eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২০, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
বলিউডের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত অভিনেতা
আপডেট: ১১:৩৯ pm ০৫-০২-২০১৮
 
 


আর মাধবন এই নামটি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু, আর মাধবন সম্পর্কে এমন কিছু আকর্ষণীয় তথ্য আছে যা অনেকেই জানেন না। আর এই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা। আর মাধবন শিক্ষা-দীক্ষায় এই মুহূর্তে বলিউডে সবচেয়ে উপরে রয়েছেন বলেই দাবি করা হচ্ছে। তাঁর মতো শিক্ষিত অভিনেতা নাকি এই মুহূর্তে নাকি বলিউডে নেই। 

১৯৭০ সালে ভারতের জামশেদপুরে এক তামিল পরিবারে জন্ম মাধবনের। কোলাপুরের রাজারাম কলেজ থেকে ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক হন তিনি। এমনকী ক্লাস টেনের পরীক্ষাতেও ডিস্টিংশন পেয়েছিলেন। মাধবনের বাবা রঙ্গনাথন ছিলেন টাটা স্টিলের ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভ। মা সরোজা ছিলেন ব্য়াঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ম্যানেজার। মাধবনের দিদি দেবিকাও পড়াশোনায় যথেষ্ট কৃতী। তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।

১৯৮৮ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়ই মাধবন স্কলারশিপ- নিয়ে ভারতের সাংস্কৃতিক দূত হিসাবে নিযুক্ত হন। এর জন্য তাঁকে এক বছর কানাডার আলবার্তার স্টেটলার-এ কাটাতে হয়েছিল। কানাডা থেকে ফিরে এসে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাও সম্পূর্ণ করেছিলেন মাধবন। দেশে ফেরার পরে ২২ বছর বয়সে মাধবন মহারাষ্ট্রের এনসিসি ক্যাডারের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন এবং মহারাষ্ট্র এনসিসি ক্যাডার দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরেও যান। সেখানে ব্রিটিশ আর্মি, রয়্যাল নেভি এবং রয়্যাল এয়ারফোর্স-এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন। একটা সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মাধবন। কিন্তু, ৬ মাস বয়স বেশি থাকায় সেই সুযোগ তাঁর হাতছাড়া হয়ে যায়।

এরপর মাধবন পাবলিক স্পিকিং এবং পার্সোনালিটি ডেভলপমেন্ট-এর উপর টিচিং কোর্স-এ ভর্তি হয়ে যান। মুম্বইয়ের কৃষিণচাঁদ কলেজ-এ পাবলিক স্পিকিং নিয়ে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন-এও ভর্তি হন। এই সময়ই পাবলিক স্পিকিং-এর ইন্ডিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ-এ সেরা হন মাধবন। এর সুবাদে ১৯৯২ সালে টোকিও-য় ইয়াং বিজনেস ম্যান কনফারেন্সেও প্রতিনিধিত্ব করেন। মুম্বই-এ থাকাকালীন মাধবন তাঁর একটি পোর্টফোলিও বানান এবং তা একটি মডেলিং এজেন্সি-তে জমা করেন।

এই পোর্টফোলিও বানানোর পর তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ ছিল সিনেমাটোগ্রাফার তথা অ্যাড-ফিল্ম মেকার সন্তোষ শিবনের তৈরি একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন-এ কাজের সুযোগ। স্যান্ডেল ট্যালক-এর বিজ্ঞাপনে কাজ করেই সন্তোষ শিবনের নজরে পড়ে যান মাধবন। পরে মণিরত্নমের একটি ছবির তাঁর নাম সুপারিশ করেন শিবন। ১৯৯৭ সালে 'ইরুভার' বলে মণিরত্নমের ছবিতে স্ক্রিন টেস্টও দেন তিনি। পরে মণিরত্নম তাঁকে 'তামিজশেলভন' নামে একটি ছবির লিড-রোল-এর জন্য নির্বাচিতও করেছিলেন। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে ছবি থেকে মাধবন-কে বাদ দিয়ে দেন মণিরত্নম। তাঁর যুক্তি ছিল ছবির লিড রোল করার ক্ষেত্রে মাধবনের চোখ উপযুক্ত নয়। কারণ, মাধবণের চোখ একদম কিশোর বয়সী ছেলেদের মতো, তাই তাঁকে লিড রোল দেওয়া যাবে না।

মাধবন অবশ্য হতাশ হননি। তিনি টেলিভিশন থেকে একগুচ্ছ অফার পেতে শুরু করেন। যার মধ্যে ছিল ডিডি মেট্রো-র বেশকিছু ফিল্মি-গান-এর এপিসোডেও অ্যাঙ্কারিং-এর সুযোগ পেয়ে যান। সেই সঙ্গে জি-টিভির একাধিক সিরিয়ালেও অভিনয় করতে শুরু করেন। ‘সি-হক’ বলে দূরদর্শনের একটি সিরিয়ালে মাধবনের অভিনয় বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছিল।

নি এম/