eibela24.com
বুধবার, ২৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
আনন্দমোহন বসুর বাড়ি দখল করল যুদ্ধাপরাধীল ছেলে
আপডেট: ১০:৩৭ am ১৫-০১-২০১৮
 
 


ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক আনন্দমোহন বসুর জন্মভিটা এখন এক যুদ্ধাপরাধীর দখলে। প্রভাবশালী হওয়ায় ওই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুর পরও বাড়িটি দখলমুক্ত করা যায়নি। বাড়ি উদ্ধারে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে খোদ প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার জয়সিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত আনন্দমোহন বসুর বাড়িটি ৯৯ বছরের লিজ নেওয়ার দাবি করে তা দখলে নেন জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমীর উদ্দিন। যার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

লিজ নেওয়ার দাবি করলেও কবে বা কার মাধ্যমে বাড়িটি লিজ নিয়েছেন তা জানে না স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত দখলের বিষয়ে কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও দখলদারদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পায়নি প্রশাসন।

আমীর উদ্দিন মারা যাবার পর বাড়িটির দখল পান তার ছেলে জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।

যদিও জেলা প্রশাসন ও আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এভাবে জাতীয় সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের এখতিয়ার কারো নেই।কেউ করলে তা হবে অবৈধ ও আইন বহির্ভূত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বর্তমান ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন: দখলের বিষয়টি জানার পর থেকে নানা আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো লাভ হয়নি।

‘আমরা জানতে পেরেছি একজন যুদ্ধাপরাধী ও তার পরিবার বাড়িটি দখলে নিয়ে ভোগ করছে। আনন্দমোহন বসুর বাড়িটি একটি জাতীয় সম্পদ এটা কেউ ব্যক্তিগত অধিকারে নিয়ে ভোগ করতে পারবে না। এটা ১ নম্বর খাস খতিয়ান যা ব্যাক্তিগতভাবে ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা শুধু সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হতে পারে।’

জাল দলিল ছাড়া কেউ এটাকে লিজ নিতেও পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি বাড়িটি উদ্ধার করে জাদুঘর বা প্রত্নতত্ব বিভাগের অধীনে দেয়া হোক।’

বাড়ি দখলের বিষয়ে আমীর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অবগত নন জানিয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: আনোয়ার হোসেন খান বলেন: ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। তবে সরকারের এমন খাস জমি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নেয়ার কোন সুযোগ নেই। হয় সেটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে দিয়ে দিতে হবে, নয়তো সরকারের সম্পত্তি হিসেবে থাকবে।’

আনন্দমোহন বসুর বাড়ি দখলমুক্ত করার বিষয়ে কোনো পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরোপুরি সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখলদার আমীর উদ্দিনের ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইকে তলব করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি উল্লেখ করেন কিশোরগঞ্জের ইটনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মসিউর রহমান খান।

তিনি বলেন, ‘এখানকার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই উত্তরাধিকার সূত্রে বাড়িটি দখল করে আছেন। যতদুর জানা গেছে তার বাবা বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছিলেন।’

‘‘এখানে যোগদানের পর থেকে আব্দুল হাইকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বারবার দেখা করতে বলার পরও তিনি এখনও পর্যন্ত আমাদের সাথে দেখা করেননি।’’

তবে প্রত্নতাত্ত্বিক এ স্থাপনা কিভাবে লিজ দেয়া হয়েছে- সে বিষয় তার বোধগম্য নয় বলে জানান এ কর্মকর্তা। ‘আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাবরই বিষয়টি নিয়ে তাগিদ দিয়ে আসছি। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব এ সম্পত্তি উদ্ধার করে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে দিয়ে দিতে।’

আনন্দমোহন বসু ১৮৪৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার জয়সিদ্ধি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে ছাত্র রাজনীতির গোড়াপত্তনকারী। নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। উপমহাদেশের প্রথম ও একমাত্র র‌্যাংলার হিসেবে পরিচিত তিনি।

প্রচ