eibela24.com
বুধবার, ১৪, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
বীমা খাতের স্বচ্ছতায় আসছে ৩ বিধিমালা
আপডেট: ১০:০২ am ১৮-০১-২০১৮
 
 


প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ে নীতিমালা না থাকায় বিশৃঙ্খলভাবে বড় হচ্ছে বীমা খাত। পরিচালক নির্বাচনে স্বেচ্ছাচারিতা, নিরীক্ষা ব্যবস্থায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও আর্থিক বিশৃঙ্খলা দিন দিন বেড়ে চলেছে এ খাতে। এ অবস্থায় খাতটিতে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন তিনটি বিধি ও প্রবিধানমালার খসড়া প্রণয়ন করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

নতুন বিধিমালাগুলো হলো ‘বীমা কোম্পানির পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০১৮’, ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিশেষ নিরীক্ষার কার্যক্ষেত্র) প্রবিধানমালা ২০১৮’ এবং ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (অ্যাকচুয়ারির যোগ্যতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য) প্রবিধানমালা ২০১৮’। ৪ জানুয়ারি খসড়া বিধিগুলোর বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে বীমা কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়েছে আইডিআরএ।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, গ্রাহকের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রিমিয়াম হিসেবে সংগ্রহ করে বীমা কোম্পানি। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো জবাবদিহিতা বা আর্থিক শৃঙ্খলা থাকবে না, তা মেনে নেয়া যায় না। মূলত গ্রাহকস্বার্থেই আমরা নতুন এ তিন বিধিমালা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছি। এরই মধ্যে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মতামত চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে পরিচালক নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যূনতম যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে পরিচালক নিয়োগের অনুমোদন দেয়। তবে বীমা খাতে পরিচালক নিয়োগে কোনো বিধি এখন পর্যন্ত নেই। অযোগ্য ও অদক্ষ অনেক পরিচালকের অধীনে চলছে এ খাতের অনেক কোম্পানির কার্যক্রম। গোপনে অনেক নতুন বীমা কোম্পানির মালিকানা বিক্রি হয়ে গেলেও এ বিষয়ে অন্ধকারে থাকছে আইডিআরএ। এসব প্রবণতা বন্ধ করে পরিচালক নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত বিধিমালাটি প্রণয়ন করছে আইডিআরএ।

নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত পরিচালক নির্বাচন বিধিমালার ‘নির্বাচন ও পরিচালকের সংখ্যার সীমাবদ্ধতা’ অংশে বলা হয়েছে, অন্য কোনোভাবে অযোগ্য না হলে ১০ হাজার টাকার শেয়ার ধারণ করেন এমন ব্যক্তি বীমা কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন। কোনো শেয়ারহোল্ডারের ভোটের অধিকার শেয়ারহোল্ডারদের মোট ভোটের ৫ শতাংশের বেশি হবে না।

এ বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে, শেয়ারহোল্ডারদের সভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ধরনের সভা সাধারণত কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে, তবে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে তা কাছাকাছি অন্য কোথাও হতে পারে। নির্বাচনের তারিখ, সময়, স্থান ও অন্যান্য বিষয় এবং পরিচালকের সংখ্যা নির্বাচনের ৬০ দিন আগে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনী সভা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও লিখিতভাবে মনোনীত যেকোনো পরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে।

বিধিমালাটি প্রসঙ্গে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, জোরপূর্বক পরিচালক অপসারণ, স্বাক্ষর জাল করে অন্য পরিচালকের শেয়ার বিক্রিসহ পরিচালকদের নানা অভ্যন্তরীণ সমস্যায় ডুবতে বসেছে কয়েকটি বীমা কোম্পানি। তাই পরিচালক নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তাবিত খসড়া বিধিমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি।

গত বছরের জানুয়ারিতে কয়েকটি কোম্পানির আপত্তির মুখে বীমা কোম্পানিগুলোর বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। এরপর এক বছর ধরে নিরীক্ষা ছাড়াই চলছে বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম। এ অবস্থায় বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রমে পরিচালকদের হস্তক্ষেপ বন্ধে এ সংক্রান্ত নতুন প্রবিধান চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

বিএম/