eibela24.com
মঙ্গলবার, ২৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
শাহজাদপুরে হুমকির মুখে সাড়ে ৪ লাখ গবাদি প্রাণি
আপডেট: ০৫:১০ pm ২৩-১০-২০১৭
 
 


সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে একজন ভেটেরিনারী সার্জন ও দু‘জন মাঠকর্মীর পদ শুন্য থাকায় এ উপজেলার সাড়ে ৪ লাখ গবাদি প্রাণির চিকিৎসা হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে,দু‘মাস ধরে ২ জন মাঠকর্মীর পদ শুন্য। এ কারণে দু‘মাস ধরে গবাদি প্রাণির রোগ প্রতিরোধের জন্য ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বদলি জনিত কারণে পদ ৩টি শুন্য থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে শাহজাদপুর উপজেলার গো-খামারীরা তাদের গো-সম্পদের সুচিকিৎসা ও ভ্যাকসিনেশন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। এদিকে চিকিৎসকের অভাবে ৮০ ভাগ গবাদি প্রাণির ভুল চিকিৎসা চলছে হাতুড়ে ও ভুয়া ডাক্তার দিয়ে। এতে গবাদি প্রাণির দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রজনন ক্ষমতা ভয়াবহ আকারে হ্রাস পেয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ৩৪৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। এর লোক সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। এ উপজেলাটি বৃটিশ আমল থেকেই গবাদিপশু সমৃদ্ধ দুগ্ধ অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। এখানকার গ্রামের ৯৫ ভাগ কৃষকই দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য গবাদি প্রাণি লালন পালন করে থাকে। তাই বড়াল ও করতোয়া নদীর অববাহিকায় বিশাল এলাকা জুড়ে গো-চারণ ভূমি গড়ে উঠেছে। 

গবাদিপশুর কারণে এ অঞ্চলে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করা হয়। শীত মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমী এবং স্থায়ী ঘাস উৎপাদিত হয়। গো-চারণ ভূমিতে এ এলাকার গবাদি প্রাণি প্রায় ছয় মাস মাঠে চড়ে বেড়িয়ে কাঁচা ঘাস খায়। এ সময় দুধের উৎপাদন ২/৩ গুণ বৃদ্ধি পায়। দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে এ উপজেলায় অনেক বেশী দুধ উৎপাদন হয় বলে এ উপজেলাকে দুধের রাজধানি বলা হয়। এখানকার উৎপাদিত দুধ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম,সিলেট সহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। এ এলাকাটি দুধের প্রাচুর্যের কারণে এখানে মিল্ক ভিটা, প্রাণ, ব্র্যাক আড়ং, আকিজ, ইগলু, আফতাব সহ বিভিন্ন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। 

উপজেলার রেশমবাড়ী গ্রামের দুগ্ধ খামারী মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী, শাকতোলা গ্রামের আল মাহমুদ সহ বেশ কিছু খামারী জানান, এ উপজেলার মানুষ গো-খামারের ওপর নির্ভরশীল। খামারিরা তাদের উৎপাদিত দুধ মিল্কভিটা সহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোতে দিয়ে থাকে। মিল্কভিটা মাঝে মধ্যে তাদের কাছ থেকে দুধ না কেনায় তারা দুধ নিয়ে বিপাকেও পরে থাকেন। তাই লোকসান ঠেকাতে অনেকেই গাভী বিক্রি করে খৈল-ভুষির দোকানের বাকী পরিশোধ করছেন। অনেকে আবার গরু-বাছুর বিক্রি করে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

তারা আরো জানান, এর উপর চিকিৎসকের অভাবে প্রাণি সম্পদ বিভাগ বিপুল সংখ্যক গবাদি প্রাণিকে সুচিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে ছুটছেন। তাদের অপচিকিৎসায় গো-সম্পদের আরো চরম ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। ফলে খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস ছামাদ জানান, এ উপজেলায় শুধু প্রাণি সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় আটষট্টি হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। দুধের ভাল বাজার না পাওয়ায় দুগ্ধ খামারীরা গাভী বিক্রি করে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে। একজন মাত্র ভেটেরিনারী সার্জন দিয়ে পুরো উপজেলা চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ১ জন করে প্রাণি চিকিৎসক প্রয়োজন। সেখানে একজন ভ্যাটেরিনারি চিকিৎসক দিয়ে গোটা উপজেলা চলে। ১ মাস ধরে সে পদটিও শুন্য থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, এ উপজেলাটি অ্যানথ্রাক্স প্রবণ এলাকা। কয়েক বছরে এ রোগে বেশ কিছু গবাদী প্রাণি ও মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তাই এ রোগ প্রতিরোধে সঠিক সময়ে গবাদি প্রাণির ভ্যাকসিন দেয়া না হলে এ রোগ আবারও মারাত্বক আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দ্রুত পদ ২টি পূরণে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আকতারুজ্জামান ভুইয়া জানান, শাহজাদপুর গবাদি প্রাণির জন্য একটি গুরুত্বপুর্ণ উপজেলা। বর্তমানে ভেটেরিনারী সার্জন বদলি জনিত কারণে পদটি শুন্য  আছে। ভেটেরিনারি সার্জন সহ ৩ জন মাঠকর্মীর চাহিদা দিয়ে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। এখনও কোন ব্যাবস্থা না নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধাণ হবে।

সি/এসএম