eibela24.com
মঙ্গলবার, ২৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ 
আপডেট: ০৯:০৩ am ০৬-০২-২০১৮
 
 


এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা এবং তদন্ত কমিটির কাজ শুরুর মধ্যেই ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্র ২৪ মিনিট আগে এবং শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁস হয় পরীক্ষার ৪৫ মিনিট আগে। এসব প্রশ্ন বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোস্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যায় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন।

পরীক্ষা শুরুর পর থেকে প্রতিটি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। নানা উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন ফাঁসে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, দেশের ভিআইপি, ভিভিআইপিদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কোন স্ট্যাটাস দিলে মুহুর্তের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। অথচ পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিজ্ঞাপন আকারে প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ থেকে এ বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন নম্বরও  দেওয়া হচ্ছে। এ নম্বরে চাহিদামতো টাকা পাঠালে পুরো প্রশ্নপত্র তাদের দেওয়া হয়। তবে এভাবে ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরতে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে কেন ?

অভিভাবকরা বলছেন, যদি এভাবে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ না করা যায় তাহলে পরীক্ষা আয়োজন করে কী লাভ।  তারা আরো বলছেন, প্রশ্ন ফাঁস হলে তা হয়তো ১ থেকে ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে। তারা ভালো পরীক্ষা দেয়। আর যারা সারা বছরে লেখাপড়া করেও তাদের চেয়ে ভালো করতে পারে না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ কমিয়ে এখন শুধূ ফেসবুকে প্রশ্ন খোঁজা হচ্ছে।

গতকাল এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দুই ঘণ্টা আগে সোমবার সকাল ৮টা ৪ মিনিটে ইংরেজি প্রথম পত্রের ‘ক’ সেটের প্রশ্ন হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে ফাঁস করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়। ইংরেজি প্রথম পত্রের ক সেটের প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপের English 1st part 2018 নামের একটি গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নটি ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে ওই প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

কয়েক বছর ধরেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস একটি আলোচিত বিষয়। অথচ শিক্ষামন্ত্রণালয় এ বিষয়টিকে গুরুত্বই দেয়নি। বরং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের খবর প্রকাশ হলে মন্ত্রণালয় থেকে এটি অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিত। তবে এবার প্রশ্নফাঁসের জন্য প্রথমবার ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষাণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে। এবং সিদ্ধান্ত নেবে পরীক্ষা বাতিল হবে কি বা না।

অভিভাবকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিটিআরসি যৌথভাবে কাজ করার পরও যখন প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না তাহলে প্রশ্নফাঁসকারীদের গভীরতা অনেক বেশি। দ্রুত এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে ভবিষ্যত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন আর বোর্ড বা বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে না। সকাল ৯টার পর প্রশ্ন ফাঁস হয়। এর অর্থ হলো পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত। তারা বলছেন, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য বিটিআরসি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ দরকার।

তবে এর আগে পরীক্ষা শুরুর তিন ঘন্টা আগে ফেসবুক বন্ধের জন্য শিক্ষামন্ত্রী টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এতে সাড়া দেয়নি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। আর মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিটিআরসি প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব হতো। এই দুই সংস্থা হয়তো শিক্ষামন্ত্রণালয়কে আন্তরিকভাবে সহায়তা করছে না।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ও সচিব দু’জনই বলেছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ আসামাত্রই পরীক্ষা বাতিল করা হবে। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের প্রমান মিললেও পরীক্ষা বাতিল হয়নি। ১ থেকে ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই প্রশ্ন পায়।

প্রশ্ন ফাঁসের বিষয় মন্ত্রণালয় বা শিক্ষাবোর্ডের কেউ কথা বলতে চাইছে না। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে রবিবার গঠন করা তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে ।


প্রচ