eibela24.com
মঙ্গলবার, ২৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
সংগ্রামী মা গৌরী রানীর বিজয়ের গল্প
আপডেট: ০৭:৫৫ pm ০১-০১-২০১৮
 
 


সকল বাবা মায়েরই স্বপ্ন থাকে তাদের ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে অনেক ভালো কিছু করবে, তাদের জীবনে সফলকাম হবে। স্বপ্ন দেখতে যতই সুন্দর, বাস্তবতা ঠিক ততই কঠিন। সেই বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে, অভাব আর অনটনে দিন কাটানো কিছু মা-বাবার দেখা এই সুন্দর স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে যায়।

ছেলেমেয়েকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার সেই স্বপ্নগুলো এদেশের বেশিরভাগ বাবা-মায়েরই অপূর্ণ থেকে যায়। দারিদ্র্য আর অভাবের কাছে তাদেরকে পরাজিত হতে হয়। তবে, এই দারিদ্রতা রুখতে পারেনি গৌরী রানী দাসকে। তিনি হার মেনে নেয়নি। অল্প বয়সে গৌরী রানী দাস আর তাঁর স্বামীর বিয়ে হয়ে যায়। জীবন সংগ্রামের হাল ধরতে যেয়ে পড়াশোনা করা আর হয়ে ওঠেনা তাদের। তখনই গৌরী রানী প্রতিজ্ঞা করেন যে তাদের সন্তানরা পড়াশোনার আলো ছড়াবে সবখানে। তার এই প্রতিজ্ঞা পূরণের সঙ্গী হন স্বামীও।

স্বপ্ন পূরণের তাগিদে দুজন দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যান। বাড়ির কাছে আকিজ জুটমিলে কাজ করেন গৌরী রানী। প্রতিদিন ১৬০ টাকা কামাতেন, যার পুরোটুকুই ব্যয় করতেন সন্তানদের জন্য। তাঁর স্বামী ঢাকা থেকে পাঠাতেন ২০০ টাকা।

এমন অল্প টাকায় পুরো সংসার চালাতেন গৌরী রানী দাস। মেধাবী তিন ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে তাকে আর তার স্বামীকে করতে হয় অনেক কষ্ট। কিন্তু এতকিছুর পরেও তার ছেলেরা আজ সফল তাদের শিক্ষাঙ্গনে। বড় ছেলে এসএসসি ও এইচএসসি তে জিপিএ-৫ নিয়ে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্সে অনার্স ৪র্থ বর্ষে পড়ছে। মেঝ ছেলেও বড়ছেলের মত রেজাল্ট নিয়ে এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্সে অনার্স ২য় বর্ষে পড়ছে। আর ছোটছেলে স্থানীয় কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীতে পড়ছে। অসাধারণ এই কীর্তির কারণে তিনি জিতে নেন ক্রেস্ট ও পুরো গ্রামের অভিনন্দন।

কেশবপুর শহর থেকে কিছু দূরে সুফলাকাঠি ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামে তিনি থাকেন তাঁর পরিবার নিয়ে। এমন অসাধারণ অর্জনের জন্য সম্প্রতি সুফিলকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এই সফল মা কে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের হাত থেকে ক্রেস্ট নেন গৌরী রানী দাস।

এসকে