eibela24.com
সোমবার, ২৪, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
আবাসন খাতে বিক্রি বেড়েছে ২০ শতাংশ
আপডেট: ০৯:৩৬ am ২১-০১-২০১৮
 
 


২০১০ সালে নতুন আবাসিকে গ্যাস সংযোগ না দেয়ার ঘোষণার পর পড়তে শুরু করে আবাসন খাতের বাজার। আবাসিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে শর্তারোপের পর এ খাতে আরেক দফা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এরপর শেয়ারবাজারে ধস, ক্রেতাপর্যায়ে ঋণের অভাবসহ নানা কারণে আবাসন খাতের বিক্রি আরো কমে যায়। তবে ব্যাংকঋণের সুদহার হ্রাস ও ফ্ল্যাট কিনতে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংক অর্থায়ন চালুর সুবাদে আবাসন খাতে আবার সুদিন ফিরছে। অ্যাপার্টমেন্টের বাজার ক্রমান্বয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় গত বছর আবাসন ইউনিট বিক্রি ২০ শতাংশ বেড়েছে। 

জানা গেছে, কয়েক বছর আবাসন খাত এক ধরনের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছে। ২০১৩-১৬ সাল পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি পরিস্থিতি ছিল খুব খারাপ। কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের জন্য নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই কঠিন ছিল। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০১৭ সালে পরিস্থিতি অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে এবং পূর্ববর্তী কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। চলতি বছর এ খাতের পরিস্থিতি আরো ভালো হবে বলে তারা আশা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসনে বিনিয়োগকারী না থাকায় কয়েক বছরে এ খাতের সংগঠন রিহ্যাব সদস্যরা কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারিয়েছেন। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন প্রাইম লোকেশনে অ্যাপার্টমেন্টের কাজ শেষ করেও তারা সেগুলো বিক্রি করতে পারেননি। আবাসন খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ক্রেতা না পেয়ে বিক্রির পরিবর্তে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে ব্যয় সমন্বয় করেছে। বিশেষত রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কমেছে। চাহিদা পড়তে থাকায় দামও কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

তারা বলছেন, ব্যাংকঋণসহ আনুষঙ্গিক খরচ চালিয়ে নিতে তারা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিতে বেশ ছাড় দিয়েছেন। কয়েক বছর ধরে জমির মূল্য একই রকম আছে। এদিকে অ্যাপার্টমেন্টের দামও বাড়েনি। এ কারণেই আবাসন খাতে বিক্রি ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে।

রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি ও শেলটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তৌফিক এম সেরাজ বলেন, বিগত প্রায় চার বছর রিয়েল এস্টেট সেক্টর চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছে। ২০১৩-১৫ সাল পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি ছিল খুবই কম। কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের জন্য নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। তবে আশার কথা হচ্ছে, ২০১৭ সালে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রি শতকরা প্রায় ২০ ভাগ বেড়েছে। আশা করা যায়, আগামীতে পরিস্থিতি আরো ভালো হবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আবাসন খাতের ব্যবসা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। অন্যান্য কয়েকটি শহরে এ খাতের ব্যবসা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আবাসন ব্যবসা বেশ এগিয়েছে। এছাড়া সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে ব্যবসা শুরু হয়েছে। কিন্তু এসব শহরে ব্যবসার ব্যাপ্তি ততটা উল্লেখযোগ্য নয়। ঢাকায় মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, মিরপুর, উত্তরা, বসুন্ধরা, সিদ্ধেশ্বরী, শান্তিনগর, কলাবাগান ও ইস্কাটন এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা বেশি। এছাড়া গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা সবসময়ই আছে। বর্তমানে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গ্রাহকরা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি বলে তারা জানান।

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন জানান, রাজধানীতে ফ্ল্যাটের দাম এখনো যৌক্তিক। আবাসনে বিনিয়োগের এখন উপযুক্ত সময়। আমাদের ব্যবসাও এখন তুলনামূলক বেশ ভালো চলছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আবাসন খাত আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।

বিএম/