eibela24.com
মঙ্গলবার, ১৬, জুলাই, ২০১৯
 

 
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন উদ্বোধন শুক্রবার
আপডেট: ১২:২৬ pm ০৮-০৩-২০১৮
 
 


নীলফামারীতে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনের উদ্বোধন আগামীকাল শুক্রবার। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন ওইদিন শুরু হবে নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। শেষ হবে আগামী ১১ মার্চ।
 
শুক্রবার বিকেলে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর।

৩৭তম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, নীলফামারী শাখা।

নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্মেলন পরিষদের মঞ্চ প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে ঐতিহ্য নিয়ে। শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা।

সম্মিলন ঘিরে নীলফামারী শহরকে সাজানো হয়েছে ভিন্ন রূপে। বিভিন্ন দেয়ালে রংতুলির আঁচড়ে আঁকা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবি। এছাড়া রয়েছে গ্রাম বাংলার চিরাচরিত দৃশ্য।

তিন দিনের এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— বোধন সঙ্গীত, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বালন, রবিরশ্মি, সঙ্গীতানুষ্ঠান, আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠান, সেমিনার, শহীদ মিনারে শ্রুদ্ধা নিবেদন, প্রতিনিধি সম্মেলন এবং গুণীজন সম্মাননা ও রবীন্দ্র পদক প্রদান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সানজীদা খাতুন সম্মেলনে সভাপতিত্বে করবেন। পরিচালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ইসলাম।

এছাড়া অতিথি হিসেবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্বজিৎ ঘোষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেবী প্রসাদ রায় জানান, অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন দিনের আয়োজনে সারাদেশ থেকে অন্তত সাত’শ সংস্কৃতিকর্মী অংশগ্রহণ করবেন।

উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হাসান চৌধুরী শাহিন জানান, রবীন্দ্রসঙ্গীতই নয় নজরুল, সুকান্ত, অতুল প্রসাদ, লালন গীতি, ভাওয়াইয়া হবে সম্মেলনে। 
তিনি বলেন, অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৮টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সব বিষয়ের উপর কাজ করছেন।

রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, নীলফামারী জেলা কমিটির সভাপতি আহসান রহিম মঞ্জিল বলেন, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে কিভাবে, সম্মেলনের সেমিনারে সে সব বিষয় উঠে আসবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর বলেন, সংস্কৃতি চেতনা সকলের জন্য প্রয়োজন। চেতনা সমৃদ্ধ হলে কুপমন্ডুকতা, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতাসহ সকল নেতিবাচক কর্মকাণ্ড দূর হয়ে যাবে।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে র্যাতব ও বিজিবি।

বার্ষিক সম্মিলন উদযাপনে যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এবং ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ।

নীলফামারী পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন জানান, সম্মেলনস্থলে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশ পথের প্রত্যেকটিতে আর্চওয়ে বসানো ছাড়াও প্রত্যেকের শরীর তল্লাশী করে প্রবেশ করানো হবে এবং নিরাপত্তা পাস ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

বিএম/