eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২০, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
আগস্টে নীহার রঞ্জন গুপ্তের বাড়িতে মিলন মেলার আয়োজন
আপডেট: ০৮:৫৩ pm ২৯-০৬-২০১৮
 
 


নড়াইলের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্তের বাড়ি নড়াইলের ইতনায় ৩ আগস্ট কবি ও সাহিত্যিকদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। 

জানা যায়, নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত স্মৃতি সংসদের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক ও ফোকলোর গবেষক সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক চিত্র ও কণ্ঠশিল্পী এম সবুজ সুলতান, সহসভাপতি চিত্রশিল্পী এসএম আলী আজগর রাজা, সহসভাপতি সহকারী অধ্যাপক বেলাল সানী, সহসাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধি আজগর ঝিলিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক চিত্রশিল্পী নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক মিলন বিশ্বাস তন্ময়, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারজিন আহমেদ, কার্যকরী সদস্য দ্বিজেন্দ্র লাল রায় এ সময় সাংবাদিক মধ্যে উপস্থিত, নড়াইল জেলা অনলাইন নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন মোল্যা বাঘ ডাংঙ্গা, কোষাদক্ষ বুলু দাস,মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ, নড়াইলের নড়াইল বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। 

এছাড়া প্রতিবছর ইতনায় নীহার রঞ্জন গুপ্তের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন, নীহার রঞ্জন গুপ্তের বসতভিটা ও বাড়িঘর সুরক্ষাকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত হয়। 

প্রসঙ্গত, ‘কিরীটি রায়’ চরিত্রখ্যাত জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯১১ সালের ৬ জুন নড়াইলের ইতনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত ও মায়ের নাম লবঙ্গলতা দেবী। নীহার রঞ্জন গুপ্ত গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনী লেখক হিসেবে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি চিকিৎসক হিসেবেও স্বনামধন্য। বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ‘কিরীটি রায়’ এর স্রষ্টা হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। তার পরিবার ছিল বিখ্যাত কবিরাজ বংশীয়। উইকিপিডিয়াসহ (মুক্ত বিশ্বকোষ) বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে নীহার রঞ্জন সম্পর্কে এসব তথ্য পাওয়া যায়। 

নীহার রঞ্জন গুপ্ত পেশায় চিকিৎসক হলেও মানব-মানবীর হৃদয়ের কথা তুলে ধরেছেন সুচারু ভাবে। ‘রহস্য’ উপন্যাস লেখায় ছিলেন সিদ্ধহস্ত। লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে গোয়েন্দা গল্প রচনায় আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। ভারতে এসে প্রথম গোয়েন্দা উপন্যাস ‘কালোভ্রমর’ রচনা করেন। এতে গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে ‘কিরীটি রায়’কে সংযোজন করেন, যা বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যে এক অনবদ্য সৃষ্টি। পরবর্তীতে ‘কিরীটি রায়’ চরিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে বাঙালি পাঠকমহলে। তিনি বাংলা সাহিত্যে রহস্য কাহিনী রচনার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক ছিলেন। কেবলমাত্র রহস্য উপন্যাস নয়, তার সামাজিক উপন্যাসগুলোও সুখপাঠ্য। যা পাঠক হৃদয় আকৃষ্ট করে এখনো। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি উপন্যাসকে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের উপযোগী সাহিত্য পত্রিকা ‘সবুজ সাহিত্য’ এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নীহার রঞ্জন গুপ্তের উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি। নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

নড়াইলের ইতনা গ্রামে ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্তের আপনজন কেউ নেই। পৈতৃক বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় থাকার পর ২০১৭ সালে সংস্কার করা হয়েছে। 

ইউআর/বিডি