eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
ভোলায় শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতন
আপডেট: ০৮:১১ pm ১২-১১-২০১৭
 
 


নয় বছর বয়সী শিশুটির নাম সুরমা। অভাবের কারণে মা এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন তাকে। এতটুকুন মেয়ের কাজের বিনিময়ে ভালোবাসার বদলে কপালে জুটেছে নির্মম নির্যাতন। তার সারা শরীরে এখন গরম খুন্তির ছ্যাঁকার ক্ষত। কোনো কোনো ক্ষত দগদগে ঘা হয়ে গেছে। ভোলা সদর হাসপাতালে এখন চিকিৎসা চলছে তার।

অভিযোগ উঠেছে, ভোলার মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়ার ভকেশনাল স্কুলের সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানের বাড়িতে কাজ করত সুরমা। সেখানেই সাইদুরের স্ত্রী মিনারা বেগম সুরমার ওপর এই নির্মম নির্যাতন চালান। এ ঘটনায় সুরমার মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে স্কুলশিক্ষক দম্পতির নামে মনপুরা থানায় মামলা করেছেন। 

সুরমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাদের বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেয়ামুল্যাহ গ্রামে। সে মুনাফ আলী বাড়ির মৃত ফজলুল রহমানের মেয়ে। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর তার মা আনোয়ারা বেগম আবারও বিয়ে করেন। সে সময় মাত্র ৮০০ টাকা বেতনে সুরমাকে মনপুরা উপজেলার ওই শিক্ষকের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে পাঠান। শর্ত ছিল, সুরমাকে ওই শিক্ষক তিনবেলা খাবার ও পোশাক দেবেন। সঙ্গে তাকে পড়াশোনাও করাবেন।

সুরমার মা আনোয়ারা বলেন, পাশের বাড়ির হাজি দিলাওয়ার হোসেন তাঁর মেয়ে মিনারার বাড়িতে কাজ করার কথা বলে সুরমাকে নিয়ে যান। সুরমাকে নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর দেখা হয়নি।

সুরমা জানায়, কারণে-অকারণে মিনারা তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিতেন। সে যন্ত্রণায় চিৎকার করত, কিন্তু তাকে কোনো ওষুধ দেওয়া হতো না। এ কারণে ছ্যাঁকার ক্ষতগুলো এখন ঘা হয়ে গেছে।

আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, নির্যাতনে সুরমার অবস্থা খারাপ হলে মিনারার বাবা-ভাই গোপনে মনপুরা থেকে তাকে তজুমদ্দিন নিয়ে আসেন। সেখানে গোপনে চিকিৎসা করেন। খবরটি জানতে পেরে তিনি মিনারার বাবা দিলাওয়ারের বাড়িতে যান। সেখানে সুরমার মর্মান্তিক অবস্থা দেখে অচেতন হয়ে পরেন। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানাতে তাঁকে নিষেধ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় সুরমাকে গত বৃহস্পতিবার প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ও পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভোলা সদর হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পুষ্টিহীনতায় ভোগা ছোট্ট সুরমার সারা শরীরে জখমের চিহ্ন। কোথাও কোথাও দগদগে ঘা। চোখ দুটি ফুলে উঠেছে তার। থেকে থেকে কেবল কাঁদছে।

ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তৈয়বুর রহমান বলেন, ভর্তির সময় সুরমার অবস্থা গুরুতর ছিল। শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শরীরে অনেক ক্ষত। চিকিৎসা চলছে, তবে এখনো বিপদমুক্ত নয়।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খান বলেন, সুরমার মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে স্কুলশিক্ষক সাইদুর ও তাঁর স্ত্রী মিনারার নামে মামলা করেছেন। গতকাল থেকে তাঁরা দুজনই পলাতক।


ভিএস