eibela24.com
বুধবার, ১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৪৫তম প্রয়াণ দিবস আজ
আপডেট: ০৮:৫০ am ২৯-০৬-২০১৮
 
 


মাইকেল মধুসূদন দত্ত, অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার। বাংলার যুগপ্রবর্তক কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৪৫তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় পরলোকগমন করেন তিনি। 

১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারী যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জমিদার পিতা রাজনারায়ন দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবীর কোল আলোকিত করে সোনার চামচ মুখে নিয়ে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন।

প্রাকৃতিক অপূর্ব লীলাভূমি, পাখি ডাকা, ছায়া ঢাকা, শষ্য সম্ভারে সম্বৃদ্ধ সাগরদাঁড়ি গ্রাম আর বাড়ির পাশে বয়ে চলা স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষের সাথে মিলেমিশে শিশু মধুসূদন ধীরে ধীরে শৈশব থেকে কৈশোর এবং কৈশোর থেকে পরিণত যুবক হয়ে উঠেন। কপোতাক্ষ নদ আর মধুসূদনের দু’জনার মধ্যে গড়ে উঠে ভালবাসার এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।

মধুকবি যখন জন্মগ্রহণ করেন সে সময়ে আজকের এই মৃত প্রায় কপোতাক্ষ নদ কাকের কালো চোখের মত স্বচ্ছ জলের জোঁয়ার ভাটায় ছিল পূর্ণযৌবনা। নদের প্রশস্ত বুক চিরে ভেসে যেত পাল তোলা সারি সারি নৌকার বহর আর মাঝির কন্ঠে শোনা যেত হরেক রকম প্রাণ উজাড় করা ভাটিয়ালী গান। শিশু মধুসূদন এ সব অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখত আর মুগ্ধ হয়ে যেত। স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষের অবিশ্রান্ত ধারায় বয়ে চলা জলকে মায়ের দুধের সাথে তুলনা করে তাই কবি সুদুর ভার্সাই নগরে বসে রচনা করলেন বিখ্যাত সনেট কবিতা ‘কপোতাক্ষ নদ’। লিখলেন ‘সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে, সতত তোমারি কথা ভাবি এ বিরলে’। 

বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য। এছাড়াও তিনি পদ্মাবতী নাটক, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, একেই বলে সভ্যতা ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামের দুটি প্রহসন,  ব্রজাঙ্গনাকাব্য, কৃষ্ণকুমারী নাটক, বীরাঙ্গনা কাব্য ও চতুর্দশপদী কবিতাবলি রচনা করেন। এর পর থেকে তার প্রতিভা চারদিকে বিচ্ছুরিত হতে থাকে। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তিনি। তিনি ব্যারিস্টারিও করেছেন।
 

মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্ত ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার এক হাসপাতালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নি এম/