eibela24.com
রবিবার, ১৮, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ মুক্ত
আপডেট: ১১:১৪ am ৩১-০৫-২০১৮
 
 


যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নব্বইয়ের দশকের শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেয়েছেন।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান। এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠক করেন। 

জোসেফ এখন কোথায়- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোসেফের যে প্রসঙ্গটা, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। তিনি অলরেডি ২০ বছর কারাভোগ করেছেন। ২০ বছর কারাভোগের পরই তিনি ডিউ প্রসেসে, যেভাবে প্রসেস হয় সেভাবে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনটি মাহামান্য (রাষ্ট্রপতি) পর্যন্ত যাচ্ছে।’ জোসেফ ভারতে চলে গেছে- একজন সাংবাদিক জানাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি দেখেছেন নাকি।’ ওই সাংবাদিক তখন বলেন, ‘আমি দেখিনি। পত্রিকায় খবর এসেছে।’ জোসেফ জেলে আছে নাকি বেরিয়ে গেছে- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি (জোসেফ) আবেদন করেছিলেন, ভয়ানক অসুস্থ, সাজা এক বছর না দেড় বছর বাকি ছিল, এক বছর কয়েক মাস। সেটার জন্য তিনি মার্সি পিটিশন (ক্ষমা প্রার্থনা) করেছিলেন, সেটি খুব সম্ভব রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেছেন। তার কিছু অর্থদণ্ডও ছিল। সেগুলো আদায় সাপেক্ষে তাকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। এটুকু আমি জানি, এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। 

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা হত্যা মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০০৪ সালের ২৫ মে এক রায়ে আসামি জোসেফ ও মাসুদ জমাদারকে ফাঁসি এবং কাবিল সরকার, আনিছ আহমেদ এবং জোসেফের ভাই হারিছ আহমেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে জোসেফ, মাসুদ ও কাবিল। আসামি আনিছ ও হারিছ শুরু থেকেই পলাতক। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখেন। অপর ফাঁসির আসামি মাসুদ জমাদার খালাস পায়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে আপিল করে জোসেফ ও কাবিল। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর জোসেফের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এছাড়া মামলার অপর আসামি কাবিল সরকারের আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেন সর্বোচ্চ আদালত।

জোসেফ এক সময় ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়ে মোহাম্মদপুর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। নব্বইয়ের দশকের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সে। বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ওয়াদুদ আহমেদের ছোট ছেলে তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বড় ভাই হারিস আহমেদের নামও রয়েছে পুলিশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায়। হারিস বর্তমানে পলাতক। নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় তাদের আরেক ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু। 

১৯ বছর আগে জোসেফের নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র বহনের অভিযোগে কমপক্ষে ১১টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ব্যবসায়ী মোস্তফা হত্যা মামলা ছাড়া বাকিগুলোর নিষ্পত্তি হয় ২০১৫ সালের অনেক আগেই। 

নি এম/