eibela24.com
শনিবার, ২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
আওরঙ্গজেবের আদেশে ধ্বংস করা হয়েছিল বিশ্বনাথ মন্দির
আপডেট: ০৯:৫০ pm ১৫-০৬-২০১৮
 
 


ইতিহাসের পাতায় আজও দেখা যায়, আওরঙ্গজেবের কাহিনী। সে ছিল দুর্ধষ এবং কেউটা সাপ। তার পিতার শাহজাহান ছিল আরও ভয়ানক। শাহজাহান তার রাজত্ব কালে হিন্দুদের প্রতি অত্যাচার, অনাচার করেছে তার প্রমানও রয়েছে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। কট্টরপন্থি সাম্রাজ্যবাদের শাসনকর্তা শাহজাহানের আমল শেষ হলেই সিংহাসনের আরোহণ করে তার পুত্র আওরঙ্গজেব।
 
আওরঙ্গজেব ক্ষমতায় বসেই হিন্দু নির্যাতনের জন্য আরও কঠোর নীতি ঘোষনা করলেন। তিনি জিজিয়া কর পুনঃ প্রবর্তন করলেন। উদয়পুর ও চিতোর অধিকার করে দুই’শ এর অধিক দেব মন্দির ধ্বংস করলেন। শিখ গুরু তেগ বাহাদুর আওরঙ্গজেবের হিন্দু বিরোধী নীতি অমান্য করেন এবং কাশ্মীরের ব্রাহ্মণদের ‏আওরঙ্গজেব প্রবর্তিত হিন্দু বিরোধী নীতি অমান্য করতে উপদেশ দেন। এ জন্য আওরঙ্গজেবের সম্মূখে উপস্থিত করা হল এবং মৃত্যুভয় দেখিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বলা হলে তিনি ধর্ম ত্যাগ অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয় বিবেচনা করলেন। সম্রাটের আদেশে তৎক্ষনাত তাকে হত্যা করা হল। পাঞ্জাবের বর্তমান পাতিয়ালা ও মেওয়াট অঞ্চলে ‘সৎনামী’ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাস ছিল। একজন মুসলমান সৈন্য একজন সৎনামী ভক্তকে হত্যা করলে সৎনামীরা বিদ্রোহী হয়, ফলে আওরঙ্গজেবের বাহিনী সৎনামী হিন্দুদের প্রায় সকলকে হত্যা করেন।

আরঙ্গজেবের সমসাময়িক মুসলমান লিপিকার সাকি মুস্তাইদ খা লিখেছেন, “১০৭৯ হিজরী ১৭ই জিলকদ (১৮ এপ্রিল, ১৬৬৯) সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে খবর পৌছালো যে, থাট্টা সুলতান বিশেষ করে বারানসীর মুর্খ‏ ব্রাহ্মণদের মোটা মোটা ছেঁড়া গ্রন্থ থেকে কি সব জংলী তত্ত্ব ছাত্রদের শিক্ষা দিচ্ছে। কাফের হিন্দুদের সঙ্গে কিছু মুসলমান ছাত্র ও সেখানে এসব ছাই ভস্ম শিখতে যাচ্ছে। এমনকি বহু দূর দেশ থেকেও বহু ছাত্র ওসব ডাকিনী বিদ্যা শিখতে বারানসীতে উপস্থিত হচ্ছে। এ খবর শোনা মাত্র ধর্মের দিক নির্দেশকারী সম্রাট এক হুকুম জারী করে বললেন, সমস্ত প্রদেশের শাসনকর্তারা যেন স্বেচ্ছা প্রণোদিত ভাবে কাফেরদের মন্দির ও বিদ্যালয়সমূহ ধ্বংস করে দেন। এই মর্মে তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে যে, তারা যেন মূর্তি পূজা এবং এই ধরনের শিক্ষা কেন্দ্র গুলোকে চিরকালের জন্য স্তব্ধ করে দেন। পরবর্তী রবিউল আউয়াল মাসের ১৫ তারিখে সম্রাটের কাছে খবর এলো যে, সম্রাটের আজ্ঞানুসারে সরকারী কর্ম কর্তারা বেনারসের বিশ্বনাথ মন্দির ধ্বংস করেছে।”

সাকি মুস্তাইদ খা আরও লিখেছেন, “১০৮০ হিজরীর রমজান মাসে (ডিসেম্বর, ১৬৬৯ খৃঃ) সম্রাটের রাজত্বকালের ত্রয়োদশ বছরে অত্যাচারীদের (হিন্দুদের) অবিচল শত্র“ ও ন্যায় বিচারের অনুরাগী সম্রাট (আরঙ্গজেব) ডেরা বসুরায় নামে পরিচিত মথুরার হিন্দু মন্দিরটি ধ্বংস করতে আদেশ দিলে অনতিবিলম্বে মেকী ধর্মের সুদৃঢ় ঘাটি মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হল। ঠিক সেই জায়গাতেই বহু টাকা ব্যয় করে এক বিশাল মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হল।

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হল আজও মথুরায় গেলে দেখা যাবে যে, সাবেক মন্দিরের ধ্বংস বা ধূলিস্যাৎ করা হয়নি; শুধু তাকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়েছে মাত্র। ঠিক তেমনি পূর্ববর্তী বিবরণে কাশিতে বিশ্বনাথ মন্দির ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে; কিন্তু আজও কাশীতে গেলে দেখা যায় যে, ধ্বংস করার নামে তাকে শুধু মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়েছে মাত্র। এসব ঘটনা ও তার বিবরণ থেকে এই সিন্ধান্তেই আসতে হয় যে, এই সব বিবরনে যেখানেই মন্দির ধ্বংস করার কথা আছে, সে সমস্ত ক্ষেত্রেই মন্দিরকে মসজিদে রূপান্তর বুঝতে হবে। 

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ঘোষনা-যদি কোনো গবেষক উপরোক্ত তথ্যাবলীর মধ্যে একটিও ভুল বলে প্রমান করতে পারেন, তাহলে আমরা তার কাছে চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।”
 
সূত্র- বিশ্ব হিন্দু পরিষদ 


বিডি