eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২০, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আপনার করণীয়
আপডেট: ০৬:৩২ pm ১৮-০৫-২০১৮
 
 


রজত পাল

বাসে লোকের ভীড় দেখে একজন নারী নিশ্চিন্তে বাসে উঠে গেল। কিছুক্ষণ পর দেখল যাত্রীরা একের পর এক নেমে যাচ্ছে, কোথাও আবার বাসের হেলপার ইচ্ছাকৃত ভাবেই নতুন করে যাত্রী নিচ্ছে না অথবা আগের যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। হয়তো এ ঘটনা তার কাছে স্বাভাবিক লাগতেই পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না অপ্রীতিকর কোনোকিছুর সম্মুক্ষীন হচ্ছে। যখন তার খেয়াল হলো যে অস্বাভাবিক কিছু চলছে কিংবা বাসের লোকগুলোর হাবভাব ভালো ঠেকছে না এবং তৎক্ষণাৎ বাস থেকে সে নেমে যাবার চেষ্টা করবে ঠিক তখনই দেখতে পেল মানুষের অদ্ভুত পরিবর্তন। বাসের হেলপার গেট আগলে রেখেছে অথবা গেট লক করার চেষ্টা করছে, এমনকি ড্রাইভারও গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে অথবা গন্তব্যের দিক পরিবর্তন করছে। তখন করণীয় কি হতে পারে সেটা ঠিক করাটা একজন নারীর পক্ষে অগ্নিপরীক্ষার সমতুল্যই মনে হয়। মাত্র কয়েকটি উপায় থাকে আত্মরক্ষা করার। প্রথমত, ড্রাইভারকে গাড়ি থামানোর কথা বলা, দ্বিতীয়ত হেলপারকে পাশ কাটিয়ে বাসের গেট পর্যন্ত যাওয়া আর সর্বশেষ চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে আত্মরক্ষা করা।

যেসব নারীরা এই ধরণের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পোস্ট ও কয়েকটি মামলার বয়ান থেকে উপরের দৃশ্যপটটি পাওয়া যায়। আর আমাদের অবাক হতে হয় যে বাসের চালক ও হেলপারেরা কতটা সুচারুভাবে এই ঘৃণিত কাজটি করে। কিন্তু এই ঘটনাগুলোকে আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। বাসে অবস্থানকালীন সময়ে যদি এমন কোনো ঘটনার ইঙ্গিত বুঝতে পারেন তবে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার কিছু একটা করণীয় নির্ধারণ করতেই হবে। আর উত্তেজিত বা অধিক ভীত হয়ে এমন কিছু করা উচিত না যা আপনার বিপদকে আরো বাড়িয়ে দেবে। আপনি যদি ড্রাইভারকে বাস থামাতে বলেন তাহলে পরিবহণ শ্রমিকরা বুঝে যাবে আপনি কিছু টের পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তারা আপনার কথা নাও শুনতে পারে যেরকমটা আমরা সম্প্রতি ঘটনাগুলোতে লক্ষ্য করেছি। আরো বেশি ভয়াবহ ঘটনা হচ্ছে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেওয়া। বাস থেকে লাফ দেওয়ার সময় আপনি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

৯৯৯ জরুরি সেবা বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে যেখানে জরুরি পুলিশ, জরুরি ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি এ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করা হয়। দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে যে কোন ব্যক্তি ৯৯৯ কল করার মাধ্যমে এ সকল জরুরি সেবা গ্রহন করতে পারবেন। ৯৯৯ টোল ফ্রি নাম্বার। অর্থাৎ এই নাম্বারে কল করার জন্য আপনাকে কোন টাকা খরচ করতে হবে না। আপদকালীন সময়ে যদি আপনার কাছে কোনো থানা কিংবা ওসিদের নাম্বার না থাকে সেক্ষেত্রে ৯৯৯ নাম্বারে কল নাম্বারে কল দিয়ে আপনার বর্তমান অবস্থা ও কোন রুটে আছেন কিংবা কোনদিকে বাসটি যাচ্ছে তা জানিয়ে দিতে পারেন। তাছাড়াও আপনি নিয়মিত যেসব রুটে যাতায়াত করেন কিংবা নতুন কোনো রুটে যাতায়াতকালে সে রুটের নিকটস্থ থানার কর্মকর্তাদের মোবাইল নাম্বার অবশ্যই নিজের সংগ্রহে রাখুন। কেননা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে এসব নাম্বার আপনার কাজে দেবে। যেকোনো অন্যায় প্রতিহত করতে আপনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নিতে পারবেন।

