eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২২, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
সুনামগঞ্জে কোনো উৎসবেই দলিতদের ডাকা হয় না
আপডেট: ০৭:০৪ pm ১২-০৬-২০১৮
 
 


সমাজের পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনগোষ্ঠী হরিজন বা দলিত সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। অথচ এই দলিত সম্প্রদায়ের লোকজনই রাস্তা-ঘাট, নর্দমা পরিস্কারসহ সমাজের উঁচু-শ্রেণির লোকজনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেন। কিন্তু এই সমাজের লোকজন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সাথে খাপ খাইয়ে চলার পরিবেশ পাচ্ছে না। তাদের ডাকা হয় না বাঙালিদের কোনো উৎসবে।

বর্তমান সমাজ, রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি উৎসবে সকল শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ গ্রহণ করলেও দলিত বা হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনদের ডাকা হয় না। শতাধিক দলিত পরিবার যুগযুগ ধরে সুনামগঞ্জ শহর এলাকায় বসবাস করলেও বাঙালি সকল উৎসবে থেকে দূরে থাকে। 

সুনামগঞ্জ শহরের উত্তম লাল কলোনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী বিজয় লাল বেগী (৬৫) বলেন, পাকিস্তান আমলে আমার জন্ম। কিন্তু আমরা এখনও অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত রয়ে গেলাম। ব্রিটিশ আমল থেকেই আমাদের পরিবার ছোট্ট ঘরেই বসবাস করছে। আমরা সমাজের উঁচুশ্রেণির লোকজনের সুবিধার্থে সকল ছোট কাজ করছি। কিন্তু বাঙালি কোনো উৎসবে আমাদের ডাকা হয় না। আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা দেয়া হয় না। বাঙালি সকল উৎসবে দলিতদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও দলিতদের নিজস্ব সংস্কৃতি পালনে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সৃষ্টির জোর দাবি জানান পিছিয়ে পড়া সমাজের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি এই কর্মচারি। 

সুনামগঞ্জ জেলা হরিজন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু বাল্মিকী বলেন, আমরা হিন্দুদের ন্যায় সকল পূজা পার্বণ পালন করি। বাংলাদেশে বসবাস করি, বাঙালি জাতি হিসেবে দেশের অন্য নাগরিকদের মতো উৎসবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয় না আমাদের।

তিনি আরও বলেন, আমরা মাঘ মাসে সরস্বতী পূজার পর গুরু নানকের শ্রী পঞ্চমী উৎসব করি। এটিই আমাদের সমাজের বড় উৎসব ও সংস্কৃতি। কিন্তু এসব অনুষ্ঠানে আমরা সরকারি কোনো অর্থ সহায়তা পাইনি। 

থিয়েটার সুনামগঞ্জ এর দলনেতা এনটিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সব জনগোষ্ঠিকে নিয়েই বাঙালি জাতি ও সবার সংস্কৃতির সম্মিলিতভাবেই বাঙালি সংস্কৃতি। কাউকে বাদ দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির উৎসব হতে পারে না। ভালো মানের সার্বজনীন সংস্কৃতি চাইলে সমাজের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, দলিত বা হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনকে বাদ দিয়ে সমাজের উঁচু, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করছেন।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন নানাভাবে বর্তমান সমাজ থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। মানুষ হিসেবে তাদের সবকিছুর অধিকার রয়েছে বাঙালি সকল উৎসবে অংশগ্রহণ ও তাদের নিজেদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি পালনের। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বিকাশ ও লালনে সরকারিভাবে সহায়তা করা প্রয়োজন। 

সুনামগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল বলেন, দলিত বা হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের সংস্কৃতি পালনে ও সংস্কৃতির বিকাশে আমাদের পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার প্রয়োজন আমরা তা করার চেষ্টা করবো। তবে তাদের সংস্কৃতি বা উৎসব পালনে সরকারিভাবে সহায়তা করা প্রয়োজন।

লেখক- সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক আমাদের সময়, বার্তা সম্পাদক দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর, দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য।


বিডি