eibela24.com
বুধবার, ২৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
জামালপুরে মন্দিরের ভূমি অধিগ্রহণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন
আপডেট: ০৪:০৪ pm ০১-০৪-২০১৮
 
 


জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়ে রবিবার সকালে ৩২১ বছরের প্রাচীন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দির এবং শ্রী শ্রী রাধামোহন জিউ মন্দিরের ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রাচীন এই দয়াময়ী মন্দির ও রাধামোহন জিউ মন্দিরের ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তে সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, কালচারাল ভিলেজ প্রকল্পের জন্য বিকল্প জায়গা থাকার পরেও মন্দিরের ভূমি অধিগ্রহণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা দুঃখজনক।

একটি টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে দয়াময়ী মন্দির পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ শংকর রায় জানান, শহরের জিরো পয়েন্টে ১১০৪ বঙ্গাব্দে  অর্থাৎ খ্রীষ্টীয় ১৭ শতকে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর সময় কৃষ্ণ রায় চৌধুরী দয়াময়ী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মন্দিরের নামেই গড়ে উঠেছে দয়াময়ী পাড়া। এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে প্রাচীন রাধামোহন জিউ মন্দির।

মন্দির দুটির পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে জামালপুর কালচারাল ভিলেজ। ভিলেজের সৌন্দর্যবর্ধণ কাজে ব্যবহার করতে দেবোত্তর সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত দয়াময়ী মন্দিরের সাড়ে ৮ শতাংশ এবং রাধামোহন জিউ মন্দিরের ৫ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মন্দিরের ওই ভূমির উপর বাণিজ্যিক ভবন ও মন্দিরের পুরোহিত কর্মচারীদের বাসস্থান রয়েছে বলে জানান শংকর রায়।

৩২০ বছরের পুরনো মন্দিরকে ধ্বংস এবং এর ভূমি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহারের জন্য অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারনা করছেন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা । মন্দির রক্ষায় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্দির কমিটির দপ্তর সম্পাদক অপু দত্ত জানান যে , কালচারাল ভিলেজ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের জন্য বিকল্প জায়গা থাকার পরেও মন্দিরের ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত রহস্যজনক।

মন্দির কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সুবির বসাকের মতে, মন্দিরের ভূমি অধিগ্রহণ করা হলে মন্দির দুটি নিরাপত্তাহীন হবে এবং মন্দির মার্কেটের দুই শতাধিক কর্মচারী ও ব্যবসায়ী কর্মহীন হবে । দয়াময়ী মন্দির ও রাধামোহন জিউ মন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি অজিত কুমার সোম মন্দিরের দেবোত্তর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে আন্দোলনে যাবার কথা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ঐ চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির বলেন, সাংস্কৃতিক পল্লী (কালচারাল ভিলেজ) নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রস্তাবে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটি ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই জমিতে মন্দিরের সামনের কিছু অংশ পড়লেও মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্দির রক্ষায় রোববার সকালে শহরের দয়াময়ী চত্বরের মানববন্ধনে বক্তাগন এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই জমি অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

নি এম/