eibela24.com
শনিবার, ১৭, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
দেবীশক্তির পূর্ণ রূপ ‘লিঙ্গ ভৈরবীর’ মাহাত্ম্য
আপডেট: ০২:২৬ pm ১৩-০৭-২০১৮
 
 


সংস্কৃতে ‘ভৈরবী’ শব্দের অর্থ ‘ভীষণা’। তন্ত্র মতে, শিবের তীব্রতম রূপটির প্রকাশ হল ‘ভৈরব’। তাঁরই শক্তিস্বরূপা হলেন ভৈরবী। তিনি দশমহাবিদ্যার পঞ্চম শক্তি। তা ছাড়াও, তন্ত্রের বিভিন্ন পুথিতে বিভিন্ন ভৈরবীর কথা বর্ণিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৌদ্ধতন্ত্রে উল্লিখিত দেবী শক্তিরা পরবর্তী কালে হিন্দু তন্ত্রেও প্রবেশ করেন। এবং তাঁরা অনেকেই স্বতন্ত্র ভাবে পূজিতা হতে শুরু করেন।

তন্ত্রবিদ ও সাধকরা বিভিন্ন আকারে ও আকৃতিতে মাতৃকাশক্তিকে কল্পনা করেন। সেই সব কল্পনা থেকেই তৈরি হয় দেবীশক্তির ধ্যানমূর্তি। পৌত্তলিক সনাতন ধর্মে এই কল্পনা সর্বদাই সিদ্ধ। তবে ধ্যানমূর্তির শাস্ত্রসম্মত ব্যাখ্যাও আবশ্যক। নয়তো, সেই মূর্তি পূজিতা হতে পারেন না।

২০১০ সালে সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব তামিলনাডুর ভেলিয়ানগিরি পর্বতের পাদদেশে ভৈরবীর এক অভিনব মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪-এ সালে আরও একটি মন্দির নির্মিত হয় এই দেবীরূপকে পূজা করার উদ্দেশ্যেই। দুই স্থানেই এক তাম্রপট্টের উপরে দেবীযন্ত্র অঙ্কিত হয়েছে এবং তার উপরে লিঙ্গস্বরূপা দশভূজা দেবী প্রতিস্থাপিতা হয়েছেন।


দেবীর মূর্তি। ছবি: ফেসবুক

দেবী লিঙ্গস্বরূপা এবং একই সঙ্গে দশভূজা। সেদিক থেকে দেখলে তিনি শিব ও শক্তির একত্র প্রকাশ। ভৈরব ও ভৈরবী— তন্ত্রোক্ত এই দুই সত্তা এখানে একত্র। ভেবে দেখলে বোঝা যায়, এই রূপ সৃষ্টির পূর্ণতম প্রকাশ। শিবলিঙ্গে গৌরীপট্ট ভেদকারী লিঙ্গ আনন্দস্বরূপ সন্ধানে ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু লিঙ্গ ভৈরবী কল্পে মাতৃকাশক্তিই লিঙ্গশরীর ধারণ করেছেন। তন্ত্র-বর্ণিত জাগ্রত দেবীশক্তি এখানে পুরুষ রূপেই বিরাজমানা। অর্থাৎ, এই দেবীরূপ শক্তির পূর্ণ রূপকল্প। ভৈরব ও ভৈরবী এখানে অভিন্ন। 

দেবীর পূজায় ভক্তের স্বাস্থ্য, সন্তান, বিবাহ ও সম্পর্কসুখ সাধিত হয়। বছরে তিন বার দেবীর বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মহাশিবরাত্রি, নব রাত্রি ও তামিল উৎসব থাইপুসমের কালে। সদগুরুর উদ্যোগে এই মহাশিবরাত্রির ঠিক আগে ‘যক্ষ’ নামের এক শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নবরাত্রিতেও শাস্ত্রীয সঙ্গীত উৎসব হয় এবং তা চলে বিজয়া দশমীর দিন পর্যন্ত।  

নি  এম/