eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
বাবার প্যারালাইসিস, মায়ের ক্যান্সারে দিশেহারা প্রতিমা সরকার
আপডেট: ০৯:২৭ pm ২৬-০১-২০১৮
 
 


নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের নূরপুর মামার বাড়ি থেকে স্থানীয় নূরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে প্রতিমা সরকার। কিন্তু সংসারে অভাব অনটনে বন্ধের পথে প্রতিমার পড়াশোনা। কারণ তার বাবা প্যারালাইসিস এবং মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। 

প্রতিমা তার বাবার ২য় পক্ষের একমাত্র সন্তান। তার বাবার ১ম পক্ষের ঘরে আরো ৩ সন্তান রয়েছে। ৩ বোনের মধ্যে বর্তমানে ১ জন বিবাহিত। প্রতিমার বাবা জতীন্দ্র কুমার সরকার। বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার শ্যাওলাতুলগ্রামে। বাবা ধামরাইয়ে ১ম পক্ষের সন্তানদের সাথে থাকেন। তিনি ধামরাইয়ের ইসলামপুরে সওজ বিভাগে কাজ করতেন। ২০১২ সালে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংসার ভালোই চলছিলো। কিন্তু প্যারালাইসিস হওয়ার কারণে আর আগের মত সংসারের খরচ চালাতে পারেন না তিনি। 

এদিকে প্রতিমার মা শ্যামলী রানী সরকারের প্রায় ২ বছর আগে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। এখন আর আগের মত কাজ করতে পারেন না। মাঝে মাঝে চিনতে পারেন না কাউকেই। প্রতিমার মা প্রতিমাকে নিয়ে মাঝে মধ্যে তার বাবার কাছে যান বেড়াতে। কিন্তু বাবার অচলাবস্থার কারণে মেয়েকে পড়াশোনার খরচ দিতে পারেন না। 

বর্তমানে প্রতিমার দাদু সন্তোষ কুমার সরকার বৃদ্ধ বয়সে ছাত্র পড়িয়ে সংসার চালানোর পর প্রতিমার পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। এসব দুশ্চিন্তা যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে প্রতিমাকে। যে বয়সে শুধু লেখাপড়া আর খেলাধুলা করে মজার সময় কাটানোর কথা সেই বয়সে তার মুখে সব সময়ই হতাশার ছাপ। 

লেখাপড়ার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়ে প্রতিমা বলে, ৫ম শ্রেণিতে এ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছি। বর্তমানে ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছি। আমার বাবা প্যারালাইসিসের রোগী, মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। আমার দাদুর অনেক বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আমার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। অর্থের অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারি না। আমি জানিনা আমার পড়াশোনা আর কতদিন চলবে। আমি আরো পড়তে চাই। আমি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই।

নি এম/