eibela24.com
শনিবার, ১৭, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
রাজাপুর মুক্ত দিবস আজ 
আপডেট: ০২:২৮ pm ২৩-১১-২০১৭
 
 


১৯৭১ সনের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমন চালায়, শুরু হয় গুলি পাল্টা গুলি। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাতভর যুদ্ধের পরে হানাদার বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ২৩ নভেম্বর ভোর রাত ৪ টার দিকে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। 

১৯৭১ সনের এ দিনে বরিশাল বিভাগের ৯নং সেক্টরের মধ্যে ঝালকাঠির রাজাপুর থানা সর্বপ্রথম পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয়। ৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় রাজাপুরে। শত্রু মুক্ত হয় রাজাপুর থানা, বন্ধ হয় গণহত্যা। 

রাজাপুর থানা মুক্ত হওয়ার ১৫ দিন পূর্বে উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ও বাবুল হোসেন পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীদ হন।এ দিনের যুদ্ধে শহীদ হন আবদুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক এবং গুরুতর আহত হন মোঃ হোসেন আলীসহ কমপক্ষে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা। 

সে দিনের এ যুদ্ধে ৩’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ৯নং সেক্টরের অন্যতম সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুঃ শাহজাহান ওমর। এ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন মুঃ শাহজাহান ওমর’র পায়ের গোড়ালি গুলিবিদ্ধ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার এ বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহজাহান ওমর কে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। 

৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজাপুর থানা শত্রু মুক্ত হওয়ায় ১৯৯৫ সালে রাজাপুরে নির্মাণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা মিলন কেন্দ্র। এছাড়া শহীদের স্মরণে তাদের নামানুসারে রাজাপুরে কয়েকটি সড়কের নামকরণ করা হয়। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও রাজাপুর উপজেলায় যুদ্ধকালিন স্মৃতি বিজড়িত ২টি বধ্যভূমি ও ৩টি গণকবরসহ ৭টি স্থান আজও অবহেলিত ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। উদ্যোগের অভাবে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে এসব স্থানগুলো। 

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার থানা ঘাটের বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রায় ৭’শ থেকে ৮’শ নিরীহ বাঙালীকে হত্যা করা হয়। সাবসেক্টর কমান্ডার ক্যাপটেন শাহজাহান ওমর এর বাড়ীর সামনের বধ্যভূমিতে আরো প্রায় ২’শ লোককে হত্যা করা হয়। 

এছাড়াও শুক্তাগড় ইউনিয়নের কাঠিপাড়ায় ২০১০ সালে দুইটি গণকবর পাওয়া যায়। যাহার একটি থেকে অনেক মানুষের হাড্ডি উদ্ধার হয় এবং সাতুরিয়ার তারাবুনিয়া গ্রামে একটি (অখননকৃত) গণকবরের সন্ধান দেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। কাঠিপাড়ার শহীদ পরিবারগুলো আজও স্বীকৃতি পায়নি। উপজেলার প্রবেশ মুখে বাঘড়ী বাজারের খাল সংলগ্ন থানা ঘাটের সর্ববৃহৎ বধ্যভূমিটি ২০০৯ সালে তৎকালীন ইউএনও মোঃ জসীম উদ্দিনের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় একটি স্মৃতিস্তম্ভের কাজ শুরু হয় মাত্র দুই টন টি.আর এর অর্থ ও ব্যক্তিগত সাহায্যের অনুদানে। পরে সামান্য কাজ করেই অর্থের অভাবে বন্ধ গেলেও বর্তমান ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কাজ শুরু করলেও এখন তা মধ্য পর্যায়ে, সম্পন্ন হয়নি। 

উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ শত মুক্তিযোদ্ধার প্রাণের দাবী অচিরেই যাতে কালের স্বাক্ষী বধ্যভূমি ও গণকবরের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়। রাজাপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিবসটি পালনের লক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে।

এ/আরডি/