eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
যুদ্ধ ব্যবসায় জড়িয়ে যাচ্ছে গুগল
আপডেট: ১২:৪৪ pm ১৯-০৫-২০১৮
 
 


তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গুগল যে সেরার মাঝে সেরা বৃহৎ কোম্পানি তা অবশ্যই বলার অপেক্ষা রাখেনা। ঠিক যেমন বলার অপেক্ষা রাখেনা বিশ্বজুড়ে শতশত কোটি মানুষের তথ্য গুগলের সার্ভারগুলোতে জমা আছে। সাম্প্রতিক সময়ে গুগল যখন পেন্টাগনের একটি প্রকল্পে যোগ দিয়েছে তখন স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়িক এবং মানবিক নৈতিকতার বিষয়টিও মুখ্য হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন করা যেতেই পারে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রধান কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন নেটওয়ার্ক, এর উচ্চ-মেধাবী সম্পন্ন প্রকৌশলী এবং ব্যবহারকারীদের লক্ষ কোটি ব্যক্তিগত তথ্যের ভাণ্ডার নিয়ে গুগল কি সামরিক প্রকল্পে অংশগ্রহন করতে পারে? বিশেষত ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’ নামের পেন্টগনের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য যখন স্ব-নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র তৈরি করা, যা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে আঘাত হানতে সক্ষম। গুগলের সরবরাহ করা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাকে সামরিক ড্রোনে সংযুক্ত করতে চায় পেন্টাগন। সর্বোপরি, এই মুহূর্তে যখন প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার কর্মী সামরিক অস্ত্র তৈরিতে তাদের উদ্ভাবিত জ্ঞান প্রয়োগের প্রতিবাদ জানাচ্ছে, ঠিক তখন গুগলের পক্ষে এই প্রজেক্টে জড়িত থাকা কতটুকু নৈতিক মুল্যবোধসম্পন্ন সিদ্ধান্ত!

সামরিক ও বেসামরিক প্রযুক্তিখাত বিষয়ক বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন গিজমোডো জানায়, এই সপ্তাহেই গুগলের অন্তত এক ডজন সিনিয়র কর্মী এমন সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়াও আরো ৩,১০০ গুগল কর্মী পেন্টাগনের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে একটি আভ্যন্তরীণ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তবে, দ্য উইক জানায় এই সংখ্যা ৪,০০০ এর কাছাকাছি। এছাড়াও প্রযুক্তিখাতের বিশ্বসেরা ৭০০ গবেষক এবং অধ্যাপক গুগলকর্মীদের এমন সিদ্ধান্তকে দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাদের সকলেরই দাবী, মানুষের অকল্যাণ সাধন করে এমন যুদ্ধ ব্যবসায় গুগলের নিজেকে জড়িয়ে ফেলা উচিৎ হবেনা। এছাড়াও, এই সকল বিজ্ঞানী ও শিক্ষক বিশ্বব্যাপী একটি আইন প্রনয়নের কথা বলেছেন যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে। তারা গুগলকেও এই আইন-প্রনয়নে সমর্থন দেবার আহ্বান  জানিয়েছেন।

প্রজেক্ট ম্যাভেনে গুগলের জড়িত হবার অনৈতিক দিকটি সম্পর্কে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা দিতে গুগল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের ব্যক্তিগত ছবি, ক্যালেন্ডার ও সময়সূচীতে গুগলের অবাধ বিচরন রয়েছে। প্রজেক্ট ম্যাভেনে গুগল শুধু পরামর্শক হিসেবেই কাজ করছেনা বরং সে তার নিজস্ব তথ্য ভাণ্ডারকেও পেন্টগনের ব্যবহারের স্বার্থে নিয়োজিত করার চেষ্টা করছে।

ইতোমধ্যেই, মধ্যপ্রাচ্যে প্রজেক্ট ম্যাভেন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের বিশ্লেষণী ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রোন মোতায়েন করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েকটি ড্রোন পুরো একটি শহরের উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে পারবে। তবে একই সময়ে এই প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোনগুলি কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে তার উপর হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি করে দেবে।

তবে সাম্প্রতিক এই পদত্যাগ এবং আবেদনপত্র সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গুগলের একজন মুখপাত্র এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে জানান, প্রজেক্ট ম্যাভেন সঠিক মানুষের চেহারা শনাক্ত করতে সহায়তা করে বেসামরিক নাগরিকদের প্রানহানি কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। দ্য গার্ডিয়ান/ দ্য উইক

বিডি