eibela24.com
শুক্রবার, ২১, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
নালিতাবাড়ীতে শশ্মান দখল করে নিল আবু বক্কর 
আপডেট: ১০:৫১ am ৩১-০১-২০১৮
 
 


শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নন্নীতে হিন্দুদের মহা শশ্মান দখল করে জোড়পূর্বক মাটি ভরাট ও রাস্তা বের করে শশ্মানের অস্তিত্ব বিলীন করার চেষ্টা করছে প্রভাবশালী এক প্রধান শিক্ষক। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিম পাড়া গ্রামে হিন্দু সনাতন ধর্মালম্বী রবিদাস , শীল ও বর্মন সম্প্রদায়ের ৩শ’ পরিবার বসবাস করে । এই সম্প্রদায়ের মানুষগুলো মৃত্যুর পর সৎকারের জন্য ৭০ শতাংশ জমির মধ্যে ২৯ শতাংশ জমিতে শ্শ্মানটি বিদ্যমান । ২৭ জানুয়াররী পশ্চিম বন্ধধারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রভাবশালী প্রধান শিক্ষক ওই শশ্মানে মাটি কাটার বেকু মেশিন লাগিয়ে শশ্মানের উপর মাটি ভরাট করে দখল করার চেষ্টা করে ।
রবিদাস গোত্রের রতন রবিদাস শারি এনজিও এর জেলা সম্বনয়কারী মোঃ সুলাইমান কে বিষয়টি অবহিত করলে ,তিনি প্রেসক্লাব নালিতাবাড়ীর সহযোগিতায় সাংবাদিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ।

জেলা সম্বনয়কারী সাংবাদিকদের জানান, নালিতাবাড়ী থানার নন্নী মৌজায় ১ নং এস এ খতিয়ানে ৩৫৩৭ নং দাগে ৭০ শতাংশ জমি জমিদার সম্বাল সিঙ্গাব রানী ও সতীন্দ্র কুমার চৌধুরী ৭০ শতাংশ জমি শশ্মানের জন্য দান করেন । পরবর্তীতে ৬ নং আর এস খতিয়ানে হিন্দু সাধারনের ব্যবহারের জন্য ৭০ শতাংস জমি শুদ্ধভাবে রের্কড হয় । বি আর এস জরিপের সময় ৭০ শতাংস জমি দুইটি খতিয়ানে বিভক্ত হয়ে ৩৮৮ নং খতিয়ানে ৬০২৯ নং দাগে ৪০ শতাংশ জমি শশ্মানের নামে রের্কড হয় সত্য ।

এলাকার মুসলিম পরিবারের সু চতুর প্রভাবশালী আব্দুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি জরিপ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নিজ অংশ লিপিবদ্ধ করায় । বাকী ৩০ শতাংস জমির মধ্যে ২৯ শতাংশ জমি শশ্মানের নামেই ১নং খাস খতিয়ানে রের্কড হয়েছে । রতন রবিদাস বলেন, আমাদের ৪০ শতাংশ শশ্মানের জমি আব্দুল হামিদের ছেলে প্রিন্স মাস্টার উপজেলা চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান রিপনের সহযোগিতায় জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছে। আর বাকী জমি দখল করতে বেকু মেশিন দিয়ে শশ্মানের জমিতে মাটি ভরাট করে রাস্তা বের করে। শ্রী পরিতোষ শীল, মথুরাম রবিদাস মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রিন্স মাস্টারের নির্দেশে আমাদের পবিত্র শশ্মানের উপর দিয়ে রাস্তা বানিয়ে ট্রাক চালিয়ে অনত্রও মাটি নিয়ে শশ্মানের অমযর্দা করেছেন ।

এ ব্যপারে আবু বক্কর সিদ্দীক প্রিন্স মাস্টার জানান, তিনি ভ-গর্ভস্থ কিছু বালু ঠিকাদারের প্রতিনিধি ট্রাক লড়ি চালক আব্দুল খালেকের নিকট বিক্রী করেছেন। সে কিছু মাটি শশ্মানে ফেলেছে ও শশ্মানের উপর দিয়ে ট্রাক ভর্তি মাটি নিয়েছে । ঠিকাদারের প্রতিনিধি ট্রাক লড়ি চালক আব্দুল খালেক বলেন, তিনি প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দীক প্রিন্স মাস্টারের নির্দেশেই কাজ করেছেন ।

উপস্থিত জনসমক্ষে প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দীক প্রিন্স মাস্টার শশ্মানের ৪০ শতাংশ জমির ব্যাপারে জানান, বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মুখলেছুর রহমান রিপন নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে জমির ফয়সালা দিয়েছেন । 

বিষয়টি নিয়ে ২৭ জানুয়ারি রাতে দশরথ মথুরা রবিদাস বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রচ