আপনাদের সুবিধার্থে ডিএমপি, ঢাকার আওতাধীন থানা গুলোর ওসিদের মোবাইল নাম্বার দেওয়া হলো- ১। ওসি রমনা- ০১৭১৩৩৭৩১২৫, ২। ওসি ধানমন্ডি- ০১৭১৩৩৭৩১২৬, ৩। ওসি শাহাবাগ- ০১৭১৩৩৭৩১২৭, ৪। ওসি নিউ মার্কেট- ০১৭১৩৩৭৩১২৮, ৫। ওসি লালবাগ- ০১৭১৩৩৭৩১৩৪, ৬। ওসি কোতয়ালী- ০১৭১৩৩৭৩১৩৫, ৭। ওসি হাজারীবাগ- ০১৭১৩৩৭৩১৩৬, ৮। ওসি কামরাঙ্গীরচর- ০১৭১৩৩৭৩১৩৭, ৯। ওসি সুত্রাপুর- ০১৭১৩৩৭৩১৪৩, ১০। ওসি ডেমরা- ০১৭১৩৩৭৩১৪৪, ১১। ওসি শ্যামপুর- ০১৭১৩৩৭৩১৪৫, ১২। ওসি যাত্রাবাড়ী- ০১৭১৩৩৭৩১৪৬, ১৩। ওসি মতিঝিল- ০১৭১৩৩৭৩১৫২, ১৪। ওসি সবুজবাগ- ০১৭১৩৩৭৩১৫৩, ১৫। ওসি খিলগাও- ০১৭১৩৩৭৩১৫৪, ১৬। ওসি পল্টন- ০১৭১৩৩৭৩১৫৫, ১৭। ওসি উত্তরা- ০১৭১৩৩৭৩১৬১, ১৮। ওসি এয়ারপোর্ট- ০১৭১৩৩৭৩১৬২, ১৯। ওসি তুরাগ- ০১৭১৩৩৭৩১৬৩, ২০। ওসি উত্তরখান- ০১৭১৩৩৭৩১৬৪, ২১। ওসি দক্ষিনখান- ০১৭১৩৩৭৩১৬৫, ২২। ওসি গুলশান- ০১৭১৩৩৭৩১৭১, ২৩। ওসি ক্যান্টনমেন্ট- ০১৭১৩৩৭৩১৭২, ২৪। ওসি বাড্ডা- ০১৭১৩৩৭৩১৭৩, ২৫। ওসি খিলক্ষেত- ০১৭১৩৩৭৩১৭৪, ২৬। ওসি তেজগাও- ০১৭১৩৩৭৩১৮০, ২৭। ওসি তেজগাও শি/এ- ০১৭১৩৩৭৩১৮১, ২৮। ওসি মোহাম্মদপুর- ০১৭১৩৩৭৩১৮২, ২৯। ওসি আদাবর- ০১৭১৩৩৭৩১৮৩, ৩০। ওসি মিরপুর- ০১৭১৩৩৭৩১৮৯, ৩১। ওসি পল্লবী- ০১৭১৩৩৭৩১৯০, ৩২। ওসি কাফরুল- ০১৭১৩৩৭৩১৯১, ৩৩। ওসি শাহ আলী- ০১৭১৩৩৭৩১৯২।

আপনি কারো সাথে যোগাযোগ করছেন এ ব্যাপারটি পরিবহণ শ্রমিকদের বুঝতে দেওয়া যাবে না। যথেষ্ট সাবধানতা ও উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগ করে যেমন নিজেকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবেন তেমনি সেসব অপরাধীদেরও ছাড় দেবেন না। আপনার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে প্রকাশ করুন। এতে করে আপনার অভিজ্ঞতা আরো অনেক মানুষকে যৌন হয়রানির মতো অপরাধের কবল থেকে রক্ষা করবে। সাবধানে থাকুন, সচেতন থাকুন।

লেখক: শিক্ষার্থী
সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
rojatpal10@gmail.com