eibela24.com
সোমবার, ১০, ডিসেম্বর, ২০১৮
 

 
জেনে নিন নড়াইলের লক্ষীপাশা কালি মন্দিরের আদি ইতিহাস
আপডেট: ০৬:২৯ pm ১০-০৫-২০১৮
 
 


ষোড়স শতাব্দিতে কান্যকুঞ্জ নামের এক গ্রামে বাৎস্য নামে এক ব্রাহ্মণ মুনি বাস করতেন। তার এক পুত্রের নাম সদানন্দ। তার বাকী পাঁচ পুত্ররা হলেন সুতপা, অনুতপা, উগ্রতপা, পষ্ণতপা ও রামদাস। রামদাস ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একনিষ্ঠ ভক্ত। একদিকে নামে, ধ্যানে ও জ্ঞানে সর্বদা কৃষ্ণের প্রতি তার অকুন্ঠ ভক্তি অন্যদিকে সনাতন ধর্মের জ্ঞান ও সেবা বিতরন করতেন ফলে অল্পদিনের মধ্যেই রামদাস হয়ে ওঠেন সমাজের একজন সমাজ সংস্কারক। ষোড়স শতাব্দির শেষ দিকে ধর্ম প্রচারের জন্য এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হিন্দুজাতির (বিশেষ করে বৈঞ্চব শ্রেণীর) বিভিন্ন অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিলে তথাকথিত ব্রাহ্মণ সমাজ রামদাসকে সমাজচূৎ করেন। রামদাস নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন অঞ্চল ও তীর্থ ঘুরে লোহাগড়ার নবগঙ্গা নদীর তীরে লক্ষ্মীপাশা গ্রামে এসে ছায়া সুশীতল পরিবেশে কুটির বেঁধে বসবাস শুরু করেন। তখন এখানকার হিন্দুদের মধ্যে গুরুতর ভেদাভেদ ছিল।

 

রামদাশের ধর্মপ্রীতি, চিন্তাচেতনা, কৃষ্ণভক্তি দেখে এখানকার ব্রাহ্মণ সহ অনেক নমঃশুদ্র সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের আগমন ঘটতো। তাদের দুঃখের কথা ও সমাজের ভেদাভেদের কথা শুনে কৃষ্ণভক্ত রামদাস ব্যাথিত হতেন, দুঃখ পেতেন এবং নমঃশুদ্রদের সাথে মিলেমিশে বসবাস ও খাওয়া দাওয়া করতেন ফলে ঐ সম্প্রদায়ের লোকজন রামদাশের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সুন্দর একটি বসতগৃহ তৈরী করে দেয়। এতে এখানকার ব্রাহ্মণরা ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষ্ণভক্ত রামদাসকে একঘরে করেন ও তার সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। কৃষ্ণভক্ত রামদাসের একটি পুত্রসন্তান চন্দ্রমোহন জন্মনেয় ও বড় হতে থাকে। একসময় চন্দ্রমোহন শিক্ষাদীক্ষায় বড় হয়ে
বিয়ের উপযুক্ত হলে কোন ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ই তার সাথে নিজের মেয়েটিকে বিয়ে দিতে রাজি হয় না বলে কৃষ্ণভক্ত রামদাস মনে মনে অনেক কষ্ট পান এবং চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের ভিতর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বপ্নে রামদাসকে ''বলেন
তোমার শিষ্য যজ্ঞেশ্বরের (শুদ্র পরিবার) কন্যা রাজলক্ষীর সাথে চন্দ্রমোহনের বিবাহ দাও'' স্বপ্নের আদেশ শুনেই কৃষ্ণভক্ত রামদাস অতিব্যস্ত হয়ে পড়েন ও ভগবানের আদেশ মাথায় নিয়ে শুদ্রকন্যার রাজলক্ষীর সাথেই চন্দ্রমোহনের বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা করেন। এ বিয়ে দেওয়া দেখে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় ক্ষেপে যায় ও কৃষ্ণভক্ত রামদাসকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। কৃষ্ণভক্ত রামদাস ভগবানের উপর বিচারের ভার দিলে জনৈক আঘাতকারী কানেশোনা ও চোখে দেখা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর পরেই কৃষ্ণভক্ত রামদাস ইহলোক ত্যাগ করলে চন্দ্রমোহন ও নমঃশুদ্র গ্রামবাসী মিলে যেখানে মৃতদেহ সংকার করেন সেখানেই প্রায় ৪০০বছর আগের আজকের লক্ষীপাশা কালিবাড়ি স্থাপিত হয় এবং একটি জাগ্রত মা কালি মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

তখন থেকেই লাখো ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করে আসছে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার লক্ষীপাশা কালিবাড়ি নাম নিয়ে আজো দাড়িয়ে আছে। রামদাশের পর সপ্তম পুরুষ হিসাবে আজকের মহাপুরুষ শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আর্বিভাব হয় ওড়াকান্দির শাপলীডাঙ্গায়। এই হলো একটি জাগ্রত কালি মন্দিরের আদি ইতিহাস।

নি এম/সুকেন্দু