eibela24.com
বুধবার, ১৪, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
নীলফামারীতে ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো
আপডেট: ০৯:২৫ pm ০৪-০৭-২০১৮
 
 


নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ও প পুকুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকা ও কানিয়ালখাতা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে যৌবনেশ্বরী নদী। এই নদীর ওপর নেই কোনও সেতু। সেতুর পরিবর্তে বাঁশের সাঁকোই এখন একমাত্র ভরসা এ নদীর পূর্ব ও পশ্চিমের দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের।

যৌবনেশ্বরী নদীর ওপর সেতু না থাকায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই খালবিলসহ এ নদীতে পানি বেড়ে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে ওই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর।

কানিয়ালখাতা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই নদীর পূর্ব পাশে প্রায় কয়েকটি গ্রামের দেড়শ’ শিক্ষার্থী বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি ভেসে যায়। এতে বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ে প্রায় দুই মাস।’
ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জয়দেব রায় বলেন, যৌবনেশ্বরী নদীতে সেতু না থাকায় বর্ষা এলে প্রায় দুই মাস বিদ্যালয়ে যেতে পারি না। এতে লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে আশানুরূপ পরীক্ষার ফলাফল হয় না।

একই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহিম বলেন, সাঁকোটি পেরিয়ে প্রতিদিন আমাদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়। তাই এখানে সেত নির্মাণ হলে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার থেকে মুক্তি পাবো।


উত্তরাশশী গ্রামের নূরল হক (৫৫) বলেন, দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছরেও যৌবনেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মাণ হয়নি। প্রয়োজনের তাগিদে এলাকাবাসী বর্ষা এলে বাঁশ, কাঠ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করে। তাই আমরা দির্ঘদীন যৌবনেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদেরর দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তাই বাঁশের সাঁকোটি একমাত্র ভরসা দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রতি বছর আমরা এই সাঁকো তৈরি করে থাকি।

উপজেলার চাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের লতিব চাপড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিন (৬০) বলেন, যৌবনেশ্বরী নদী পার হয়ে নীলফামারী জেলা শহরে যেতে হয়। এলাকাটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য জেলা শহরে বাজারজাত করতে পারে না। এতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বি ত হচ্ছে কৃষকরা।

উপজেলার প পুকুুর ইউনিয়নের উত্তরাশশী গ্রামের মজিবুর রহমান (৬০) বলেন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, জজকোর্টসহ জেলা প্রশাসন (ডিসি অফিস) সবকিছুই সেখানে। এমনকি বর্ষাকালে কলেজ শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে জেলা শহরে বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। আবার কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে রোগীকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়া যায় না।

স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতিনিধিরা তাদের দুর্ভোগ দেখেও দেখে না। ভোট আসলে ওই নদীকে পুঁজি করে ভোট চায়। তখন তারা সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটে নির্বাচিত হলে এরপর আর দেখা মেলে না।

প পুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবর রহমান বলেন, ‘যৌবনেশ্বরী নদীতে সেতু না থাকায় দূর্ভোগের সীমা নেই। সেতুটি থাকলে কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা সহজেই জেলা শহরে প্রবেশ করতে পারতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হয় বর্ষাকালে। তখন শহরে যেতে প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয় তাদের। এতে সময়ও বেশি লাগে।’

নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সদর দুই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের প্রচেষ্টায় সেতু তৈরির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।’

এম এ এম/বিডি