eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২০, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
সাদুল্যাপুরে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ 
আপডেট: ০৫:৫৯ pm ০২-০৭-২০১৮
 
 


গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা শহর ও গ্রামঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ থাকলেও কৃত্রিম ক্রটি সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে গ্রাহকদের হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সাদুল্যাপুর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী ম্যানেজার (এজিএম-কাম) শামছুল হকের বিরুদ্ধে।

জুন ক্লোজিং এ সাদুল্যাপুর উপজেলায় টার্গেট অর্জন ও সিস্টেম লস কাটিয়ে উঠতে এবং গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ বিক্রয় কম দেখাতে ইচ্ছেকৃতভাবে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।এদিকে, এজিএম শামছুল হকের এমন অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। অন্যদিকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুর্ণ করছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, চাহিদা অনুযায়ী প্রাপ্ত সরবরাহ বিদ্যুৎ বিক্রয় না করে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের সাথেও প্রতারণা করছেন তিনি। এতে করে লাখ লাখ টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এছাড়া যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম-দূর্র্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিজের পকেট ভারী করছেন শামছুল হক।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অর্ন্তভূক্ত সাদুল্যাপুর উপজেলার সাব জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় অব্যহত লোডশেডিংয়ের কারণ অনুসন্ধানে খুঁজে পাওয়া যায় এমন অনিয়ম-দূর্নীতির চিত্র। অনুসন্ধানে বিদ্যুতের সাব-স্টেশনে গিয়েও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের সত্যতা মেলে। সেখানে দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মচারীও এজিএম শামছুল হকের নির্দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কথা স্বীকার করেছেন।

এমজিএম শামছুল হক খামখেয়ালীতে লোডশেডিং ভয়াবহ রুপ নেয়ায় উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহক, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্ব মহলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শামছুল হকের এমন কর্মকান্ডে খোদ বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।গ্রাহকদের অভিযোগ, অনিয়মের কৌশল বাড়িয়ে এজিএম শামছুল হক ইচ্ছেকৃত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং বাড়িয়েছেন। জুন মাসের শুরু থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মাত্রাতিরিক্তভাবে লোডশেডিং বাড়তে থাকে। ক্রমাগত লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছায়। এতে প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে দূর্ভোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তীব্র লোডশেডিংয়ে নষ্ট হচ্ছে টিভি-ফ্যান, ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স সবযন্ত্রপাতি। এছাড়া চলতি মাসে মিটার রিডিং না দেখেই মনগড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরী করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানী করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এসব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হয়েও কোন প্রতিকার মিলছেনা। উল্টো নানা কৌশলে তাদের অনিয়মের দৌরাত্ব বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

কলেজ রোড়ের জাহিদ, আসাদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘অতিতের তুলনায় লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ আকার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘনঘন লোডশেডিং চলছিলো। কিন্তু রাত ১০টার পর থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গোটা সাদুল্যাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

অভিযোগের বিষষে এজিএম শামছুল হকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি লোশেডিংয়ের বিষয়ে একেক সময় একেক কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। 

এব্যাপারে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নুরুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকায় লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই। অভিযোগ খতিয়ে দেখে এজিএম শামছুল হকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি’।

নি এম/বিজয়