eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
হঠাৎ ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে কী করবেন
আপডেট: ০৬:৪৯ pm ১০-০১-২০১৮
 
 


হঠাৎ করে ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাওয়াটা যে কোনো গৃহিণীর জন্যই বিপর্যয়ের একটি মুহূর্ত। কারণ গৃহিণী মাত্রই নিজের ফ্রিজ ভরে রাখেন সংসারের নানা প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে অনেকগুলো টাকার জিনিস একসঙ্গে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি। 

পচে গিয়ে নষ্ট হবে মাছ-মাংস সব কিছু, তার পর ফেলে দেয়া ভিন্ন অন্য কোনো পথই খোলা নেই। পথ কিন্তু খোলা আছে, কেবল আপনাকে জানতে হবে কী সেই পথ। জেনে নিই হঠাৎ করে ফ্রিজটা নষ্ট হয়ে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার বদলে বরং কী কী করতে পারেন আপনি। 

* ফ্রিজে আদা-রসুন বাটা রাখার কাজটা প্রায় সকল গৃহিণীই করেন এবং ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে এই আদা-রসুন বাটাই সবচাইতে আগে নষ্ট হয়। চিন্তা করবেন না, ফ্রিজে মাছ-মাংস থাকলে আদা-রসুন বাটা এখন আপনার কাজে লেগেই যাবে! ফ্রিজ থেকে বের করে সরাসরি গরমে বা চুলার ধারে রাখবেন না, যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। একটু বেশি সময় ভালো থাকবে। 

* প্রথমেই নিন মাছ, যা খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। মাছকে খুব ভালো করে লবণ দিয়ে ধুয়ে নিন। এবং লবণ-হলুদ ও সামান্য রসুন বাটা মাছে মেখে নিন। সঙ্গে যোগ করুন সামান্য সাদা সিরকা। ১০ মিনিট পর গরম তেলে একদম মুচমুচে করে মাছ ভেজে নিন। ভালো মতন ঠাণ্ডা করে এয়ার টাইট বক্সে ভরে রেখে দিন। শীতের দিন হলে এই ভাজা মাছ ২-৩ দিন এভাবেই ভালো থাকবে। গরমের দিন হলে এক দিন পর শুকনো প্যানে মাছ দিয়ে ভালো করে গরম করে নিন। এ ভাজা মাছ গরম ভাতের সাথে খেতে পারবেন, ভুনা বা রান্না করেও খেতে পারবেন। 

* মুরগি, কবুতর বা হাঁসের ভুনা তরকারি ২-৩ দিন জ্বাল দিয়ে অনায়াসে খাওয়া যায়। ভুনা করতে না চাইলে আদা-রসুন, হলুদ, লবণ ও সিরকা মেখে ডুবো তেলে ভেজে নিন। ঠাণ্ডা করে এয়ার টাইট বক্সে রাখুন। রোজ একবার ভাজা দিয়ে ৩-৪ দিন রাখতে পারবেন। এই ভাজা মাংস রান্না করতে পারবেন, পাটায় ছেঁচে নিয়ে দোপেয়াজাও করতে পারবেন।  

* দুধ জ্বাল দিয়ে দিয়েই রাখা যায় সহজে। তবে ফ্রিজে রাখা দুধ হলে জ্বাল দেয়ার সময় এক চিমটি লবণ যোগ করুন, সহজে নষ্ট হবে না। 

* সবজি ও ফল ফ্রিজ থেকে বের করে ভালো করে কাপড় দিয়ে মুছে বাতাসে মেলে রাখুন। নাহলে চট করে নষ্ট হয়ে যাবে। 
 
* সসেজ, নাগেটস এইসব মাংসে তৈরি ফ্রোজেন খাবার ডিপ ফ্রাই করে ফেলুন। তবে মাঝারি আঁচে অনেক সময় নিয়ে কড়া করে ভাজবেন, ফ্ল্যাশ ফ্রাই করবেন না। ২-৩ দিন ভালো থাকবে।

* চিজ/পনির/মাখন/মারজারিন/চকলেট ইত্যাদি ফ্রিজ ছাড়া চট করে নষ্ট হয়ে যায়। এগুলোকে পলিথিনে ভরে ভালো করে মুখ আটকে নিন। জিপ লক ব্যাগেও ভরতে পারেন। তারপর গামলা বা হাড়ি ভরে পানি নিয়ে সেটার মাঝে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। বেশ কয়েকদিন ভালো থাকবে। ২ দিন পর পর পানি বদলে দেবেন। 

* ডিমও পানিতে ডুবিয়ে রাখলে অনেক দিন ভালো থাকবে।

* কেক বা মিষ্টি জাতীয় বেকারি আইটেম ভালো রাখতে চান? একটি এয়ার টাইট প্লাস্টিক বক্স খুব ভালো করে ভিনেগার দিয়ে মুছে নিন। এর পর এটার মাঝে কেক, পাউরুটি সহ যে কোন বেকারি আইটেম রেখে দিন। নষ্ট হবে না একটুও। আমাদের দেশীয় মিষ্টিও একইভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন। 

আরপি