eibela24.com
মঙ্গলবার, ১৩, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
উৎসবমুখর পরিবেশে বই উৎসব
আপডেট: ০৮:০৮ pm ০১-০১-২০১৮
 
 


সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পৃথকভাবে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। 

সকাল ১০টার পর আজিমপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। উৎসবে অংশ নেয় রাজধানী বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থী। প্রায় একই সময়ে ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত বই উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

২০১৮ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৫০৮টি উপজেলার সকল প্রাথমিক স্তরের দুই কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৩ জন শিক্ষার্থীকে বই বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকস্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৮০টি, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৮২৪টি আমার বই এবং ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৮২৪টি অনুশীলন খাতা বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া এ বছরই প্রথম ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদরী) শিশুদের জন্য নিজস্ব বর্ণমালা সংবলিত মাতৃভাষায় পাঠ্য বই প্রণয়নের বিষয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ৩৪ হাজার ৬৪২টি আমার বই, ৩৪ হাজার ৬৪২টি অনুশীলন খাতা এবং প্রথম শ্রেণির ৭৯ হাজার ৯৯২টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। এই পাঠ্যপুস্তক ২৪টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। জেলাগুলো হলো- বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, রাজশাহী, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনী, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী এবং প্রথম শ্রেণির মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি পাঠ্যপুস্তক, পঠন-পাঠন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উৎসবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সব জায়গায় বই চলে গেছে। সব শিক্ষার্থী বই পাচ্ছে। বইয়ে ছোটখাটো ত্রুটি থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আসিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত বই উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, উম্মে রাজিয়া কাজল, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১০ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে এসব পাঠ্যবই তুলে দেন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ ডিসেম্বর এই বই বিতরণ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

প্রায় ছয় হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এ বই উৎসবে অংশগ্রহণ করে। এ সময় অভিভাবক, শিক্ষকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সুবিধা নেই সেব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে এবং দেশের যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছাবে না সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুবিধায় এ ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা লাভের অংশ হিসেবে দক্ষ ও যোগ্যভাবে নিজেদর গড়ে তুলতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সকল শিক্ষা পদ্ধতির মেরুদন্ড। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সকল শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টা নয় দেশের সকলকে এর উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক এগিয়ে এলে এ দেশের কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ থাকবে না। কোন শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকবে না।

পরে বেলুন, ফেস্টুন ও কবুতর উড়িয়ে এ বই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বই উৎসব শেষ হয়।

এসকে