eibela24.com
মঙ্গলবার, ২০, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
নারী নেতৃত্বের অগ্রদূত কমরেড শান্তি দত্ত
আপডেট: ০৩:২১ pm ০১-১২-২০১৭
 
 


হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার মান্দারকান্দি গ্রাম। বৃটিশ আমলে এই মান্দারকান্দি গ্রামে ছিল কমিউনিষ্ট পার্টির গোপন ঘাটি। ১৯২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর শান্তি দত্ত মান্দারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা পোষ্টমাষ্টার কুমারানন্দ ভট্রাচার্য। শান্তি লেখাপড়া করেন সিলেট কিশোরীমোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। শান্তি দত্তের বড় ভাই অপুর্ব কুমার ভট্রাচার্য ছিলেন মান্দারকান্দি গ্রামের কমিউনিষ্ট পার্টির সেক্রেটারী। যুগান্তর, অনুশীলন পার্ট, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকান্ড মান্দারকান্দি গ্রাম থেকে পরিচালনা হতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। শান্তি দত্ত মান্দারকান্দি গ্রামে গঠন করেন বিশাল কিশোর বাহিনী। যুদ্ধের প্রশিক্ষন সেখান থেকে দেয়া হতো। গননাট্য সংঘের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন শান্তি।

১৯৩৯ সালে বৃটিশ সরকার শান্তি দত্ত ও তার ছোট বোন লক্ষীকে গ্রেফতার করে সিলেট জেলে বন্দী করে রাখেন। দুই বছর কারাভোগের পর শিলচর গিয়ে কমিউনিষ্ট পার্টির রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৯ সালে কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্যপদ দেয়া হয়। ১৯৫০ সালে শান্তি দত্ত বিয়ে করেন লাখাই থানার স্বজনগ্রামের রায় বাহাদুর এডভোকেট সতীশ চন্দ্র দত্তের ছেলে কমিউনষ্ট নেতা কমরেড বারীন দত্তকে। ১৯৫২ সালে স্বামীর সাথে সিলেট থেকে ঢাকায় চলে যান। কমিউনিষ্ট পার্টির রাজনীতিতে স্বামী স্ত্রী দুজন সক্রিয় হন। ঢাকার আসার পর পাকিস্তান দুজনের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেন। ঢাকা শহরে শান্তি দত্তকে থাকতে হয়েছে অনেক কষ্টে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেন।স্বাধীনতার পর তিনি মগবাজারে বস্তিবাসী ছেলেমেয়েদের জন্য একটি বিদ্যালয় খুলেন। মহিলা পরিষদের সদস্য হন। ইস্কাটনে একটি বাড়ী বঙ্গবন্ধু শান্তি দত্তকে দান করেন। সাংবাদিক লায়লা সামাদের সহযোগিতায় সেখানে একটি বিদ্যালয় খুলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শান্তি দত্ত আত্নগোপন করেন। সব সময় শ্রমজীবি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতেন। ১৯৯৬ সালে তার একমাত্র পুত্র কিশোর কুমার দত্ত কলকাতায় থাকায় সেখানে চলে যান।

নি এম/