eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
বিলাইছড়িতে ২ আদিবাসি শিশুকে ধর্ষণ
আপডেট: ০১:৩২ pm ২৫-০১-২০১৮
 
 


রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় দুই আতিবাসি বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওরাছড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তারা রাঙামাটি জেনারে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মারুফ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে দুজন মারমা কিশোরীকে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওরাছড়ি গ্রাম থেকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। তারা দুজনই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। মহিলা চিকিৎসক আসলে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবে। ভুক্তভোগীরা যে ঘটনার কথা বলেছে তা ইতিমধ্যে ২৪ ঘন্টা পার হয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় ভুক্তভোগী দুই কিশোরী কম্বল দিয়ে নিজেদের ঢেকে রেখেছেন। পাশে আত্মীয়রা বিমর্ষ অবস্থায় বসে আছেন। কথা বলতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এদের মধ্যে একজন হাসপাতালে বারান্দায় এসে প্রতিবেদককে বলেন এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ আছে।

কর্তব্যরত একজন সেবিকা বলেন, দুজনের মধ্যে একজনের অবস্থা ভাল নয়। তার এখনও ব্লাডিং হচ্ছে। ঔষুধ দেয়া হচ্ছে। ওই কিশোরীর ব্যবস্থাপত্রে ৫টি ঔষধের মধ্যে দিনে তিনটি করে Tracid (500mg) ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। রাঙামাটি মা ও শিশু কেন্দ্রের গায়িনী চিকিৎসক লেলিন তালুকদার বলেন, কারোর রক্ত ক্ষরণ হতে থাকলে তা বন্ধ করতে রোগীকে Tracid (500mg) ট্যাবলেট দেয়া হয়। রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাফিউল সারোয়ার বলেন, এ বিষয়ে কেউ এখনো পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি।

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় ২১ জানুয়ারি রাতে ১৪ ও ১৭ বছর বয়সী দুই বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা এবং কারা তাদের আহত করেছে বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের আত্মীয় পরিচয় দানকারী বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাসেল মারমা। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে রাঙামাটি প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগীর পিতা-মাতাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর পিতা-মাতা বলেন, তারা ঘটনার সময় জুমের কাজের জন্য খামারবাড়িতে ছিলেন। এ ঘটনার বিষয়ে তেমন কিছুই তারা এখনো জানেন না। তাদের মেয়েদের হাসপাতালে আনা হয়েছে এটিও তারা জেনেছেন এখানে এসে।

ভুক্তভোগীদের মা বাংলা ভাষা বলতে পারেন না। এ সময় তাকে মারমা ভাষায় প্রশ্ন করে কথা বলতে চাইলে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন শেষ করা হয়। ভুক্তভোগীদের পিতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তারা বুধবার ওরাছড়ি থেকে নৌ পথে রাঙামাটিতে আসেন।

এদিকে ঘটনার পর বুধবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীদের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিবি রুহুল আমিন ছিদ্দিকি এবং চাকমা সার্কেলের রাণী য়েন য়েন।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা বলেন, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কর্তব্যরত নার্সের সাথে কথা বলে যেটা জেনেছি, দুই বোনের মধ্যে একজনের অবস্থা খারাপ। প্রকৃত ঘটনা কি ঘটেছে তা জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হবে।

চাকমা রাণী য়েন য়েন বলেন, আমি তাদের সাথে কথা বলে জেনেছি, সন্ত্রাসীদের তল্লাশি চালানোর নামে ঐ ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ছোট বোনকে যৌন হয়রানী করা হয় এবং বড় বোনকে ধর্ষণ করা হয়।

রুহুল আমিন ছিদ্দিকি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।

প্রসঙ্গত ৫ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয় রাসেল মারমা। এ ঘটনা নিয়ে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন বিলাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান শুভ মঙ্গল চাকমা। রাসেল মারমাকে আহত করার জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি তোলে।

প্রচ