eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের সুফল না পেয়ে ৪৫ ভাগ সংখ্যালঘু ক্ষতিগ্রস্ত: রানা দাশ গুপ্ত
আপডেট: ০৫:২৫ pm ০৭-০৬-২০১৮
 
 


হাইকোর্টের রায়ের পরেও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের সুফল না পাওয়ায় দেশের ৪৫ ভাগ সংখ্যালঘু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে আইনের বাস্তবায়ন চাইলেও একটি মহল এই জাতীয় সমস্যার সমাধান না করে অহেতুক বিলম্বের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য ও অর্জনকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র করছে।

গতকাল বুধবার সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে “অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন-২০০১ ও মহামান্য হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়” শীর্ষক এক জাতীয় আলোচনা সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত একথা বলেন। 

কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (সিডিএ) ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এবং ভূমি অধিকারে দেশব্যাপী কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এএলআরডির সহযোগিতায় এ আলোচনা সভ অনুষ্ঠিত হয়।  সিডিএ’র নির্বাহী পরিচালক শাহ-ই মবিন জিন্নাহর সভাপতিত্বে জাতীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. আ ন ম আবদুছ ছবুর। এতে আলোচক জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ শামসুল আযম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুবুর রহমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এসএম রেজাউল করিম এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের বিভিন্ন দিক এবং হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের নির্দেশনাসহ উল্লেখযোগ্য অংশ উপস্থাপন করেন।

এ্যাডঃ রানা দাশ গুপ্ত বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমতা ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে সর্বধর্ম ও সর্বশ্রেণীর জনগণের অধিকার রক্ষা করা। ৬৫ সালের শত্রু সম্পত্তি আইন ছিল পাকিস্তানদের ষড়যন্ত্র আর হিন্দুদের সম্পত্তি গ্রাসের চক্রান্ত। পৈত্রিক ও পূর্ব পুরুষের জমি ও সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার ন্যায়সঙ্গত ও বিচার ভিত্তিক অধিকারের মাধ্যমে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পনের ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়ার পরেও চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি ফেরত দেয়া হচ্ছে না। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। এটা একটি জাতীয় সমস্যা। কোন সম্প্রদায় অন্যায় ও অবিচারের শিকার হতে পারে না।

আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, সম্পত্তি ফেরতের জন্য সারাদেশে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার আবেদন জমা পড়লেও ট্রাইব্যুনাল তা ধীরগতিতে নিস্পত্তি করছে। দিনাজপুরে ১৪৭১টি আবেদনের মধ্যে মাত্র ৫৯টি আবেদনের নিস্পত্তি হলেও সম্পত্তি প্রত্যর্পণ হয়েছে কি না তা ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করা হয়নি।

নি এম/