eibela24.com
বুধবার, ১৪, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
সিপিডি দেশের উন্নয়ন খুঁজে পায় না : বাণিজ্যমন্ত্রী
আপডেট: ০৫:৫১ pm ১৫-০১-২০১৮
 
 


বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, উন্নয়নের সকল শর্ত পূরণ করে বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তরিত হচ্ছে তখন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দেশের উন্নয়ন খুজে পায় না। 

রবিবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চারলোটা সিলেটারের সঙ্গে বৈঠকশেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি নিয়ে এক পর্যালোচনা উপস্থাপন করে।সেখানে সংস্থাটি ব্যাংক, বীমা, রাজস্ব আয়, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ কয়েকটি বিষয়ে তাদের পর্যালোচনা তুলে ধরে বলেছে- দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়েছে। এর জবাবে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, অতিরিক্তসচিব মুন্সী শফিউল হক, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) তপন কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ এখন দরিদ্র দেশগুলোর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ বিশ্বের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করছে। অথচ সিপিডি দেশবাসীকে হতবাক করেছে। গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে সিপিডি বিরোধী দলের হাতে অস্ত্র তুলে দিলো। যারা এক সময় বাংলাদেশকে বলতো- তলাবিহীন ঝুড়ি এবং বিশ্বের দরিদ্র দেশের রোল মডেল। আজ তারাই বলছে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিস্ময়কর। সেখানে সিপিডি বাংলাদেশের উন্নয়ন খুজে পায় না।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে দেশের দরিদ্র মানুষ ছিল ৪৩ ভাগ, আজ তা কমে ২২.৪ ভাগে নেমে এসেছে, দেশের হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১৭.৬ ভাগ থেকে ১১.৯ ভাগে নেমে এসেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র সফল বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে ২০৩০ সালে দেশের হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ ভাগের নীচে নেমে আসবে। সরকার দেশের দারিদ্র্য দূর করতে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। ২০০৫-২০০৬ সালে দেশের রপ্তানি ছিল ১০ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, গত অর্থ বছরে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, রেমিটেন্স আসছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। সিপিডি সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছে না।

সরকারের জ্যেষ্ঠ এই মন্ত্রী বলেন, দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ১৬১০ ডলার, শিক্ষার হার ৭১ ভাগ, মানুষের গড় আয়ু ৭০ দশমিক ৩ বছর, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ ভাগ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২ ভাগ হয়েছে, দেশেই এখন প্রয়োজনের ৯৮ ভাগ ঔষধ উৎপাদিত হচ্ছে, বিশ্বের ১২২টি দেশে বাংলাদেশের তৈরী ঔষধ রপ্তানি হচ্ছে,দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মাসেতু নিজ অর্থে নির্মাণ করা হচ্ছে, অথচ সিপিডি দেশের উন্নয়ন খুজে পান না।


আরপি