৮টি পাইলের কাজ শেষ হয়েছে ৫০ ভাগ। এই মুহূর্তে ৫টি স্প্যান বসানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা স্প্যানের লোড টেস্ট করা হয়েছে।   

সরকারের নীতি নির্ধারকরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকারের লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া। পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমন কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মা অন্যতম। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু প্রকল্প অংশে পদ্মা আরও তীব্র খরস্রোতা। ৩০ জুনের মধ্যে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে সম্প্রতি বন্যা, তীব্র স্রোত আর কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে তা হয়নি। প্রবল বৃষ্টি, নদীতে পানির প্রবল স্রোতকে সামাল দিয়ে চালাতে হয়েছে কাজ। এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি এ সেতুর নির্মাণ কাজ। 

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, পদ্মার অন্যপ্রান্ত জাজিরা পয়েন্টে চলছে পাইল ড্রাইভ, মাওয়া পারে ট্রাস ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে স্টিলের কাঠামো ও স্প্যান জোড়া দেওয়ার কাজ। দেখা গেছে, মাওয়া চৌরাস্তার দক্ষিণে বিস্তৃত প্রকল্প এলাকার ট্রান্স ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে প্রায় তিন হাজার টনের (২ হাজার ৯শ টন) একেকটি স্প্যান তৈরির কাজ।

সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে এখন কাজ চলছে ১৯টির। পিলার বসবে পাইলের ওপর। পদ্মা সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। এসব পিলারের ওপরই বসানো হবে এক একটি স্প্যান। স্প্যানের ওপর ঢালাই দিয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, জাজিরা প্রান্তে ৩৭ নম্বর থেকে শুরু হবে স্প্যান বসানোর কাজ। এরপর একে একে পাতা হবে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত। সেখানে এখন চলছে কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ। নির্মাণাধীন পিলারগুলোর ওপর প্রথম দফায় কমপক্ষে পাঁচটি স্প্যান (স্টিলের কাঠামো) বসানোর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে কাজের গতি বাড়াতে অতিরিক্ত আরও দু’টি হাইড্রোলিক হ্যামারসহ অতিরিক্ত জনবল প্রকৌশলী আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে এ সেতুর কাজ শেষ করার। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। একেকটি হ্যামারের ক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ কিলোজুল।

 

আরপি