eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২০, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
বাংলাদেশের প্রয়োজনে সব সময় পাশে থেকেছে ভারত : শ্রিংলা
আপডেট: ০৭:২১ pm ০৯-০৫-২০১৮
 
 


ভারত সব সময় বাংলাদেশের সংকটে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয় উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের প্রয়োজনে পাশে থেকেছে। আমাদের দু’দেশের সম্পর্কের ভিত্তি বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও শহীদদের আত্মত্যাগ-এ, যা সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে।

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছে ভারত থেকে আসা ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারত থেকে আসা ৩৭৩ টন ত্রাণসামগ্রী ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। কমান্ডার এ অশোকের নেতৃত্বে আইএনএস ঐরাবত বিশাখাপত্তনম থেকে যাত্রা শুরু করে ৩৭৩ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম এসে পৌঁছে।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ১০৪ টন গুঁড়ো দুধ, ১০২ টন শুঁটকি মাছ, ৬১ টন শিশুখাদ্য, ৫০ হাজার রেইনকোট, ৫০ হাজার জোড়া গামবুট। এছাড়া ১ মিলিয়ন লিটার কেরোসিন তেল এবং ২০ হাজার রান্নার চুলাসহ আরও একটি চালান দ্রুত আসবে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।

তিনি জানান, ভারত সব সময় বাংলাদেশের সংকটে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছে। আমরা জানি, এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢল বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাদের সহযোগিতা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয় এবং আমরা মনে করি এই কাজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি ও সমর্থন পাওয়ার দাবিদার। আমরা খাদ্য, পোশাক, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রশংসা করি। বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে আমরা আশা করছি, আমাদের এই প্রচেষ্টা কিছুটা হলেও আপনাদের কাজে লাগবে।

এর আগেও ভারত রোহিঙ্গাদের জন্য ২৭৯ টন চাল, ৫৬ টন ডাল, ৬২ হাজার ৯৪০ লিটার ভোজ্যতেল, ৫৫ টন লবণ, ৫৫ টন চিনি, ৫৫ টন গুঁড়ো দুধ, ১ লাখ ১০ হাজার ৭৬৮টি সাবান, ১৫ হাজার ৩৯৩ ব্যাগ খাদ্যসামগ্রী ও ২৭ হাজার ৮৯২ কেজি চা দিয়েছিল।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীমতি সুষমা স্বরাজ "অপারেশন ইনসানিয়াৎ" মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা মিয়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের জন্য ত্রাণ দেয়ার ঘোষণা দেয়।

ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ শেষে মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ত্রাণসামগ্রী প্রদান করায় ভারতের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের যে কোনো দুর্যোগে ভারতের বিশেষ ভূমিকা আশা করি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের সসম্মানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ত্রাণের চেয়ে বেশি সাহায্য হবে তাদের ফেরত নিতে বাধ্য করা। হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানাই। মিয়ানমারের নাগরিকদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারত আমাদের শুধু সাহায্যই করেনি, অস্ত্র দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, মহান যুদ্ধে ভারতের হাজার হাজার সৈনিক আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন উৎসর্গ করেছেন। প্রায় এক কোটি মানুষকে ভারত সরকার আশ্রয় দিয়েছে, খাবার-চিকিৎসাসহ সর্বপ্রকার সহযোগিতা করেছেন। আমরা কৃতজ্ঞ। শরণার্থী বলতে কী বোঝায়, কীভাবে সাহায্য করতে হয় তারা জানে। মিয়ানমারের প্রায় ১২ লাখ নাগরিক বাংলাদেশে এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট। সেখানকার পাহাড়গুলোর গাছপালা নেই বললেই চলে। রোহিঙ্গা আশ্রয়ের শুরু থেকেই পাহাড়ে থাকা গাছের ডালপালা কাটা শুরু হয়। গাছের গোড়া পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে রান্নার জন্য। ভারত সরকার ২৫ হাজার স্টোভ আর ১ মিলিয়ন লিটার কেরোসিন তেল ত্রাণ হিসেবে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। ভারতসহ অসংখ্য দেশ মানবিক জীবনযাপনে থাকা রোহিঙ্গাদের সাহায্য করেছেন। ভারত সরকার বিশেষ করে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনবার তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।

বিডি