eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
সাংবাদিককে ধরে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
আপডেট: ০৯:০৫ pm ১৪-০৪-২০১৮
 
 


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে স্থানীয় এক সাংবাদিককে সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদ।

পারিবারিক ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে বাদাঘাট বাজারের মেইন রোডে মানিকের ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকান থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের আশির্বাদপুষ্ট তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ও বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া তার সহযোগী পৈলনপুর গ্রামের ফারুক মিয়া, হযরত আলী, ইকবাল হোসেনসহ ১০/১২জন ধরে নিয়ে গিয়ে মাসুক মিয়ার বাড়িতে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।

এ সময় স্থানীয় জনতা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ অদৃশ্য ইশারায় তালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করে। পরে মাসুক মিয়া সুকৌশলে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কাশতাল চরগাও রহিছ মিয়ার বাড়ির বাঁশ ঝাড়ের পেছনের রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়ে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এর আগে আজাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর ও বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাইদুর রহমান, এএসআই পিযোষ দাসকে মাসুক মিয়াসহ তার লোকজন ধরে নিয়ে গেছে বলে জানানো হলেও তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে আজাদকে বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পে আটক করে রাখে।

পরে রাত ১২টায় তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নন্দন কান্তি ধর জানান, তাকে স্থানীয় লোকজন ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, ‘স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মাসুক জনসম্মুখে সাংবাদিক আজাদকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে তার বাড়িতে যান। মাসুক মিয়ার সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা থাকায় সাংবাদিক আজাদকে পরে পুলিশে দেয়া হয়।’

আজাদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নন্দন কান্তি ধর বলেন, বিষয়টি এখনও কিছু বলা যাচ্ছেনা কারন সম্পন্ন ব্যাপারটি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ দেখার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে । তদন্ত ছাড়া কিছু করা যাবেনা বলে জানান তিনি । এসময় তিনি আরো জানান,তার সাথে মাসুক মিয়ার দীর্ঘদিনযাবৎ ধরে জের চলে আসছে একটি প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে । এবং সে প্রায় সময় এমপির বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রেরণ করে আসছিল তার কারন কি না সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি ।

এদিকে সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল হোসেন ওরফে ট্যবলেট কামাল ও হত্যা মামলার আসামি মাসুক মিয়াসহ বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাতের আধারে বাদাঘাট এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করে । কিন্তু স্থানীয় কিছু লোক বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ফলে নিজেদের বাচাতে দুর্বৃত্তরা কোন এক সময় তার পকেটে ইয়াবা ট্যবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে থানা পুলিশে সোর্পদ করে । এরির্পোট লেখা পর্য্যন্ত তাহিরপুর থানায় আহত সাংবাদিককে নিয়ে রাখা হয় । কিন্তু তাকে কোন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তী করা হয়নি বা সু-চিকিৎসার জন্য পুলিশ তেমন কোন ব্যবস্থাও করেনি ? অথচ এসপি দাবি করেছেন তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে!


উল্লেখ্য, হাবিব সরোয়ার আজাদ দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক যুগান্তরসহ স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং তার আশির্বাদপুষ্টদেরসহ তাহিরপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে তাদের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে সংবাদ পরিবেশন করে আসছিল।

নি এম/অরুন