eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
ব্লাড ক্যান্সার কী?
আপডেট: ০৩:৪৮ pm ২০-০৬-২০১৮
 
 


মূলত লিউকেমিয়াকেই আমরা সাধারণভাবে ব্লাড ক্যান্সার বলে থাকি। ব্লাড ক্যান্সার হলো রক্ত কোষের ক্যান্সার। বিশেষ করে শ্বেত রক্ত কণিকার। রক্ত কোষ তৈরি হয় বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জায়। তৈরির পর কয়েকটি ধাপে কোষগুলি ম্যাচিউর হয়ে তারপর রক্ত প্রবাহে আসে। 

কোনো কারণে এই কোষগুলি অতিমাত্রায় উৎপাদিত হলে এবং ঠিকভাবে ম্যচিউর না হলে দেখা যায় রক্ত প্রবাহে প্রচুর অপরিপক্ক রক্ত কোষ এসে ঘুর ঘুর করে। এরা শরীরের কোন কাজে তো আসেই না উল্টো নানারকম উপসর্গ তৈরি করে। শ্বেত রক্তকণিকাগুলিই বেশি আক্রান্ত হয়।

ব্লাড ক্যান্সার কেন হয়?

কারণ নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। দীর্ঘদিন দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ মাত্রার রেডিয়েশন খেলে ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে। কেমিকেল বর্জ্য, রঙ এর কারখানা, ধূমপান, কীটনাশক ইত্যাদি কারণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ এক ধরণের ভাইরাসের কারণেও হতে পারে।

এসবের প্রভাবে শরীরের কোষাভ্যন্তরে যে জিন থাকে সেগুলোর মিউটেশন হয়। ক্রোমজমের বাহুগুলিতে কিছু ওলট-পালট হয়। তখন কোষ বিভাজনে কিছু উল্টাপাল্টা সিগন্যাল যায়। ফলশ্রুতিতে রক্ত কোষ ব্যাপক হারে উৎপাদিত হয় এবং সেগুলো পরিণত না হয়েই রক্ত প্রবাহে চলে আসে।

ব্লাড ক্যান্সার কি ছোঁয়াচে?
একদমই না। এটা রক্তবাহিত, যৌনবাহিত, পানিবাহিত এমন কিছুই না। রোগীর সাথে থাকলে, তাকে স্পর্শ করলে, খাবার খেলে, তার রক্ত গায়ে লাগলে, তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করলে এই রোগ ছড়াবে না।

লক্ষণ কী? কিভাবে বুঝবেন?

জ্বর, রক্ত শূন্যতা, ত্বকে র‌্যাশ, হাড়ে ব্যাথা, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত যাওয়া এইসব লক্ষণগুলি একসাথে দেখা দিলে সাবধান হয়ে যাবেন। সন্দেহ করতে পারেন যে আপনার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে।

কনফার্ম করব কী করে?

রক্তের ফিল্ম বা PBF পরীক্ষা করলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ বুঝা যায়। তবে নিশ্চিত হতে হলে বোনম্যারো পরীক্ষা করতে হবে। ফ্লো সাইটোমেট্রি বা ইমিউনোফেনোটাইপ সরকারি হাসপাতালে করা যায়। এগুলো হল নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা।

সাইটোজেনেটিক্স করা হয় রিস্ক এসেসমেন্টের জন্য। ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। রোগীর ভাল হবার সম্ভাবনা কতোটুকু, কি চিকিৎসা তার জন্য ভাল হবে এইসব।

নি এম/