eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
কুতুবদিয়া থানার সাবেক ওসি দূর্ণীতির মামলায় কারাগারে
আপডেট: ০৬:২৬ pm ১৯-০৬-২০১৮
 
 


কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার সাবেক ওসি ফেনী জেলা পিবিআই’এর ইনস্পেক্টর ও মোঃ আলতাফ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্ণীতির অভিযোগে কারাগারে পাঠিয়েছে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের একটি মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানায় আদালতে হাজিরা দিলে মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় তাকে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম।

দূদক সূত্র জানা যায়, ২০১৪ সালের ২০ জুলাই তৎকালীন কুতুবদিয়া থানার ওসি আলতাফ হোসেন ও এসআই এবি.এম কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ঘুষ গ্রহন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্ণীতির দায়ে মামলা করে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ছিন্নি খাইয়ার পাড়া এলাকার ইস্কান্দার মির্জার স্ত্রী জামিলা আকতার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে  ২০১৪ সালের ১৮ জুন সকালে  ছিন্নি খাইয়ার পাড়ায়  মৃত নজির আহম্মদ এর ছেলে উপজেলার ভূমি অফিসের কর্মচারী ফরিদুল আলমকে হত্যা করে তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ডেজি ও ছেলে অহিদুল আলম (রিয়াদ)। এ ঘটনায় নিহতের মা নুর জাহান বেগম বাদী হয়ে মামলা করতে গেলে কুতুবদিয়া থানার ওসি আলতাফ হোসেন এক লক্ষ টাকা দাবী করে। ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় এস.আই এবি.এম কামাল উদ্দিনের মাধ্যমে আলতাফ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা দেয় ওই বৃদ্ধা।কিন্তু ওসি আলতাফ হোসেন নুরজাহানের দায়ের করা এজাহারটি আমলে নেয়নি। উল্টো নিহতের ছেলে মোহাম্মদ তৌহিদুল আলমের নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করে  একটি মামলা গ্রহন করে। যার কুতুবদিয়া থানার মামলা নং ১৫। জি আর নং ৭৫/১৪। ওই মামলায় নিহতের বৃদ্ধ মা নূর জাহান  নিহতের দুই ভাই ইস্কান্দর মির্জা মাহবুব আলমকে ও আসামী করা হয়। সেই মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল দুই ভাই। 

এনিয়ে ইস্কান্দর মির্জার স্ত্রী জামিলা আকতার বাদি হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে কুতুবদিয়া থানার ওসি আলতাফ ও এস আই এবিএম কামাল উদ্দিন কে আসামী করে মামলাটি দায়ের করে।

এবিষয়ে দুদকের পিপি এডভোকেট আবদুর রহিম জানান, বাদীনির লিখিত অভিযোগ পেয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন সাদিকুল ইসলাম তালুকদার মামলাটি আমলে নিয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২১০৭ সালের ১৫ মার্চ ওসি এবং এস আই দুইজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দেয় তদন্ত কর্মকর্তা অজয় ঘোষ। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে আদালতে আত্নসমার্পন করে ওসি আলতাফ হোসেন। 

তিনি আরো বলেন, ওসি আলতাফ আত্নসমার্পনের সময় সঙ্গে বাদীনিকে নিয়ে আসে। বাদী মামলাটি সামাজিকভাবে সুরাহা করা হয়েছে বলে আদালতে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে আদালত ওসি’র জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আর এই মামলার পরবর্তী শূনানী হবে আগামী ২৬ জুন।

নি এম/চঞ্চল দাশগুপ্ত