eibela24.com
বুধবার, ১৪, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
আপডেট: ০৭:৫৮ pm ০৮-০৪-২০১৮
 
 


র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো আলোচিত লিমন হোসেনের ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়ার গ্রামের ইদুর বাড়ি এলাকার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা আগুন দিয়ে রান্নাঘরের কিছু অংশ পুড়িয়ে দেয়। রবিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়া জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে লিমনদের নির্মাণাধীন ভবনের পিলারের রড কেটে ফেলে দেয়াল ভাংচুর ও মজুদ রাখা রড ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করছে তার পরিবার। বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছে লিমনের বাবা তোফাজ্জেল হোসেন। পুলিশ এ ঘটনায় ফিরোজ হোসেন (৪০) নামে এক যুবককে আটক করেছে। 

লিমনের বাবার অভিযোগ, তাদের পৈত্রিক জমিতে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ আঃ হাই ও হুমায়ুন কবির লোকজন নিয়ে বাধা দেয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। শনিবার পুনরায় কাজ শুরু করলে রবিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষরা নির্মাণাধীন পাকা ভবনের দেয়াল ভেঙে কলমের রড কেটে ফেলে এবং ভবন নির্মাণের জন্য মজুদ রাখা ১৭শ কেজি রড ও ৪টি ড্রামসহ সরঞ্জাম নিয়ে যায় এবং মালপত্র পাশের খালে ফেলে দেয় প্রতিপক্ষরা। 

লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তাঁরা নিজেদের জমিতে আধাপাকা একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে। সেই থেকেই প্রতিপক্ষের লোকজন লিমনদের কাজে বাধা দিয়ে আসছিল। আধাপাকা ঘরের এক পাশের দেয়াল ও ৯টি পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। প্রতিপক্ষরা শনিবার দিবাগত রাতে লোকজন নিয়ে দেয়াল ভেঙে পিলারের রড কেটে নিয়ে যায়। এসময় প্রতিপক্ষরা লিমনদের বসতঘর ও রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে রান্নাঘরটি কিছু অংশ পুড়ে যায়। আগুন দেখে লিমনের বাবা তোফাজ্জেল হোসেন ও মা হেনোয়ারা বেগম চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে ফেললে বসতঘরের কোন ক্ষতি হয়নি। 

অভিযুক্ত আব্দুল হাই ও হুমায়ুন কবির অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাদের ক্রয়কৃত জমিতে লিমনের বাবা জোর করে ভবন নির্মাণ করতে চাইছে তাতে তারা বাধা দিয়েছে মাত্র। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা এবং স্থানীয়ভাবে শালিস চলছে। 

রাজাপুর থানার ওসি শামসুল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুলিশ গিয়ে একজনকে আটক করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম রাজাপুর থানায় মামলার প্রস্ততি নিচ্ছে।

এমআরআর/ বিডি