eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
লীলা নাগ এর জন্মদিন আজ
আপডেট: ০৪:৫৫ pm ২১-১০-২০১৭
 
 


আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, সাংবাদিক, জনহিতৈষী এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তি লীলা নাগ এর জন্মদিন। ১৯০০ সালের এই দিনে তিনি আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 

লীলা নাগের পড়াশুনার জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কোলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা নাগের মেধা ও আকাঙ্খা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ড. হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন। 

লীলা নাগ সম্পর্কে সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন তার স্মৃতিকথা নামক প্রবন্ধ সংকলনে লেখেন, এর মত সমাজ-সেবিকা ও মর্যাদাময়ী নারী আর দেখি নাই। এর থিওরী হলো, নারীদেরও উপার্জনশীলা হতে হবে, নইলে কখনও তারা পুরুষের কাছে মর্যাদা পাবে না। তাই তিনি মেয়েদের রুমাল, টেবিলক্লথ প্রভৃতির উপর সুন্দর নকশা এঁকে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই সব বিক্রি করে তিনি মেয়েদের একটা উপার্জনের পন্থা উন্মুক্ত করে দেন।" 

বাঙালি নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে লীলা নাগ বিশেষ ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল এবং শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় (তৎকালীন নারীশিক্ষা মন্দির) প্রতিষ্ঠা করেন। বিয়ের পর তার নাম হয় শ্রীমতি লীলাবতী রায়। ভারত বিভাগের পর লীলা নাগ কোলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। 

লীলা নাগ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন । এজন্য কয়েকবার তাকে কারা বরণ করতে হয়। তিনি মহিলা সমাজে মুখপাত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। ১৯৭০ সালের ১১জুন এই মহিয়সী নারী ভারতে মৃত্যুবরণ করেন।

আরডি/