eibela24.com
সোমবার, ১০, ডিসেম্বর, ২০১৮
 

 
ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি বাহিনী তৈরি করছে হাফিজ-লকভিরা
আপডেট: ০৯:০৭ am ২৯-০৫-২০১৮
 
 


মুম্বাই হামলার রেশ এখনও টাটকা৷ হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদ, জাকির-উর-রেহমান লকভিরা ভারতের উপর অনবরত হামলার ছক কষছে৷ তাই ভারতের বিরুদ্ধে বাহিনী তৈরি করতে বেছে নিচ্ছে ১৫ থেকে ২০ বছরের তরুণদের৷ 

পুলিশি জেরায় এই তথ্য দিয়েছে ধৃত জেইডি (জমাত উদ দাওয়া) জঙ্গি জবিউল্লাহ ও ওরফে হামজা৷

জমাত উদ দাওয়ার দীর্ঘদিনের সদস্য হামজা জেরায় জানায়, বেছে বেছে ১৫-২০ বছরের তরুণদের নিযুক্ত করা হয়৷ মাসিক বেতনের পরিবর্তে তারা জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখায়৷ পাকিস্তানে রীতিমত প্রচার, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তরুণদের জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে উৎসাহিত করে জমাত-উদ-দাওয়া৷ বরবারই জমাত-উদ-দাওয়াকে সমর্থন করেছে পাকিস্তান৷ বার বারই প্রমাণ হয়েছে পাক প্রশাসনের সরাসরির মদত পাচ্ছে লকভিরা৷ সেই কারণেই জঙ্গি প্রশিক্ষণে বিশেষ জোর দেয় জেইউডি৷ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ খতিয়ে দেখতে ক্যাম্পে যায় আইএসআই কর্মকর্তারা৷ মাঝে মাঝে হাফিজ সঈদও প্রশিক্ষণ খতিয়ে দেখতে আসেন৷ 

হামজা জানাচ্ছে, ২০১৭-র জানুয়ারীতে পাকিস্তানের দাইকেন ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দেখতে আসেন সঈদ৷ সেই ক্যাম্পে হামজাও ছিল৷ আলিঙ্গন করে হামজাকে ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কথা বলে সঈদ৷

হামজার দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, মোট ৭ স্তরীয় দল নিয়ে জামাত উদ দাওয়া৷ শীর্ষে হাফিজ সঈদ-দলে তার নাম আমির সাহেব৷ হাফিজের অধীনেই বাকি ৬ স্তরীয় কর্মী৷ রয়েছে প্রশিক্ষক যারা মাসুল নামে পরিচিত, তার নীচে জঙ্গি নিয়োগকারী পদ মাকরোসা৷ জোনাল, জেলা, শহর, শহরতলি থেকে জঙ্গি নিয়োগ করা হয়৷ জঙ্গিদের লস্কর-এ-তোয়েবার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লাহোরে মুরিদকে নিয়ে যাওয়া হয়৷ জেরায় জঙ্গিদের মোট ৬টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কথা জানায় হামজা৷ ৬টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র একসঙ্গে মাসকারস নামে পরিচিত৷

প্রশিক্ষণে সবরকম অস্ত্র পরিচালনা বা শারীর শিক্ষা থাকলেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোবাইলে জঙ্গিদের পারস্পরিক যোগাযোগের প্রশিক্ষণ৷ মোবাইলের যে চিপ দিয়ে এই যোগাযোগ স্থাপন হয়, তা নিরাপত্তারক্ষীরা ট্র্যাক করে ফেললে নিজে থেকেই মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়৷

চলতি বছরের ২০ মার্চ কুপওয়ারায় সন্ত্রাসদমন শাখার হাতে ধরা পড়ে জঙ্গি৷ দীর্ঘ জেরার পর জমাত-উদ-দাওয়ার অজানা তথ্য সামনে আনে হামজা৷ নতুন করে আবার জঙ্গি নিয়োগ করছে লকভিরা৷ সাত স্তরেই নজর রাখা হচ্ছে ভারতের উপর৷ জঙ্গিকে জেরা করে পাওয়া তথ্যকে তাই গুরুত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দারা৷


বিডি