eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধাম
আপডেট: ১১:২৫ am ১৪-০২-২০১৮
 
 


স্মৃতিফলকেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সীতাকুন্ডের ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধামের অবকাঠামো উন্নয়ন। স্রাইন এস্টেটের কর্তাব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় ঢাক-ডোল পিটিয়ে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির সংলগ্ন গয়াক্ষেত্র ও জগন্নাথ মন্দিরের পাশে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন করেন। কিন্তু উন্মোচনের পর সংস্কার কাজের কোন খবর থাকে না। এই অবস্থায় আজ থেকে শুরু হবে উপমহাদেশের সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান শিব চতুর্দশী মেলা। ওই সময়ে লাখ লাখ তীর্থযাত্রী প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে চন্দ্রনাথ ধামের অর্ধশতাধিক মঠ-মন্দির দর্শনে সমবেত হবেন।

সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ ধামের অবকাঠামো উন্নয়ন ১৫ বৎসরে হয়নি। ভাঙ্গাচোরা সিঁড়ি, বিধ্বস্থ কালভার্ট অতিক্রম করেই বিপজ্জনক অবস্থায় তীর্থ যাত্রী ও দর্শনার্থীদের চন্দ্রনাথ পাহাড় দর্শন করতে হয়। সীতাকুন্ড জাতীয় মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী এবং দোল পূর্ণিমা উৎসব ও মেলা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের লাভ লাখ তীর্থযাত্রী ও সর্বস্তরের মানুষের মহামিলন হয় এ পবিত্র তীর্থধামে। অথচ চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠার সিঁড়িগুলো সংস্কারের অভাবে তীর্থযাত্রীরা মন্দির দর্শনে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় হলেও সংশ্লিষ্টরা ওই স্থানের রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রায় ১৩শ’ ফুট উপরে চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠতে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরে উঠার প্রায় আট সহস্রাধিক সিঁড়ির অবস্থা খুবই নাজুক। মন্দিরে উঠতে গিয়ে দর্শনার্থীদের সবসময় ভয়ে শংকিত থাকতে হয় কখন সরু, ভঙ্গুর সিঁড়ি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা তাদের প্রয়াত পিতৃ পুরুষের পি-দান করার বিশাল গয়াকুন্ডটি যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। সীতাকুন্ড নামকরনের ‘সীতা’ মন্দিরটি অনেকটা অবহেলিতভাবে পড়ে আছে। বেপরোয়া পাথর উত্তোলনের ফলে পাহাড়ের টিলায় নির্মিত স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির এবং বিরূপাক্ষ মন্দিরটি যে কোন সময় বিধ্বস্ত হয়ে নিচে পড়ে যেতে পারে। চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়ার প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে দুই নং ব্রিজ এবং তৎ সংলগ্ন মন্দিরে উঠার রাস্তা সংস্কারের জন্য এলজিআইডি কর্তৃক প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজ চলছে। তবে মেলার পর কাজটি করলে ভালো হতো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির থেকে চন্দ্রনাথে উঠার প্রায় এক কিলোমিটার পথে পাহাড়ের অংশ কেটে বা বাঁশের নলি দিয়ে সাময়িক চলাচলের উপযোগি করার চেষ্টা চলছে। তীর্থযাত্রী জানান, চন্দ্রনাথে উঠার জন্য তীর্থযাত্রীরা এত উপরে উঠলেও সংশ্লিষ্টদের সংস্কারের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেই। তিনি জানান, বিগত ১৫ বছর যাবৎ এখানে যে অবস্থায় দেখেছেন এখনও সে অবস্থায় আছে। প্রতি বৎসর ত্রিশটি করে সিঁড়ি সংস্কার বা নির্মাণ করলে গত ১৫ বৎসরে চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠার দুই-তৃতীয়াংশ সিঁড়ির কাজ শেষ হতো।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই বছর স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে। সেখানে উন্নয়ন হবে কিভাবে? আইনি লড়াইয়ে ক্ষমতা পেয়ে নতুন সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ এক বছর যাবত মেলা পরিচালনা করছেন। এছাড়া মেলার সময়ে তীর্থস্থানের জায়গা ইজারা থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করা হলেও চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠার একটা সিঁড়িও সংস্কার হয়নি।

এ প্রসঙ্গে পৌর প্যানেল মেয়র হারাধন চৌধুরী বাবু জানান, স্রাইন এস্টেট পরিচালনা কমিটির অনিয়ম ও দুনীতির কারনে চন্দ্রনাথ ধামের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। চন্দ্রনাথ মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরসহ বেশিরভাগই মন্দিরাদি ব্যক্তি বিশেষের সাহায্যে নির্মিত হয়েছে। তাহলে গ্রাইন (তীর্থ) কমিটির কর্মকর্তারা মন্দির ও সড়ক উন্নয়নে কি করছেন? তবে এ প্রশ্ন শুধু তাঁর নয়- আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয় জনগনেরও। তিনি আরও বলেন, গ্রাইন এস্টেটের প্রচুর সম্পত্তি বিভিন্ন সময়ে বেহাত হয়ে গেছে। এতে গ্রাইনের লোকজনও জড়িত। সীতাকুন্ড গ্রাইন (তীর্থ) এস্টেট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এস্টেটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সময়ের প্রয়োজন। এছাড়া তীর্থাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য চন্দ্রনাথ মন্দিরে সিঁড়ি ও ব্রিজ সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়েছে।

প্রচ