eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
ঘন কুয়াশার প্রকোপ
গোদাগাড়ীতে নষ্ট বোরো বীজতলা
আপডেট: ০২:২৪ pm ২১-০১-২০১৮
 
 


প্রচন্ড ঠান্ডাজনিত সংক্রমণে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নষ্ট বোরো ধানের বীজতলা, হুমকির মুখে রবিশস্যসহ দেশের জীববৈচিত্র্য।

শৈত্যপ্রবাহ, প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার প্রকোপে চলতি রবি মৌসুমে হুমকির মুখে পড়েছে বোরো ধানসহ রবিশস্য জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা। আবহাওয়া পাল্টে যাচ্ছে। ব্যাপক শিশির পড়ছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে দেশ। সকাল ১০টায়ও সূর্যের দেখা মিলছে না। হুমকির মুখে রবিশস্যসহ দেশের জীববৈচিত্র্য। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। ঠান্ডাজনিত সংক্রমণে বেশির ভাগ বোরো ধানের বীজতলায় ধানের চারা লাল হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো বীজতলায় বীজ মরে যেতে লেগেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচন্ড ঠান্ডায় আক্রান্ত হলে বোরো ধানের বীজতলার চারা মরে যেতে পারে। এখন চারা যাতে না মরে যায় তার জন্য প্রথম শর্ত হলো, মশারি বা পলিথিন দিয়ে বীজতলাকে ঢেকে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, সন্ধ্যা থেকে বীজতলা পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। সকাল ১০-১১টায় কুয়াশা কেটে গেলে ওই পানি বের করে ইউরিয়া ছিটিয়ে দিতে হবে। এতে বীজতলার চারা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারবে। : এ ছাড়া এই শীতে অন্য ফসলেরও ক্ষতি হবে। ফসলের বাড়ন্ত ঠিকমতো হবে না। অনেক ক্ষেত্রে গাছ হলুদ হয়ে যাবে। সূর্যের আলো না পেলে সালোক-সংশ্লষণ হবে না। কম তাপমাত্রায় কুয়াশা ঢাকা ও আকাশ মেঘলা থাকলে পোকামাকড় ও রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। শংকরায়ণ ও পলিনেশন-শীষ গঠন ঠিকমতো হয় না। যেমন প্রচন্ড ঠান্ডা তেমন বেশি গরম। দুটোই ফসলের জন্য ক্ষতিকর। এতে সরিষা, মসুর, ছোলা, মুগ, মরিচ, সবজির পরাগায়ন ব্যাহত হবে। ফলনও কমে যায়। আলু ফসলে পাতা ধসা রোগ ও সরিষায় জাব পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়।

টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে হাড় কাঁপানো তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার ফলে সর্বত্র বোরো ধানের বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে গেছে। এ কারণে এবার চাষীরা তাদের আবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় ৭৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি হয়েছে। বীজতলা থেকে বীজ চাষীরা মাঠে নিয়ে যেতে শুরু করেছেন।

তিনি এ ব্যাপারে বোরো চাষীদের প্রতিদিন ভোরে বীজতলার পানি পরিবর্তন, ভোর বেলা বীজতলায় চারার আগা থেকে শিশির ফেলে দেয়া, রাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ও বীজ তলায় ধানের চারার গোড়া পর্যন্ত ছাই দিয়ে ঢেকে দেয়া এবং আক্রান্ত বীজতলায় ওষুধ প্লে করার পরামর্শ দিয়েছেন।

নি এম/