eibela24.com
সোমবার, ২৪, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে ধনী-গরিবের বৈষম্য : সিপিডি
আপডেট: ০৬:৫৪ pm ১৩-০১-২০১৮
 
 


বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি। তাদের দাবি, গরিব পরিবারগুলোর আয় আগের তুলনায় কমছে।

শনিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সিপিডির কর্তাব্যক্তিরা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা তুলে ধরতে এই আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।

সিপিডির গবেষণা মতে, ২০০৫ সালে সবচেয়ে গরিব পরিবারে খানাপ্রতি (একক বাড়িতে আয়) আয় ছিল ১১০৯ টাকা। যা কমে ২০১৬ সালে তা কমে ৭৩৩ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ধনী পাঁচ শতাংশের খানা প্রতি আয় ৩৮ হাজার ৭৯৫ থেকে ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির পক্ষে পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। পর্যালোচনা উপস্থাপনা শেষে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ২০১৭ সাল যে আশা-আকাঙ্খা নিয়ে শুরু হয়েছিল শেষ পর্যন্ত সেগুলো সব পূরণ হয়নি। এ বছর ব্যাংক খাত সংস্কারের যে কথা ছিল তা হয়নি। ঋণ নিয়ে অনেকে ফেরত দেননি। ফলে অপরিশোধিত ঋণ বেড়েছে। সার্বিকভাবে ২০১৭ সাল ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, শোভন প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হচ্ছে না। বৈষম্য বেড়েছে আয়, সম্পদ ও ভোগে।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, ২০১৮ সাল হচ্ছে নির্বাচনের বছর। আর্থিক খাতে যেসব সংস্কার দরকার সরকার তা এ বছর করতে পারবে না অথবা করতে যাবে না। ফলে এ বছর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে রক্ষণশীল। তা না হলে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যাবে না।

সিপিডির দাবি, ২০১৬ সালে দেশের মানুষের মোট আয়ের ০.২৩ শতাংশ আসে সবচেয়ে দরিদ্রদের পাঁচ শতাংশ থেকে, যা ২০১০ সালে ছিল ০.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ সালে মোট আয়ে সবচেয়ে ধনী পাঁচ শতাংশের অবদান ২৭.৮৯ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ২৪.৬১ শতাংশ। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালে দারিদ্র্য হ্রাসের হার ছিল ১.৮ শতাংশ, ২০১০ থেকে ২০১৬ সালে তা হয়েছে ১.২ শতাংশ। একই ভাবে নতুন চাকরি বৃদ্ধির হার ৩.৩ থেকে কমে হয়েছে ১.৯ শতাংশ।

বৈষম্য কমাতে না পারলে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কার কথা বলেন দেবপ্রিয়।

আরপি